রাঙ্গামাটির লংগদুতে ব্রাশ ফায়ারে ৩ জন নিহত

রাঙ্গামাটির লংগদুতে ব্রাশ ফায়ারে ইউপিডিএফের ৩ কর্মী নিহত হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে ৬টায় লংগদু উপজেলাধীন হারিকাতা বেগুন ছড়া (ভাইবোন ছড়া) এলাকার গোল্লাছড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, যুদ্ধমনি চাকমা (৪০), রুপময় চাকমা(৩৪), সুমন চাকমা(৩১)। তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, এই ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছে এবং একটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা।

ইউপিডিএফ সমর্থীত পিসিবি সভাপতি বাবলু চাকমা নিহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভোর সাড়ে ৬টায় সন্তু লারমার জেএসএস সশস্ত্র গ্রুপের সন্ত্রাসীরা লংগদু উপজেলাধীন হারিকাতা বেগুন ছড়া (ভাইবোন ছড়া) এলাকার গোল্লাছড়ি এলাকায় আকস্মিক এলোপাতাড়ি ব্রাশ ফায়ার করলে ঘটনাস্থলে আমাদের ৩কর্মী নিহত হন এবং ঐ ঘরে সন্ত্রাসীরা আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় একটি বসতঘরে তাদের বেশ কয়েকজন কর্মী দলীয়কাজে গিয়ে রাতে অবস্থান করছিলো বলে জানান তিনি।

ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমা তিনজন নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, সন্তু লারমার সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র অবস্থায় গ্রামে প্রবেশ করে ব্রাশ ফায়ার চালালে এই ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় তাৎক্ষনিকভাবে তিনজন নিহত হওয়ার কথা তিনি জানতে পেরেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই ঘটনায় জেএসএস সন্ত্রাসীরা যে ঘরটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে সেটিতে বেশ কয়েকজন নারী ও শিশু ছিলো। তাদেরকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।

অপরদিকে এই ঘটনার সাথে নিজেরা জড়িত নয় বলে গনমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন জেএসএস নেতা সজীব চাকমা। তিনি দাবি করেন অর্ন্তকোন্দলেই ইউপিডিএফ এর কর্মীরা নিহত হয়েছে।

স্থানীয় ও নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানাগেছে, গোল্লাছড়ি এলাকাটি ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত। বিগত কয়েকমাসে উক্ত এলাকাটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠে জেএসএস।

এর আগেও সেখানে প্রায় সময় গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। রোববার ভোররাতে কোনো প্রকার আগাম ইঙ্গিত ছাড়াই উক্ত গ্রামে আকস্মিকভাবে প্রবেশ করে জেএসএস। এই ঘটনায় কোনো প্রকার আগাম প্রস্তুতি ছাড়াই বেকায়দায় পড়ে ইউপিডিএফ এর কর্মীরা। পরে তাদেরকে একটি ঘরের মধ্যেই ঘেরাও করে ফেলে জেএসএস এর গ্রুপটি।

এসময় উভয় পক্ষই বন্দুক যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ঘরের সামনেই গুলিবিদ্ধ হয়ে ৩ ইউপিডিএফকর্মী নিহত হয়। পরে জেএসএস সন্ত্রাসীরা উক্ত বসত ঘরটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে নিজেরা সটকে পড়ে।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে জানাগেছে, এই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে যুদ্ধমনি চাকমা, পিতা ফুলমনি চাকমা তার বাড়ি লংগদু উপজেলার বড় কাট্টলীর বেগুন ছড়া এলাকায়। নিহত রুপমনি চাকমার বাড়ি ঘটনাস্থল বড় গাবতলী এলকার গোল্লাছড়িতে তার পিতার নাম রুস্তম চাকমা অপর নিহত সুমন চাকমা এর পিতার নাম- নরায়ন চাকমা। বাড়ি নানিয়ারচর উপজেলাধীন সাবেক্ষ্যং ইউনিয়নের করল্যাছড়ি গ্রামে।

You Might Also Like