দেশ এখন স্বৈরাচার ও বাটপারের দখলে

প্রায় ২ বছর আগে পঞ্চোদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করার পর থেকেই বি,এন,পি’র নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট আওয়ামী লীগ দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখে তার দলীয় সরকারের অধীনে ১০ম সংসদ নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য হবেনা মনে করে পঞ্চোদশ সংশোধনী বাতিল তথা নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি সব দলের জন্য একটা সমান সুযোগ সৃষ্টি ও পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুন:বহালের অর্থাৎ একটা নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের দাবীতে অন্দোলন শুরু করেছিল। শেখ হাসিনা ও তার সরকারের লোকজন ( তাদের এই একতরফা ও বিতর্কিত কর্মকান্ডকে যথার্থ প্রমান করার জন্য) এর জবাবে সব সময়েই বলে আসছে হাই কোর্টের রায়ের বাধ্যবাধকতার জন্যই তারা তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে সংবিধান সংশোধন করেছে। অথচ (অভিযোগ আছে যে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বারা প্রভাবিত ও পুরস্কৃত হয়ে সাবেক বিচারপতি খায়রুল হক এই রায় দিলেও বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থা ও নির্বাচনকালীন সময়ে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর একের উপর আর এক দলের বিশ্বাস ও আস্থা না থাকার কারণে প্রতি ৫ বছর পর পর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা ও অরাজকতা সৃষ্টি হয় তা মাথায় বা বিবেচনায় রেখে তার রায়ের ২য় অংশে বাংলাদেশে আরো ২টা ( দশম ও একাদশ) সংসদ নির্বাচন (কয়েকটা সংশোধনী এনে) আগের তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার অধীনে করা যেতে পারে এবং তা সংসদ সিদ্ধান্ত নিবে বলে তার রায়ে উল্লেখ করেছিলেন । কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার সংসদে তাদের বিপুল সংখ্যাগড়িষ্ঠতার জোড়ে রায়ের ২য় অংশের কথা উদ্দেশ্যমূলকভাবে পাশ কাটিয়ে রায়ের প্রথম অংশ অনুসরন করে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বহাল রেখে তার দলীয় সরকারের অধীনে (আবারও ক্ষমতায় আসার উদ্দেশ্যে) নির্বাচন করার লক্ষ্যে দশম সংসদ নির্বাচনের প্রায় ২ বছর আগেই সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকেই বাতিল করে দিয়ে পঞ্চোদশ সংশোধনী পাশ করে নেয়। শেখ হাসিনা ও তার দোষররা সব সময়েই বলে যে রায়ের ২য় অংশের ব্যাপারে রায়ে বলা হয়েছিল সংসদ মনে করলে, অতএব সংসদ তা মনে করেনি বলে ( স্বৈরাচারী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ) তা বিবেচনা করা হয়নি, অর্থাৎ তাদের ভাষায় রায়ের যে অংশ বাস্তবায়ন করলে পুনরায় ক্ষমতায় আসার সুবিধার্থে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করা যাবে সংসদ তাই বিবেচনা করেছে। কিন্তু দেশ ও জনগনের নিরাপত্তা ও বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে রায়ের ২য় অংশ সংসদের বিবেচনায় আনা যে অধিক জরুরী ছিল ( যার দাবীতে বিগত ১ বছরের আন্দোলন ও সহিংসতা তারই প্রমান ) তারা সেটা করেনি। অথচ বিচারপতি খায়রুল হকের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে “গনতন্ত্রের মূল চেতনা”র পরিপন্থি ও সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করা হলেও তাৎক্ষনিকভাবে সংসদ কর্তৃক সংবিধানে সংশোধনী এনে তা বাতিল করার কোন আদেশ বা নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এটা একটা রাজনৈতিক বিষয়, ১৯৯৬ সালে সকল দলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে দেশের সব দলের কাছে গ্রহনযোগ্য একটা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য (মূলত তখনকার প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবেনা বলে এবং খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী রেখে তার অধীনে নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তনের দাবীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রবল আন্দোলনের কারণে) সংসদে তখন (১৫ই ফেব্র“য়ারীর নির্বাচনের পর ) তত্ত্বাবধায়ক বিল পাশ করে তাকে সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল। তখন ঐ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কেউ রীট করেনি বা কোন বিচারপতি একে “গনতন্ত্রের মূল চেতনা”র পরিপন্থি ও সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক বলে বিরোধিতাও করেনি। ঐ ব্যবস্থার অধীনেই পরবর্তিতে দেশে পর পর ৩টা ( ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে ) সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ছোট-খাটো (উল্লেখ না করার মত)  কিছু ভুল-ত্র“টি ছাড়া ঐ ৩টা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন হিসেবেই দেশে ও বিদেশে সবার কাছে গ্রহনযোগ্য হয়েছিল। উল্লেখ্য, ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের ২০০৬-২০০৮ পর্যন্ত ২ বছর মেয়াদের সরকারকে শেখ হাসিনার দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় কলংক বা খারাপ উদাহরন হিসেবে বার বার উল্লেখ করলেও সেই সরকারের অধীনে নির্বাচন করেই ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসেছিল এবং সেই নির্বাচনকে তারা সবচেয়ে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন বলে দাবী করে আসছে। এটা কি স্ববিরোধীতা নয় ? আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর পরাজয়কে স্বাভাবিকভাবে মেনে না নেওয়ার অগনতান্ত্রিক মানষিকতার কারণে ঐ ৩টা নির্বাচনে যে দল পরাজিত হয়েছিল তারা সব কয়টা নির্বাচনের পরেই তাতে কারচুপি হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিল। কিন্তু কারচুপির অভিযোগ জোরালো ছিলনা বলে নির্বাচনের রায়কে প্রত্যাখ্যান করে পরাজিত কোন দলই পরবর্তিতে নির্বাচন বাতিলের দাবীতে আন্দোলন না করে বরং নির্বাচনের রায়কে শেষ পর্যন্ত মেনে নিয়েছিল। উল্লেখিত ৩টা নির্বাচনের মাধ্যমে দলীয় ( ক্ষমতাসীন ) সরকারের অধীনে নির্বাচনের চেয়ে একটা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা জনগন ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে বেশী গ্রহনযোগ্য, অবাধ ও সুষ্ঠু হয় বলেই প্রমানিত হয়েছিল। গনতান্ত্রিক ধারাকে প্রশ্নহীন ও বাধাহীনভাবে চলমান রাখার প্রয়োজনে বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটা আন্তর্জাতিকভাবেও একটা মডেল হিসেবে প্রশংসিত ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল, বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশই নিজ নিজ দেশে তা অনুসরন করতে শুরু করেছিল। বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য উক্ত তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাটা একটা মিমাংশিত ও পরীক্ষিত বিষয় হিসেবেই সবার কাছে গ্রহনযোগ্য হয়ে উঠেছিল। তবে পৃথিবীতে কোন আবিস্কার বা সৃষ্টিই আজীবন একইভাবে নির্ভুল বা একই বৈশিষ্ট্যতে স্বকীয়তা নিয়ে টিকে থাকতে পারেনা। যে কারণে যুগের প্রয়োজনে, সময়ের দাবীতে বা ব্যবহার করতে করতে একটা বস্তু বা বিষয়ের মধ্যে যেসব ভুল-ত্র“টি ধরা পড়ে তাকে সংশোধন করেই সময়ের ধারাবাহিকতায় প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন করে সব কিছুর নতুন নতুন সংস্করন ও উন্নয়ন সাধন করা হয়। উল্লেখিত তিনটা সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাতেও যেসব ভুল-ত্র“টি বা অনিয়ম বা কারচুপি করার যেসব ফাঁক-ফোঁকর ধরা পড়েছিল বর্তমান শেখ হাসিনা সরকারের উচিত ও প্রত্যাশিত কাজ ছিল ১৯৯৬ সালের মত সব রাজনৈতিক দলগুলোর ( এমনকি দেশের জ্ঞানী-গুনি সুশীল সমাজের লোকজনসহ ) সাথে আলাপ-আলোচনা করে এই ব্যবস্থাটাকে ত্র“টিহীন ও অরো গ্রহযোগ্য করার উদ্যোগ নেওয়া। এ ব্যাপারে মতামত বা সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য যে সংসদীয় কমিটি করা হয়েছিল তাতে বলতে গেলে ৯৫% লোক বা সংগঠনই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার কিছু সংস্কার করে তা বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছিল, অভিযোগ করা হয় বি,এন,পি ঐ কমিটিতে গিয়ে তাদের মতামত দেয়নি, কিন্তু তাতে কি ? বি,এন,পি গেলে কি তাদের মতামত গ্রহন করা হত ? এটা কেবল একটা ব্লেম গেইম ! খোদ আওয়ামী লীগইতো দল হিসেবে কমিটির কাছে তত্ত্বাবধায়কের পক্ষে মত দিয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ইচ্ছাকেই প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, বিচারপতি খায়রুল হকের রায়ের “গনতন্ত্রের মূল চেতনার পরিপন্থি ও সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক” বাক্যটাকে নিজেদের হীন ও দলীয় স্বার্থে কাজে লাগিয়ে সবার মতামতকে উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা সরকার সংসদে সংখ্যাগড়িষ্ঠতার জোরে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাটাকেই সমূলে উৎখাত করে দিয়েছে। আর ঠিক তখন থেকেই সংগত কারণে ( দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন অবাধ, কারচুপিহীন, প্রভাবমুক্ত, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য হয়না বলে )  বি,এন,পি’র নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট ( মূলত দেশের প্রধান ও বৃহত্তম বিরোধী দল বি,এন,পি ) শেখ হাসিনা সরকারের এই একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবং তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুন:বহালের অর্থাৎ একটা নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের দাবীতে অন্দোলন শুরু করে।

এ দাবীর পক্ষে আন্দোলনের প্রথম দিকে বি,এন,পি জোট মানব বন্ধন, পথসভা, মিটিং-মিছিল, রোর্ড-মার্চ, দেশের বিভিন্নস্থানে জনসভা, বিক্ষোভ মিছিল ইত্যাদি অহিংস কর্মসূচি এবং টেলিভিশনের টক-শো ও বিভিন্ন সেমিনার গোল-টেবিল আলোচনার মাধ্যমে তাদের দাবীর পক্ষে জনমত সংগঠিত করার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল, যার ফলে একটা নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের পক্ষে তারা ব্যাপক জনমত গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন নামকরা ও নির্ভরযোগ্য পত্র-পত্রিকা ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট জনমত জরীপকারী প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার বিভিন্ন জরীপে বিরোধী জোটের এ দাবীর পক্ষে দেশের ৮০ – ৯০ ভাগ লোকের সমর্থন আছে বলে মতামত প্রকাশ পায়। এর ফলে বিরোধী জোটের আত্মবিশ্বাস আরো বেড়ে যায় এবং তারা তাদের দাবী মেনে নিতে আলোচনায় বসার জন্য সরকারের উপর চাপ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে তাদের অহিংস আন্দোলনের তীব্রতা আরো বাড়িয়ে দেয়, এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালের ৪ঠা মে বি,এন,পি জোট ঢাকার শাপলা চত্তরে মহাসমাবেশের ডাক দেয়। হাসিনা সরকার সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ার পরেও ঐদিনের মহাসমাবেশে লাখ লাখ লোকের সমাগম হয়েছিল। বি,এন,পি জোটের ঐ মহাসমাবেশেও কোন সহিংসতা হয়নি। ঐ সমাবেশ থেকে বি,এন,পি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাদের দাবী নিয়ে আলোচনায় বসতে সরকারকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। কিন্তু হাসিনা সরকার তার ঐ ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটামকে অযুহাত হিসেবে দাড় করিয়ে বিরোধী জোট তথা বিরোধী নেত্রীকে আলোচনার পথ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য দায়ী করতে থাকে।

এর মধ্যে হাসিনা সরকার কর্তৃক ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ৪২ বছর পর গঠিত বিতর্কিত যুদ্ধাপরাধ বিচার ট্রাইবুনালের মাধ্যমে হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ( যেহেতু জামায়াত বি,এন,পি’র সাথে জোট করেছে ) জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের একে একে বিচার ও সাজা দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়। তাদের কাছে সংগত কারণেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও দলের অস্তিত্বের উপর আঘাত আসায় জামায়াত ও ছাত্র শিবির ঐ বিতর্কিত বিচার বন্ধ ও তাদের নেতাদের মুক্তির দাবীতে  আন্দোলন শুরু করে। কিন্তু সরকার তথা সরকারের পুলিশ বাহিনী বিচার শুরু হওয়ার প্রথম থেকেই জামায়াত-শিবিরের উপর কঠোর অবস্থান নেয়, জামায়াত শিবিরকে মিটিং-মিছিল করতে, মানব বন্ধন করতে এমনকি রাস্তায় নামতে বা দাড়াতেই দেয়নি। পুলিশ লাঠি-চার্জ করে, কাাঁদানে গ্যাস ছুড়ে, জল কামান দিয়ে গরম পানি ছিটিয়ে, সাউন্ড-গ্র্যানেড ফাটিয়ে , রাবার বুলেট এমনকি ফ্রি-স্টাইলে সরাসরি গুলি করে জামায়াত শিবিরের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস কায়েম  করে। যার ফলে জামায়াত শিবিরও বাধ্য হয়ে অহিংস আন্দোলনের পথ ছেড়ে রাস্তায় সহিংস আন্দোলন শুরু করে, প্রধানত পুলিশকে আক্রমন এবং যানবাহন ভাংচুর ও অগ্নি-সংযোগই তাদের আন্দোলনের টার্গেটে পরিনত হয়। এর ফলে ঢাকা শহরসহ সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত এই সহিংসতা ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।  