মোশাররফকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ, নিন্দা বিএনপি’র

মুদ্রা পাচার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আটকের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে ড. মোশাররফকে রমনা থানা থেকে সেগুন বাগিচার দুদক কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করছেন দুদক উপ-পরিচালক আহসান আলী। দুদক সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজই তাকে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে নেয়া হবে। আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোশাররফের রিমান্ড চাওয়া হতে পারে বলেও সূত্র জানায়।

এদিকে ড. খন্দকার মোশাররফকে আটকের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এ ঘটনা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকার বিরোধী দলকে ধ্বংসের উদ্দেশ্যে ধারাবাহিকভাবে চক্রান্তের জাল বুনে যাচ্ছে। মিথ্যা মামলায় বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে গ্রেফতার সেই চক্রান্তেরই অংশ বলে উল্লেখ করে তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকার দেশ পরিচালনায় জনস্বার্থকে তুচ্ছ জ্ঞান করে ক্রসফায়ারে হত্যা, গুম, অপহরণ, মিথ্যা মামলা দায়ের এবং পাইকারি হারে গ্রেফতারের উপর ভর করার কারণে সারাদেশে এখন এক ভয়ংকর আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বেগম জিয়া বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জোর জবরদখলকারী বর্তমান গণবিচ্ছিন্ন সরকার তাদের বেসামাল অবস্থাকে সন্ত্রাসী কায়দায় সামাল দিতে আরো বেশি বেসামাল হয়ে পড়েছে।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মতো একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে অশুভ পরিণতির দিকেই নিয়ে যাচ্ছে বলে বেগম জিয়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী শাসনামলগুলোতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ কখনোই নিরাপদ থাকেনি, এখন তার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে ফেলা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ভাবছে বিরোধী নেতা-কর্মীদের কারাগারে অন্তরীণ রাখতে পারলেই আন্দোলন সংগ্রাম স্তব্ধ হয়ে যাবে। এ ভ্রান্ত ধারণা এবং অলীক স্বপ্নই আওয়ামী লীগের জন্য একদিন কাল হবে।
এছাড়া দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ গ্রেফতারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। েএ মুহূর্তেই তাকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানান তারা।

উল্লেখ্য, ২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন ও বিদেশে মুদ্রা পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়। বুধবার রাতে এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রাত ১০টা ২৫ মিনিটে গুলশান-২ এর ৫৫ নম্বর রোডের ২৯ নম্বর নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে গুলশান থানায় নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে রমনা থানায় আনা হয়।

 

You Might Also Like