দেহের জীবন্ত অঙ্গ তৈরি!

প্রথমবারের মতো শরীরের জীবন্ত অঙ্গ তৈরি করতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। একটি জীবন্ত কোষ থেকে তৈরি করেছেন ইঁদুরের সামনের একটি পা। বোস্টনের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের ল্যাবে এই অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটিয়েছেন বিজ্ঞানী হারাল্ড অট ও তার সহযোগীরা।

দেহের জীবন্ত অঙ্গ গবেষণাগারে তৈরি করতে পারার এই ঘটনা বিজ্ঞানের চরম সাফল্য। ল্যাবে তৈরি এই পা-টিতে স্নায়ুবিক সাড়াও মিলছে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। এই পা যেকোনো ইঁদুরের শরীরে লাগিয়ে দিলে তা সাধারণ পায়ের মতোই কাজ করবে।

এর অর্থ হচ্ছে, ভবিষ্যতে অঙ্গহানি মানুষদের হয়তো আর কাটা হাত-পা নিয়ে জীবনযাপন করা লাগবে না। কেননা বিজ্ঞানীদের এই গবেষণার উদ্দেশ্য, ভবিষ্যতে অঙ্গহীন মানুষের দেহে জীবন্ত অঙ্গ স্থাপন করা।

বিজ্ঞানীরা অবশ্য জানিয়েছেন যে, লক্ষ্যের থেকে তারা এখনো অনেকটা দূরে। এই হাত কী করে পুরো দমে কার্যকরী হবে সেই মূল চ্যালেঞ্জ এখনো বাকি। কেননা মানুষের মতো যেকোনো মেরুদন্ডী ও স্তন্যপায়ী যেকোনো প্রাণীর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ব্রেনের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়, পরিচালিত হয়। সেক্ষেত্রে ল্যাবে তৈরি ইঁদুরের সামনের পা টি পরবর্তীকালে ব্রেনের নির্দেশে কীভাবে পুরোদমে কাজ করবে, সে নিয়ে এখনো অনেকটা কাজ বাকি এবং এটিই বিজ্ঞানীদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এর আগে জীবন্ত হাত বা পা ল্যাবে তৈরি করা হয়নি। হাত ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়েছে যাকে বাওনিক রিপ্লেসমেন্ট বলে। তাতে জীবন্ত হাত-পায়ের মতোই অনুভূতি থাকে, কিন্তু সারাজীবন ওষুধ চালিয়ে যেতে হয় যাতে দেহের নিউরোলজি ও মোটর সিস্টেম হাতটিকে বাতিল না করে দেয়। কিন্তু এবার ল্যাবে যে জীবন্ত হাত তৈরি করা হয়েছে, তা তৈরি হয়েছে কোনো জীবন্ত প্রাণীর কোশ থেকে। বিজ্ঞানী হারাল্ড অট বলেন, এত জটিল টিশু এর আগে ল্যাবে তৈরি হয়েছে বলে তার অন্তত জানা নেই।

বর্তমানে সারা পৃথিবীতে অনেক মানুষ অঙ্গহীন যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছেন। ফলে এই খবরে অনেকেরই আশা, আগামী দিনে মানুষ অঙ্গহীনতার যন্ত্রণা থেকে হয়তো মুক্তি পাবে।

You Might Also Like