আন্দোলন দমনের জন্য  জামায়াত শিবিরের বিরুদ্ধে সারা দেশে পুলিশ ও র‌্যাবের সর্বাত্মক ও সাড়াশি অভিযানে শত শত জামায়াত শিবির কর্মী ও সাধারন মানুষ মারা যায়, এতে পুলিশসহ আইণ-শৃংখলা বাহিনীর বেশ কিছু সংখ্যক সদস্যও নিহত ও আহত হয়। উল্লেখ্য, পাকিস্তান আমল থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪২ বছরের মধ্যে কখনও পুলিশকে এভাবে টার্গেট বা আন্দোলনের শিকার হতে দেখা যায়নি, এর কারণ কেউ অনুসন্ধান বা উল্লেখ না করে কেবল ঢালাওভাবে অভিযোগ করা হয় জামায়াত-শিবির তথা বিরোধী দল এবার পুলিশকে আক্রমন করছে ও নৃশংসভাবে হত্যা করছে। কিন্তু পুলিশ যে এবার পুলিশের চরিত্র হারিয়ে ফেলেছে তা কেউ দেখেও দেখেনা। আগে বিরোধী দল রাস্তায় মিছিল করতে পারত, পুলিশ কোন নির্দিষ্ট জায়গায় তারকাটার বেরিক্যাড দিয়ে দাড়িয়ে থাকত, মিছিলকে সেখানে বাধা দিত আর এগুতে দিতনা। যদি মিছিলকারীরা বেরিক্যাড ভাঙ্গার চেষ্টা করত তখন পুলিশের সাথে ধাক্কধাক্কি বা সংঘর্ষ বাঁধত, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলত, মিছিলকারীরা পুলিশের উপর ঢিল ছুরত, পুলিশ তখন প্রয়োজনে লাঠি-চার্জ করত, গ্রেফতার করত, সব শেষে টিয়ার গ্যাস ছুরে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দিত, এই ছিল স্বাভাবিক পুলিশী এ্যাকশান, খুব বড় ধরনের গোলমাল না হলে পুলিশ কখনও গুলি করতনা। যে কারণে তখন রাস্তায় দলীয় শীর্ষ নেতাদেরকেও মিছিল বা আন্দোলনে শরীক হতে দেখা যেত।  কিন্তু এবার শেখ হাসিনার বিগত ৫ বছরের শাসনামলে ব্যাপক দলীয়করনের কারণে পুলিশের চরিত্র সম্পূর্ন বদলে গেছে, পুলিশ বিরোধী দলকে রাস্তায় শান্তিপূর্ন কর্মসূচীও পালন করতে দেয়নি, মিছিল করার চেষ্টা করলেই তা ছত্রভঙ্গ করার জন্য লাঠি-চার্জের চেয়ে প্রথমেই টিয়ার গ্যাসের পাশাপাশি সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট বেশী ব্যবহার করেছে, এমনকি তেল-গ্যাস রক্ষার জাতীয় কমিটি ও শিক্ষকদের শান্তিপূন মিছিলের উপরও গরম পানির জল কামান ও মরিচের গুড়া নিক্ষেপ করেছে। সর্বোপরি মিছিলকারী বা আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশ এবার বেপরোয়াভাবে ও নির্বিচারে সরাসরি গুলিবর্ষন করেছে, গুলি করার কোন নিয়মনীতিই পুলিশ-র‌্যাব এবার অনুসরন করছেনা, ফলে পুলিশ-র‌্যাব বিজিবির গুলিতে হতাহতের সংখ্যা এবার সবচেয়ে বেশী হয়েছে, সংঘর্ষের সময় পুলিশের হাতে কেউ ধরা পড়লে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের গাড়িতে তোলার পরিবর্তে বা আগে পশুকে যেভাবে পেটানো হয় সেভাবে লাঠি ও রাইফেলের বাট দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়, এমনকি ধরে আনার পর কাউকে কাছে থেকে রাইফেলের নল সরাসরি বুকে তাক করে বা লাগিয়ে গুলি করা হচ্ছে, থানায় নিয়ে অত্যাচারের লোমহর্ষক সচিত্র প্রতিবেদনতো মাঝে-মধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। সরকারী সশস্ত্র বাহিনীর এমন নৃশংসতার কারণে এবার দেশী বিদেশী মানবাধিকার সংস্থা ও গনমাধ্যমে বাংলাদেশের পুলিশ ও র‌্যাবের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ ও সমালোচনা হয়েছে, এখনও হচ্ছে। যে কারণে এবার হাসিনা সরকারের আমলে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা রাস্তায় নামতে সাহস পায়নি। অথচ সরকারী মহল সব সময়েই উল্টো ঠাট্টা বা সমালোচনা করছে যে আন্দোলনের ডাক দিয়ে বিরোধী দলের নেতারা রাস্তায় নামেনা, আত্মগোপন করে থাকে। বিরোধী দলের আন্দোলন ঠেকাতে সরকারী সশস্ত্র বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের এমন মারমুখী হিংস্র আচরন বা এ্যাকশান এ দেশের মানুষ আর কখনও দেখেনি, যার ফলে এবারই প্রথম সরকারী বাহিনী বিশেষ করে পুলিশ আন্দোলনকারীদের হামলা বা আক্রমনের শিকারে পরিনত হয়েছে। অপরদিকে জামায়াত যেহেতু বি,এন,পি’র নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটেরও শরীক দল, সেহেতু নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে বি,এন,পি জোট যখনই কোন হরতাল বা আন্দোলনের ডাক দেয় হাসিনা সরকার সুকৌশলে এটাকে কথিত যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল করার আন্দোলন বলে প্রচারনা চালাতে থাকে, দেশের মানুষের কাছে বিরোধী দলের প্রকৃত দাবীর আন্দোলনকে যুদ্ধাপরাধ নামক একটা শব্দ বার বার উচ্চারন করে ভিন্নভাবে পরিচিত করার প্রয়াস চালায়।

যুদ্ধাপরাধের বিচার সংক্রান্ত কথিত ট্রাইবুনাল যখন জামায়াত নেতা আব্দুল কাদেরের রায় ঘোষণা করে তখন হাসিনা সরকারের মদদ ও পৃষ্টপোষকতায় আব্দুল কাদেরের ফাঁসির দাবীতে ঢাকার শাহবাগ মোড়ে একদল বামপন্থি ও ইসলাম-বিদ্বেষী তরুন-তরুনী কথিত গনজাগরন মঞ্চ তৈরী করে আন্দোলন শুরু করে। ঐ আন্দোলনের নেতৃত্বে যারা ছিল তাদের কয়েকজনের নামে ফেসবুকে ও ইন্টরনেটে মহানবী দ: ও ইসলাম সম্বন্ধে সমালোচনা ও কটুক্তি প্রকাশ করা হয়। একে কেন্দ্র করে সারা দেশে কউমী মাদ্রাসার আলেমদের সংগঠন হেফাজতে ইসলাম তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে মাঠে নেমে আসে, তাদের সাধে যুক্ত হয় দেশের আরো ইসলামী ও আলেম-ওলামা সংগঠন, এরই ধারাবাহিকতায় হাসিনা সরকারের পৃষ্টপোষকতায় যারা ইসলাম ও রসুলের অবমাননা করার জন্য মাঠে নেমেছে তাদের তথা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অংশ হিসেবে হেফাজতে ইসলাম ২০১৩ সালের ৪ এপ্রিল ঢাকার শাপলা চত্তরে সমাবেশের ডাক দেয়। বি,এন,পি জোট, এরশাদের জাতীয় পার্টি ও আরো অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও দেশের ধর্মপ্রান মুসলমানরা হেফাজতের এ সমাবেশের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা প্রকাশ করায় ৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশ্ব ইস্তেমার পর লাখ লাখ মানুষের এত বড় জমায়েত আর হয় নাই। উল্লেখ্য, হেফাজতে ইসলামের এত বড় লাখ লাখ লোকের সমাবেশেও ঐ দিন কোন সহিংস ঘটনা ঘটেনি ( কেবল সমাবেশস্থলে আলেম-ওলমাদের সামনে পুরুষের পোষাক পরিহিত খোলামেলা কয়েকজন নারী সাংবাদিকের নাজেহালের ঘটনা ছাড়া )। হেফাজতে ইসলাম তাদের মহাসমাবেশ থেকে ইসলাম ও রসুলের অবমাননাকারীদের বিচার এবং তাদের ১৩-দফা দাবী পূরনের জন্য আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়। তারা এক মাস পর ৫ই মে সারা দেশ থেকে ঢাকার ৬টা  প্রবেশ মূখে অবস্থান নিয়ে ঢাকা অবরোধেরও পরবর্তি কর্মসূচি ঘোষণা করে। হাসিনা সরকার এই সমাবেশ দেখে