জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল

অবশেষে নির্বাচন কমিশন (নিক) জানিয়েছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। আজ সোমবার জাতীয় সংসদকে এ তথ্য দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ২০১৩ সালে হাইকোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করলেও এ ব্যাপারে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রদানকারী সংস্থা নির্বাচন কমিশন নিজের কোনো বক্তব্য দেয়নি। জাতীয় সংসদকে এ তথ্য জানানোর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ওই রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি পরিষ্কার করে জানাল নির্বাচন কমিশন।
আজ সোমবার সংসদ সচিবালয়কে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. আতিয়ার রহমানের পাঠানো এক তথ্য বিবরণী থেকে বিষয়টি জানা গেছে। কমিশন জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ থেকে এক প্রশ্ন উত্তর পর্বের জন্য জামায়াতে নিবন্ধন বাতিল কি না তা জানাতে বলা হয়। তারই অংশ হিসেবে সোমবার ব্যাখাটি সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হয়।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯ সালে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব মাওলানা সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ ২৫ ব্যক্তি জামায়াতের নিবন্ধন নিয়ে এক রিট পিটিশন দায়ের করেন। কয়েক দফা শুনানির পর হাইকোর্ট ২০১৩ সালের ১ আগস্টে এক রায়ে জামায়াতকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন প্রদানকে আইন বহির্ভূত ও অকার্যকর ঘোষণা করায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নামের রাজনৈতিক দলটির নিবন্ধন বাতিল হয়।
তবে দলটির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে কি না তা নিয়ে গত রোববার পর্যন্তও কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি নিক। কমিশন থেকে কেবল বারবার বলা হয়েছে, দলটির নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। তবে শেষ পর্যন্ত দলটির বিষয়ে ব্যাখ্যা স্পষ্ট করল নির্বাচন কমিশন।
নিক সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের জন্য কোনো গেজেট প্রকাশের দরকার নেই। অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশেই দলটির নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। তবে হাইকোর্টের দেওয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে দলটি। এতে ‍তারা জয়ী হলে আবার নিবন্ধন দেওয়া হবে।’
বর্তমান নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৪০টি।

You Might Also Like