ট্রাইব্যুনালে সাজা খাটলেন জাফরুল্লাহ, ‘জরিমানা দেবেন না’

ব্রিটিশ নাগরিক ডেভিড বার্গম্যানকে ট্রাইব্যুনালের জরিমানার রায়ের বিষয়ে উদ্বেগ উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়ায় আদালত অবমাননার অভিযোগে এক ঘণ্টা সাজা ভোগ করলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

আজ (বুধবার) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে আদালতের কাঠগড়ায় উঠে টানা এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে এ সাজা খাটেন তিনি। বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ডেভিড বার্গম্যানকে এ শাস্তি দেয়ার পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানাও করেন। জরিমানার টাকা ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বরাবর আগামী সাতদিনের মধ্যে ডা. জাফরুল্লাহকে পরিশোধ করতে আদেশে বলা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে একমাসের কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে তাকে। এছাড়া, এই অভিযোগে অন্য ২২ জনকে সতর্ক করে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হয়ে ডা. জাফরুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি জরিমানার টাকা পরিশোধ করবেন না। ট্রাইব্যুনালের এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তিনি।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, এ আদেশ তিন বিচারপতির অসুস্থ মানসিকতার প্রকাশ। বিচারপতিরা সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না। যেখানে তারা সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না, সেখানে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় না।

ব্লগে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ লেখার মাধ্যমে বিচারাধীন বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানকে গত বছরের ২ ডিসেম্বর সাজা দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করে ৫০ জন বিশিষ্ট নাগরিক একটি বিবৃতি দেন। ওই বিবৃতি ‘বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রতি কটাক্ষ’ মনে হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল বিবৃতিদাতাদের আচরণের ব্যাখ্যা চায়।

৫০ বিবৃতিদাতার মধ্যে ২৬ জন নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান। আর একজন আগেই বিবৃতি থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন।

বাকি ২৩ জনের বিরুদ্ধে গত ১ এপ্রিল অবমাননার রুল জারি করে ট্রাইব্যুনাল-২। ১৪ মে ওই ২৩ জনের দেওয়া জবাবের ওপর শুনানি করে আদালত রায়ের দিন ঠিক করে দেন।

রুলের শুনানিতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বাদে বাকি ২২ জন প্রথমবারের মতো এ ধরনের অবমাননা করার কারণে তাদেরকে নিঃশর্ত ক্ষমা করে রুলের নিষ্পত্তি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছেন পরবর্তীতে তাদের কোনো মন্তব্য ও বিবৃতির কারণে ট্রাইব্যুনালের যেন মর্যাদা ক্ষুণ্ন না হয়।

ক্ষমা পাওয়া ২২ জন হলেন- মাসুদ খান, সাংবাদিক ও লেখক আফসান চৌধুরী, অধিকারকর্মী হানা শামস আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মোহাম্মাদ, সঙ্গীতশিল্পী আনুশেহ আনাদিল, সংস্কৃতিকর্মী লুবনা মারিয়াম, অধিকারকর্মী মুক্তাশ্রী চাকমা সাথী, অ্যাডভোকেট এ এ জিয়াউর রহমান, নারী অধিকারকর্মী শিরিন হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ড. সি আর আবরার, নারী গ্রন্থ প্রবর্তনার নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আক্তার, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. বিনা ডি কস্টা, নৃ-বিজ্ঞান গবেষক রেহনুমা আহমেদ, আলোকচিত্রী ড. শহীদুল আলম, সংস্কৃতিকর্মী লিসা গাজী, ড. জরিনা নাহার কবির, আলাল ও দুলাল ব্লগের সম্পাদক তীব্রা আলী, লেখক শবনম নাদিয়া, লেখক মাহমুদ রহমান, নৃ-বিজ্ঞানী দেলোয়ার হোসেন, আলী আহম্মেদ জিয়াউদ্দিন ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নাসরিন সিরাজ এ্যানি।

You Might Also Like