ভীত হয়ে তার সরকারের লোকজন ও তার দালাল গোষ্টি বিরোধী জোটের মূল দাবীকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে বলতে শুরু করল বি,এন,পি ও জামায়াত হেফাজতে ইসলামকে সাথে নিয়ে এই দেশে মৌলবাদের উত্থান ঘটানোর পায়তারা শুরু করেছে। অথচ পরবর্তিতে হাসিনা সরকারকেও হেফাজতে ইসলামের সাথে আতাত করার ব্যর্থ প্রয়াস চালাতে দেখা গেছে। হেফাজতে ইসলাম ৫ই মে তাদের পূর্বঘোষিত ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি পালনকালে সরকার সারা দেশে যানবাহন তথা পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়ে এবং সরকারী আইণ-শৃংখলা বাহিনীর ও সরকার দলীয় লোকজন বিভিন্ন জায়গায় হেফাজতের নেতা-কর্মীদেরকে ঢাকার দিকে আসার পথে বাধার সৃষ্টি করেছে। তা সত্তেও ঢাকার ৬টা প্রবেশ মূখে ঐ দিন সকালেই হেফাজতের হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক এসে জড়ো হয়েছিল। তারা ৬টা জায়গায় অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্নভাবে তাদের অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে ঐদিনই তারা ঢাকার শাপলা চত্তরে আবারও সমাবেশের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানালে সরকার তাদেরকে অনুমতি দেয়। অনুমতি পেয়ে হেফাজত কর্মীরা ঢাকায় প্রবেশ করার সময় বিভিন্ন জায়গায় আইণ-শৃংখলাবাহিনীর ও সরকারী দলের রাজনৈতিক ক্যাডাররা তাদেরকে বাধা দেয় এবং তাদের উপর হামলা চালায়, গুলিস্তানের কাছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনের রাস্তা অতিক্রম করার সময় এবং কাকরাইল ও পল্টন দিয়ে শাপলা চত্তরের দিকে যাওয়ার সময় আইণ-শৃংখলাবাহিনীর ও সরকারী দলের রাজনৈতিক ক্যাডাররা হেফাজত কর্মী-সমর্থকদের বাধা দেয় এবং তাদের উপর মারাত্মকভাবে আক্রমন চালায়। যার ফলে ঐদিন ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সহিংস ঘটনার সূত্রপাত হয়, আইণ-শৃংখলাবাহিনীর ও সরকারী দলের রাজনৈতিক ক্যাডারাই পরিবল্পিতভাবে সহিংসতার উস্কানী দেয়। এই সুযোগে স্বার্থান্বেষী মহলের লোকজন রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে ব্যাপক ধ্বংশযজ্ঞ চালায়। পরবর্তিতে হাসিনা সরকার এজন্য বি,এন,পি জামায়াত জোটকে দায়ী করে। অথচ ঐদিন ঐ সময়েও হেফাজতে ইসলাম শান্তিপূর্নভাবে শাপলা চত্তরে তাদের সমাবেশ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছিল। এর পরের ঘটনা সবারই জানা। ৬ ই মে রাতের শাপলা চত্তরের ঘটনায় সরকারের জনপ্রিয়তায় আরো ব্যাপক ধ্বস নেমে আসে। এরই প্রভাব পড়ে ১৫ জুন দেশের ৪টা প্রধান সিটি করপোরেশন নির্বাচনে, এর কিছুদিন পর গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়, এই এলাকা আওয়ামী লীগের ঘাটি হিসেবে পরিচিত হওয়ার পরেও ঐ নির্বাচনে সরকারী দলের পার্থী বিরোধী জোটের প্রার্থীর কাছে প্রায় ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়।

এই ৫ টা নির্বাচনে পরাজয়ের পর হাসিনা সরকার নিশ্চিত হয়ে যায় যে আগামী সংসদ নির্বাচন যদি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয় ( অর্থাৎ যদি হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে তার দলীয় সরকারের অধীনে না হয় ) তবে তার জোটের পরাজয় অনিবার্য। এ ব্যাপারে তখন বিভিন্ন জরীপের ফলাফলেও বিরোধী জোটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির খবর প্রকাশিত হতে থাকে। আর ঠিক তখন থেকেই শেখ হাসিনা ও তার দলের লোকদের মাথা খারাপ হয়ে যায়। এর পর থেকে বিরোধী জোটকে ঢাকায় মিছিল সমাবেশ করার অনুমতি দিতে কড়াকড়ি আরোপ করা শুরু করে দেয় এবং মিছিল সমাবেশে কোন সহিংসতা হলে তার দায় বিরোধী জোটের উপর চাপিয়ে তাদের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতার অভিযান শুরু করে , বিরোধী দলের অফিস বন্ধ করে দিয়ে, অফিস ভেঙ্গে তছনছ করে দিয়ে তালা লাগিয়ে  ২৪ ঘন্টা পুলিশ দিয়ে ঘেরাও করে রাখা হয়। অর্থাৎ হাসিনা সরকারই কার্যত এই অবস্থায় বিরোধী জোটের সামনে হরতাল অবরোধ ছাড়া আর বিকল্প কোন গনতান্ত্রিক আন্দোলনের পথ খোলা রাখেনি। পাশাপাশি পুলিশ র‌্যাবের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কারণে শীর্ষ নেতাদের বিচার বন্ধ ও তাদের মুক্তির দাবীতে জামায়াত শিবিরের আন্দোলনও আরো সহিংস হয়ে উঠে। জামায়াত যেহেতু বিরোধী ১৮-দলীয় জোটেরও শরীক স্বভাবতই ১৮ দলের যে কোন কর্মসূচি পালনকালে জামায়াত শিবিরও এতে সামিল হবে বা অংশগ্রহন করবে। এই পরিস্থিতিতে র‌্যাব, পলিশ ও বিজিবি’র সদস্যরাও সারা দেশে ( এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ) নির্বিচারে গুলি চালিয়ে জামায়াত শিবিরের কর্মীদের সাথে বি,বনে,পি’রও শত শত কর্মী-সমর্থককে হত্যা করেছে এবং হাজার হাজারকে আহত ও পঙ্গু করেছে। বি,এন,পি জোটের নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী মেনে নিলে বা এ ব্যাপারে সরকার যদি বি,এন,পি’র সাথে আলোচনা শুরু করত তবে বিরোধী জোটের তথা বি,এন,পি’র আন্দোলন বন্ধ হয়ে যেত এবং তখন মাঠে কেবল জামায়াত তার নিজস্ব কর্মসূচি নিয়ে থাকত। কিন্তু সরকার ইচ্ছা করে পরিকল্পিতভাবে বিরোধী জোটের নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীর আন্দোলনকে জামায়াতের নিজস্ব আন্দোলনের সাথে ঠেলে দিয়ে একসাথে মিশাতে সফল হয়ে প্রচার করছে বি,এন,পি যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল করতে রাজপথে সহিংসতা করছে। অথচ ৬ মে শাপলা চত্তরের ঘটনার পরেও বি,এন,পি জোটের পল্টন ও ২৫ অক্টোবরের সোহরোয়ার্দি উদ্যানের জনসভার সময় কোন সহিংসতা হয়নি। হাসিনা সরকার বিরোধী জোটের নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবীকে আড়াল করা তথা পাশ কাটিয়ে যাওয়ার জন্য স্বীয় স্বার্থে হীন উদ্দেশ্যে ( ক্ষমতার মসনদ ধরে রাখার উদ্দেশ্যে )  বিদেশী প্রভু প্রধানত ভারতকে সন্তুষ্ট ও আশ্বস্ত করতে বি,এন,পি ও জামায়াতের আন্দোলনকে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মৌলবাদী সহিংস ঘটনা হিসেবে অনবরত প্রচার করে যাচ্ছে। অথচ হাসিনা সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিগত ৫ বছর ( এখন পর্যন্ত ) সারা দেশে তার অংগ সংগঠনগুলো বিশেষ করে ছাত্রলীগ ( যার নাম তার নৃশংস কর্মকান্ডের কারণে চাপাতি লীগে পরিনত হয়েছে )  যে ভয়াবহ ও নৃশংস সন্ত্রাসবাদ কায়েম করেছে তার তুলনায় বি,এন,পি ও জামায়াতের সহিংসতা কিছুই না । উল্লেখ্য, ম্বাধীনতার পর বিগত ৪২ বছরে জামায়াত বাংলাদেশে একটা নিবন্ধিত দল হিসেবে নিয়মতান্ত্রিক ও গনতান্ত্রিক দল হিসেবে ( যেখানে তাদের দলের মধ্যে পরিবারতন্ত্রের কোন সুযোগ নাই ) রাজনীতি করে আসছে, আওয়ামী লীগ ও বি,এন,পি নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন সময়ে জামায়াতের সাথে সখ্যতা বা ঐক্য করে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে জামায়াতকে লালন-পালন করে এদেশের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই দীর্ঘ সময়ে জামায়াত বা ছাত্র-শিবির বাংলাদেশে উল্লেখ করার মত কোন সহিংস রাজনীতি করেনি, ছাত্র-শিবির রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মাঝে-মধ্যে যে সহিংসতা করেছে তা সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের সহিংস কর্মকান্ডের তুলনায় অনেক কম। যখন স্বাধীনতার ৪২ বছর পর আওয়ামী লীগ কেবলই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ( বি,এন,পি জোটকে দূর্বল করার জন্য ) জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচার শুরু করেছে ঠিক তখন থেকেই সংগত কারণে ( নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নে ) জামায়াত শিবির দেশে সহিংসতা শুরু করে। স্বাধীনতার পর ৪২ বছর যাবত তারা বাংলাদেশে “সন্ত্রাসী দলের” মত কোন আচরন করেনি।

শেখ হাসিনা ও তার দল গনতন্ত্রের ভাষা বুঝেনা বা মানতে চায়না, তারা গনতান্ত্রিক ও অহিংস আন্দোলনকে সমস্যা সমাধানের বা দাবী আদায়ের গনতান্ত্রিক বা সাংবিধানিক পথ বলে মনে করেনা। যে কারণে হাসিনা সরকার প্রথম থেকেই বি,এন,পি তথা বিরোধী জোটের নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীর নিয়মতান্ত্রিক ও অহিংস আন্দোলনকে পাত্তাই দেয়নি। বরং তার দলের লোকেরা প্রায়সই ঠাট্টা, বিদ্রোপ বা টিটকারী করে বলছে বি,এন,পি’র আন্দোলন  করার মুরদ নাই, ক্ষমতা নাই, সাহস নাই , ইত্যাদি , ইত্যাদি। এমনকি কখনো কখনো এও বলে যে আন্দোলন কিভাবে করতে হয় বি,এন,পিকে তা আওয়ামী লীগের কাছ থেকে শিখতে হবে। অর্থাৎ শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ আন্দোলনের নামে রাজপথে ভয়াবহ ও চরম  সহিংস ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করতে

ওস্তাদ বা সিদ্ধহস্ত বলে নিজেরাই তা স্বীকার করছে এবং তাকেই দাবী আদোয়ের জন্য প্রকৃত আন্দোলন হিসেবে বুঝাতে চায় – যা তারা ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্র“য়ারীর নির্বাচনের আগে ও ২০০৬ সালের অক্টোবরে মাসে বাংলাদেশের জনগনকে উপহার দিয়েছিল।

বিরোধী জোটের দাবীকে উপেক্ষা করে বা উড়িয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের সমস্ত শক্তি ও ক্ষমতাকে ব্যবহার করে এবং দলীয় ক্যাডারদের সশস্ত্র পেশী শক্তিকে মাঠে নামিয়ে সম্পূর্ন গায়ের জোরে বিগত ৫ই জানুয়ারী ভোটারবিহীন এমনকি প্রার্থীবিহীন একটা একতরফা ও প্রহসনমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে দেশ ও জাতিকে এটাই আবার প্রমান করে বা বুঝিয়ে দিল যে আওয়ামী লীগ একটা ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচারী ও অগনতান্ত্রিক দল। তাদের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও পেশী শক্তির কাছে বি,এন,পি জোটের আন্দোলন পরাজিত হয়েছে। বি,এন,পি তথা বিরোধী জোট যদি ( আওয়ামী লীগের ভাষায় ) রাজপথে আওয়ামী লীগ সরকারের রাষ্ট্রীয় ও দলীয় সন্ত্রাসের চেয়ে আরো বেশী সহিংস হতে পারত তবে তারা আন্দোলনে জয়লাভ করতে বা আওয়ামী সরকারকে পরাজিত করতে পারত, তাহলে তাদের দাবী আদায় হত। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের শাসনামলে অপরাজেয় সহিংসতাই হলো যে কোন দাবী আদায়ের মূল শক্তি, আলাপ-আলোচনা, সমঝোতা বা গনতান্ত্রিক ও অহিংস আন্দোলন বা পন্থায় দাবী আদায়ের কোন সুযোগ আওয়ামী লীগের দলীয় সংবিধানে বা বৈশিষ্ট্যে নাই। যদি আওয়ামী লীগ ও এর নেত্রী গনতান্ত্রিক ও অহিংস রাজনীতি বা মূল্যবোধে বিশ্বাসী হত তবে পঞ্চোদশ সংশোধনীর পর বি,এন,পি জোট যখন এর বিরোধিতা করে হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখে তার দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবেনা বলে স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়েছিল এবং তখন থেকে শান্তিপূর্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে রাজপথে আন্দোলন শুরু করেছিল শেখ হাসিনা বা তার সরকার এ ব্যাপারে বিরোধী জোটের সাথে তখন থেকেই শান্তিপূর্ন পন্থায় অর্থাৎ সংলাপ বা আলোচনার মাধ্যমে একটা সমঝোতায় পৌছতে পারত। গনতান্ত্রিক সংস্কৃতি বা রাজনীতির এটাই হলো বৈশিষ্ট্য বা অলংকার। কিন্তু তা না করে শেখ হাসিনার সরকার প্রথম থেকেই বিরোধী জোটের আন্দোলনকে বানচাল ও দমন করার নীতি অনুসরন করতে থাকে। বিরোধী জোটের দাবীর ব্যাপারে বা সবার কাছে গ্রহনযোগ্য নির্বাচনকালীন একটা সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আলাপ-আলোচনার ব্যাপারে শেখ হাসিনা ও তার দল কখনও আগ্রহী বা আন্তরিক ছিলনা, তারা মনে করেছে তাদের কাছে রাষ্ট্রের সকল শক্তি ও ক্ষমতা আছে, বিরোধী জোটের দাবীর বা তাদের আন্দোলনের কাছে সরকারকে কখনও মাথা নত করতে হবেনা। তাই ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনের আগ পর্যন্তও দেশী বা বিদেশী মহলের পরামর্শ বা চাপ থাকা সত্তেও শেখ হাসিনা সরকার বিরোধী জোটের সাথে সংলাপের ব্যাপারে নমনীয় হয়নি। মাঝে-মধ্যে কখনো শুধু মেঠো বক্তৃতায় বা বিভিন্ন অনুষ্ঠনে হাসিনা ও তার সরকারী দলের লোকেরা বলে বেড়িয়েছে যে আলোচনার দরজা খোলা আছে, সরকার আলোচনার জন্য সব সময়ই প্রস্তুত, কিন্তু সমস্যা সমাধানের জন্য আন্তরিক হয়ে সংলাপের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী জোটকে দিন-তারিখ ও এজেন্ডা নির্দিষ্ট করে কখনও কোন আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। বরং বি,এন,পি’র মির্জা ফখরুল ইসলাম সংলাপের জন্য আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদককে যে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছিল হাসিনা সরকারের পক্ষ থেকে তার কোন জবাব বা সাড়া দেওয়া হয়নি। বরং কয়েকদিন পর হাসানুল হক ইনু বলেছিল শেখ হাসিনা বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়াকে ফোন করবেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ফোনের অপেক্ষাতেও কয়েকদিন কেটে গেল, ফোন আর করা হয়না। এরপর বিরোধী জোট যখন তাদের পূর্ব-নির্ধারিত ২৫ অক্টোবর সোহরোয়ার্দী উদ্যানের জনসভা থেকে দাবী আদায়ের লক্ষ্যে সরকারকে আলোচনা শুরু করার ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে ৩ দিনের হরতালের কর্মসূচী ঘোষণা করল শেখ হাসিনা তখন ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিতভাবে দেশবাসীর কাছে খালেদা জিয়াকে ভিলেন বানানো ও হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২৩ ঘন্টা পার করে হরতাল শুরু হওয়ার ঠিক পূর্বমূহুর্তে খালেদা জিয়াকে ফোন করে, ঐ ফোনে শেখ হাসিনা সংকট নিরসনে সংলাপের জন্য খালেদাকে তার বাসায় আমন্ত্রন জানানোর জন্য কতটা আন্তরিক ছিল তা ৩৭ মিনিটের ফেনালাপ থেকে দেশবাসীর কাছে পরিস্কার হয়ে গিয়েছিল। শেখ হাসিনা ফোনে খালেদা জিয়াকে শুধু হরতালটা প্রত্যাহার করা এবং অতীতের বিভিন্ন তিক্ত ঘটনার কথা বার বার উল্লেখ করে পুরোনো ঘা’য়ে খোচা মেরে খালেদা জিয়াকে উত্যক্ত ও ক্ষিপ্ত করতেই চেয়েছিল এবং সে তাতে সফলও হয়েছিল, যার প্রকাশ ও উল্লেখ ঘটেছে ফেনালাপটা জনসমক্ষে প্রকাশ করে দেওয়া ও পরবর্তিতে এ নিয়ে শেখ হাসিনা ও তার দলের লোকদের খালেদা জিয়ার সমালোচনা করার মধ্য দিয়ে। শেখ হাসিনা ও তার দলের লোকেরা এরপর থেকে বলে আসছে খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার সংলাপের জন্য আমন্ত্রন প্রত্যাখান করেছে। অথচ খালেদা জিয়া ঐদিন বলেছিল হরতাল কর্মসূচী যেহেতু শুরু হয়ে গেছে এখন তার শরীকদের সাথে আলোচনা না করে ঐ মূহুর্তে তার পক্ষে হরতাল প্রত্যাহার করা সম্ভব নয় এবং সাথে সাথে এও বলেছিল হরতালের পর ( ২৯ অক্টেবরের পর ) শেখ হাসিনা তাকে যেদিন ডাকবে সে সেদিনই সে আলোচনার জন্য তার বাসায় যেতে প্রস্তুত আছে। কিন্তু শেখ হাসিনা বা তার সরকার যদি সংকট নিরসনের ব্যাপারে আন্তরিক হত তবে দেশ ও দেশের জনগনের দূর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এরপর যে কোন দিন আবারও খালেদা জিয়াকে ফোন করতে বা বিরোধী জোটকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপের জন্য আহ্বান জানাতে পারত (যেহেতু ক্ষমতাসীন হিসেবে সরকারের দায়িত্বটাই এ ব্যাপারে বেশী)। বিরোধী জোটের অব্যাহত আন্দোলনের ফলে এবং তা দমন করতে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস পরিচলনা করতে গিয়ে দেশের জনগনের জান-মাল ও অর্থনীতির চরম ধ্বংশ ও ক্ষয়-ক্ষতি বন্ধ করার লক্ষ্যে ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বিরোধী জোটের সাথে সবার অংশগ্রহনের ভিত্তিতে অর্থবহ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের জন্য সংলাপ শুরু করতে জাতিসংঘের মহাসচিবের কয়েকবারের উদ্যোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, কমনওয়েলথ, ইউরোপ ইউনিয়নসহ বিশ্বের অরো অনেক গনতান্ত্রিক দেশ ও সরকার প্রধানদের আন্তরিক আহ্বান ও পরামর্শকে শেখ হাসিনা তোয়াক্কাই করলনা। আর এ ব্যাপারে দেশের বিভিন্ন পেশা ও মর্যাদার লোকদের আহ্বান, পরামর্শ ও প্রস্তাবকে শেখ হাসিনা ও তার দলের লোকজন বিভিন্ন সময়ে যেভাবে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও বলতে গেলে টিটকারী মেরে উড়িয়ে ও নিরুৎসাহিত করে দিয়েছে তা আর বলার অপেক্ষাই রাখেনা। শেখ হাসিনা এক সময় অত্যন্ত ঔদ্ধত্য ও অহংকার নিয়ে হুংকার ছাড়ল যে সংবিধান থেকে সে একচুলও সরবেনা, অর্থাৎ সংবিধান অনুযায়ী সে প্রধানমন্ত্রী থেকে তার সরকারের অধীনেই নির্বাচন করবে এবং এর জন্য যা করা দরকার সে তাই করবে, প্রয়োজনে স্বৈরাচারী কায়দায় বিরোধী জোটের আন্দোলন দমাতে যত কঠোর হতে হয় ততই কঠোর হবে। কার্যতও তার ঐ দাম্ভিক্যপূর্ন উক্তির পর বাস্তবে তাই দেখা গেল, আন্দোলনরত বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতাদের বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে ভরা শুরু করে দিল, বিরোধী দলের কার্যালয় বন্ধ করে দিয়ে ২৪ ঘন্টা পুলিশী পাহাড়া বসিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হল, কোন মিছিল মিটিং করার অনুমতি দেওয়া বন্ধ করে দিল, এমনকি বিরোধী জোট যখন ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ ডাকল সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে বরং হাসিনা সরকার ঐ দিন সমাবেশে যাতে কোন লোক আসতে না পারে ১ দিন আগে থেকেই সারা দেশের পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ করে দিল এবং তার ২ দিন আগে থেকেই বি,এন,পি নেত্রী যাতে ঘর থেকে বের হয়ে সমাবেশে যেতে না পারে তার বাড়ির সামনে শত শত পুলিশ র‌্যাব বাহিনী মোতায়েন করে, জল কামান, বালুভর্তি ট্রাক জড়ো করে তাকে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হল। দলের বা জোটের কোন নেতাকে তার সাথে দেখা করতে যেতে দেওয়া হয়নি, বরং কেউ দেখা করতে গেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খালেদা জিয়াকে ঐ দিন তার ঘর থেকে বের হয়ে দলীয় কার্যালয়ে যেতে দেওয়া হলোনা, রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র শক্তি ও দলীয় সশস্ত্র ক্যাডারদের গুলির ভয়ে সেদিন বিরোধী দলের কোন নেতা-কর্মীও রাস্তায় একটা মিছিল বের করতে বা তাদের দলীয় কার্যালয়ে যেতে সাহস পায়নি। এমন অনাকাঙ্খিত, অপ্রত্যাশিত ও মানষিকভাবে যন্ত্রনাদায়ক আচরন করা হলে তখন কারো পক্ষেই স্বাভাবিক আচরন করা সম্ভব নয়, তাই খালেদা জিয়াকে যখন তার বাড়ির গেইটে আটকে দেওয়া হল তখন কারো না কারো উপর তার নির্দিষ্ট কোন কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে ( যদি রক্ত-মাংশে গড়া মানুষ হয়ে থাকে ) অস্বাভাবিক আচরন বা শব্দ উচ্চারন করাটাই স্বাভাবিক। সেটাকে বিবেচনা না করে বা নিজেদের স্বৈরাচারী ও অতি বাড়াবাড়ি আচরনের কথা চিন্তা না করে সরকারী মহল সেদিন খালেদা জিয়া পুলিশের সাথে অশালীন বা অশোভন আচরন করেছিল বলে তার সমালোচায় ব্যস্ত হয়ে গেল। অপরদিকে একই দিন সরকার ঢাকাসহ সারা দেশে তার রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র বাহিনী এবং দলীয় সশস্ত্র ক্যাডারদের মাঠে নামিয়ে বিরোধী জোটের অন্দোলনরত নেতাকর্মীদের নির্বিচারে দেখামাত্র গুলি করে হত্যার কাজে নিয়োজিত করে দিল।  বিগত বছরের শুধু নভেম্বর ডিসেম্বর ২ মাসেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ৬০০ এর মত লোক মারা গেছে এবং হাজার হাজার আহত ও পঙ্গু হয়েছে। এরমধ্যে আন্দোলনকারীদের হামলা ও সহিংসতায় যে কয়জন পুলিশ, বিজিবি সদস্য ও সাধারন মানুষ মারা গেছে রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র বাহিনী এবং দলীয় সশস্ত্র ক্যাডারদের গুলিতে তার চেয়ে বহুগুন বেশী লোক মারা গেছে। তাছাড়া বিগত ২০১৩ সালে পুরো এক বছরে সারা দেশে আরো অনেক ও ব্যাপক জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। রাজনৈতিক দাবীকে রাজনৈতিকভাবে ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গনতান্ত্রিকভাবে সমাধানের পরিবর্তে শেখ হাসিনা ও তার সরকার শক্তি প্রয়োগ করে শত শত মানুষ হত্যা করে আন্দোলন ঠান্ডা করার কৌশল অবলম্বন করেছে (যাকে ১৯৭১ সালের তদানিন্তন পাকিস্তানের টিক্কা খান ও ইয়াহিয়া খানের মত স্বৈর শাসকদের স্বৈরাচার ও বিভৎসতার সাথে তুলনা করা যায়)। এই হল শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যবাহী অগনতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী চরিত্র।

অহিংস ও গনতান্ত্রিক আন্দোলনকে যখন সহ্য করা হবেনা, দাবী-দাওয়ার যৌক্তিকতাকে  গনতান্ত্রিকভাবে যুক্তিনির্ভর আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের যখন পথ অবলম্বন না করে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তাকে দমন করার চেষ্টা করা হবে তখন সে আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিতে বাধ্য এবং সহিংসতা যখন ছড়িয়ে পড়ে তখন অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতে কিছু অতি উৎসাহী ও উশৃংখল কর্মী বা সমর্থক দ্বারা অনাকাঙ্খিত ঘটনা যেমন ঘটে তেমনি এমন পরিস্থিতিতে স্বার্থান্বেষী শক্তি ও মহলও তাদের হীন উদ্দেশ্য হাসিল করার কাজে জড়িয়ে পড়ে। কোন গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল নেতারা কখনও কর্মীদেরকে আন্দোলনের সময় সহিংসতা করার নির্দেশ দেয়না। মির্জা ফখরুল ইসলাম হয়ত ছাত্রদলের সমাবেশে মূখ ফসকে বলে ফেলেছিল কেবল একটা-দুইটা গাড়ি ভাঙ্গলে চলবেনা, সে হয়ত বুঝাতে চেয়েছিল গাড়ি ভাঙ্গা কোন আন্দোলন হতে পারেনা, তাই বৃহত্তর আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়তে বলেছিল, আরো বেশী বেশী গাড়ি ভাঙ্গতে বলেনি। কাজেই সন্ত্রাস বা সহিংসতার জন্য শুধু ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের শাস্তি বা বিচারের আগে বা পাশাপাশি এমন পরিস্থিতি কেন ও কি কারণে ঘটল এবং এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য কারা দায়ী তাও বিবেচনায় নিতে হবে। তা না করে এসব ঘটনার জন্য দলের শীর্ষ নেতাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে ভরলে শাসক দল হয়ত সাময়িক সস্তি পাবে বা সমস্যার সাময়িক উপসম হলেও সমস্যার কোন দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হবেনা, যে কোন সময় তা আবার ও আরো ভয়াবহ রূপে হাজির হবে।

এ দেশের জনগনের নিশ্চয়ই মনে আছে শেখ হাসিনা যখন গত বছর জাতিসংঘে ভাষণ দিতে গিয়েছিল তখন নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে বলেছিল সে দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও রাজী আছে। এরপর থেকে ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন পর্যন্ত সারা দেশের জনগন যখন আন্দোলনের আগুনে ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছিল ততক্ষন পর্যন্ত দেশের মানুষ শেখ হাসিনার দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের কোন নমুনা দেখতে পারলনা, এমনকি তার ঐ সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের মর্মার্থটাও বুঝতে পারলনা। তবে ৫ই জানুয়ারীর তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ বুঝতে পারল শেখ হাসিনা শুধুমাত্র ক্ষমতায় থাকার জন্য বা গদি ধরে রাখার জন্য নীতি-আদর্শ, লজ্জা-শরম, বিবেক-বিবেচনা বিসর্জনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ত্যাগ করতেও  দ্বিধা করেনা।

বিরোধী জোট আন্দোলন করছিল নির্বাচনকালীন একটা নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের দাবীতে, এটা নির্বাচনকালীন বি,এন,পি’র দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার দাবী নয়, এটা আওয়ামী লীগ ও বি,এন,পি’র কাছেও সমানভাবে গ্রহনযোগ্য ও আস্থাশীল একটা সাময়িক ব্যবস্থা। কিন্তু সংবিধানের পঞ্চোদশ সংশোধনী অনুসারে নির্বাচন করতে গেলে বি,এন,পিকে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়ে তার দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হত – যা বিপরীত অবস্থায় আওয়ামী লীগও কখনো মেনে নিবেনা ( ১৯৯৬ ও ২০০৭ সালের নির্বাচনই তার উজ্জ্ল উদাহরন )। এ ব্যাপারে একটা সমঝোতায় পৌছতে হলে উভয় পক্ষকে কিছুটা ছাড় দেওয়ার জন্য দেশের ও দেশের বাইরে থেকে যখন অব্যাহত চাপ আসতে থাকল তখন বি,এন,পি জোট ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনুরুপ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে ছাড় দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন একটা দলীয় সরকারের পরিবর্তে তত্ত্বাবধায়ক শব্দটা বাদ দিয়ে একটা নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের দাবীতে সরে আসল। কিন্তু সংবিধান ধেকে এক চুলও সরবেনা বলে ঘোষণাকারী শেখ হাসিনা তখন সংবিধান বহির্ভূত তার মনগড়া নির্বাচনকালীন একটা সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিল এবং ঐ সরকারে বি,এন,পিকেও যে কোন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব নিয়ে শরীক হওয়ার আহ্বান জানাল। শেষ পর্যন্ত বিরোধী জোট সর্বদলীয় সরকারের অধীনেও নির্বাচন মেনে নিতে রাজী ছিল যদি ঐ সরকারের প্রধান হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনা না থাকে। শুধু তাই নয় শেষ পর্যন্ত এও শোনা গিয়েছিল যে বি,এন,পি জোট নির্বাচনকালীন প্রধানমন্ত্রীর ( নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে ) কিছু কিছু ক্ষমতা বাতিল বা রহিত করা হলে শেখ হাসিনাকে সরকার প্রধান রেখেও নির্বাচন করতে রাজী ছিল। জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ দূত তারানকো’র সর্বশেষ সংলাপের উদ্যোগের সময় এ ধরনের একটা ফয়সালা হবে বলেই দেশবাসী আশা করেছিল। কিন্তু সে থাকাকালীন একবার এবং সে চলে যাওয়ার পর আর একবার আওয়ামী লীগ ও বি,এন,পি নেতাদের মধ্যে বৈঠক হলেও এ ব্যাপারে কোন সুরাহা হয়নি এবং বৈঠকও আর হয়নি। এরপর থেকে শেখ হাসিনা ও তার সরকার ও দলের লোকজন সংলাপের ব্যাপারে আর কোন আগ্রহ প্রকাশ করেনি। বরং বি,এন,পি নির্বাচনে অংশগ্রহন করুক বা না করুক শেখ হাসিনার অধীনেই দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং “সংবিধান অনুযায়ী” দশম নির্বাচন নিয়ে আর কোন আলোচনার সুযোগ ও সময় নাই বলে মহাজোট সরকারের অন্তর্ভূক্ত দলগুলোকে নিয়ে কথিত সর্বদলীয় সরকার গঠন করে এরশাদের জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল বানানোর অপকৌশল নিয়ে দশম সংসদ নির্বাচনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে। হাসিনা সরকারের তল্পিবাহক নির্বাচন কমিশনও উভয় পক্ষকে আলোচনার জন্য আর কোন সুযোগ না দিয়ে সরকারের ইচ্ছানুযায়ী হঠাৎ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে দিল। বিরোধী জোট তখন তাদের সামনে দাবী আদায়ের বিকল্প আর কোন পথ খোলা না দেখে বাধ্য হয়ে সর্বাত্মক আন্দোলন শুরু করল, তারা একটানা অবরোধ ও হরতালের কর্মসূচি অব্যাহত রাখল। ১৮-দলীয় জোটের শরীক হিসেবে যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সর্বোচ্চ শাস্তির প্রতিবাদে আন্দোলনরত জামায়াত-শিবিরও বিরোধী জোটের সরকার বিরোধী আন্দোলনে সামিল হল, ফলে বিরোধী জোটের আন্দোলন আরো বেগবান ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ( রাষ্ট্রীয় ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসের কারণে ) কখনও কখনও তা সহিংস রূপ নিতে বাধ্য হল। এমন পরিস্থিতিতে জামায়াত-শিবির ও বি,এন,পি’র উপর দোষ চাপানোর উদ্দেশ্যে সরকারী দলের সন্ত্রাসীরাও ব্যাপক সহিংসতা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসিনা সরকার জামায়াত-শিবিরের ও বিরোধী জোটের আন্দোলন দমন করার নামে সরকারের সকল সশস্ত্র শক্তি ও দলীয় সন্ত্রাসীদের মাঠে নামিয়ে নির্বিচারে ( ফ্রি-স্টাইলে ) সরাসরি গুলি করে সারা দেশে শুধু নির্বাচনের আগের ২ মাসেই কয়েক’শ লোককে হত্যা করেছে। হাসিনা সরকারের এমন দমন-পিড়ন ও স্বৈরাচারী কায়দায় বিরোধী দলের আন্দোলন স্তব্ধ করার মধ্য দিয়ে একথাই স্পষ্ট হয়ে গেল যে শেখ হাসিনা তার অধীনেই নির্বাচন করতে চায় এবং নির্বাচনে জয়লাভের জন্য বি,এন,পিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায়।

নির্বাচনোত্তর দেশের এহেন পরিস্থিতির মধ্যেও বিরোধী জোটের নেতারা রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করে একটা সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল, কিন্তু রাষ্ট্রপতিও তার দলীয় ( আওয়ামী লীগের ) আনুগত্যের উর্দ্ধে উঠতে পারলেননা, সংবিধানে তার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার অযুহাত দেখিয়ে তার পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয় বলে পরোক্ষভাবে জানিয়ে দিলেন। অর্থাৎ দেশ ও দেশের মানুষ জ্বলে-পুড়ে তার সামনে ধ্বংশ হয়ে যাচ্ছে তাতে তার কোন মাথা-ব্যাথা বা দায়িত্ব নাই, সংবিধানে তার ক্ষমতা নাই বলে দোহাই দিয়ে উনি দিব্যি আরামে ও সুখে বঙ্গভবনের নিদ্রা যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে বিরোধী নেতাদেরকে তিনি একথাও বলেছিলেন যে তিনি বঙ্গভবনে রাজনীতিকে টেনে আনতে চাননা, বঙ্গভবনকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে চান। কি অসাড় মন্তব্য ও মনোভাব ! রাজনীতির সহিংস আগুণে দেশ জ্বলছে, আর উনিও রাজনীতির পথ ধরেই রাষ্ট্রপতি হয়ে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হয়েছেন, বঙ্গভবন কি রাজনীতির বাইরের কোন প্রতীক ? অর্থাৎ শেখ হাসিনা যা চান বা যা চাননা রাষ্ট্রপতিও তার বাইরে কিছু করবেননা এটাই হল দলীয় রাষ্ট্রপতির আসল নীতি, আদর্শ ও অবস্থান। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে দেশের  ৬ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিও তার সাথে দেখা করে একই আহ্বান জানিয়েছিলেন, কিন্তু তাদের বেলাতেও রাষ্ট্রপতির ভূমিকা একই ছিল। বরং শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করে পরের দিনই নির্বাচনকালীন কথিত সর্বদলীয় সরকার গঠন করল, বল্ল রাষ্ট্রপতি তাকে সরকার গঠনের জন্য অনুমতি বা অনুরোধ করেছেন, অথচ এ ব্যাপারে দেশের মানুষ শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করে কি বলেছিল এবং রাষ্ট্রপতি তাকে কি বলেছিলেন  কিছুই দেখতে বা জানতে পারেনি। দেশের মানুষ জানতে ও বুঝতে পারছিল যে সবই শেখ হাসিনার নীল নক্সা অনুযায়ীই হচ্ছিল। উল্লেখ্য, ২৯ জানুয়ারী দশম সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ তার ভাষণে আন্দোলনকারী দলগুলোকে ধ্বংশাত্মক পথ পরিহার করে সংলাপ বা আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন, বিরোধী দলতো বিগত ১ বছর যাবত তাই চেয়ে আসছিল, তার সাথে দেখা করেও এ আহ্বানই জানিয়েছিল। বরং রাষ্ট্রপতি যদি তার ভাষণে বিরোধী দলের সাথে আলাপ-আলোচনা করে সমস্যার সমাধান তথা দেশে শান্তি ও সস্তির পরিবেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তার দলীয় সরকার অর্থাৎ তার নেত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানাতেন তবে তা হত বেশী প্রত্যাশিত, গ্রহনযোগ্য ও সময়োপযোগী।

বিগত ৫ বছরে শেখ হাসিনা সরকার দেশের প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এমনকি সেনাবাহিনীকেও দলীয়করন করে ও দলীয় আনুগত্যের লোকদের সুবিধাজনক পদে বসিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার কৌশল ষোলআনা পাকাপোক্ত করে নিয়েছে, তাছাড়া প্রতিবেশী দেশ ভারতকেও তার সবচেয়ে বড় সহায়ক শক্তি হিসেবে পেয়ে শেখ হাসিনা পুনরায় ক্ষমতায় থাকার জন্য বিরোধী জোটের সাথে কোন সমঝোতা না করে তার অধীনেই একতরফা নির্বাচন করার জন্য শক্ত অবস্থানে চলে যায়। তার ও তার সরকারের তরফ থেকে তখন অযুহাত দেখাতে লাগল সংবিধানের বাধ্যবাধকতার জন্য তাকে ৫ই জানুয়ারী নির্বাচন করতেই হবে। অথচ নবম সংসদের মেয়াদ ছিল ২৪ জানুয়ারী পর্যন্ত, হাতে তখনও আরো প্রায় ২০/২৫ দিন সময় থাকার পরেও বিরোধী জোটের সাথে আলোচনার কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাছাড়া শেখ হাসিনা কর্তৃক সংশোধিত বর্তমান সংবিধানের অন্য এক ধারাতে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে ২৪ জানুয়ারীর পরের ৯০ দিনের মধ্যেও নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুযোগ ছিল, যেহেতু সংবিধানে এমন ব্যবস্থার কথা উল্লেখ ছিল সেহেতু সংসদ ভেঙ্গে দিলে পরবর্তি সময়ে কে বা কোন্ সরকার ৩ মাসের জন্য দেশ পরিচালনা করবে তারও নিশ্চয়ই সমাধান ছিল, না থাকলেও তা আলাপ-আলোচনা করে ঠিক করা যেত। দেশের বহু বিশিষ্ট জন ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সবার কাছে গ্রহনযোগ্য এবং সব দলেরর অংশগ্রহনের ভিত্তিতে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে ২৪ জানুয়ারীর পরের ৯০ দিনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য শেখ হাসিনা সরকারের কাছে বার বার অনুরোধ ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই যে মাথায় কাজ করছে যেভাবেই হউক প্রধানমন্ত্রিত্বটা আমার চাই এবং তা সম্ভব হলে ২০২১ (স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তি পালনের নেশায়) সাল পর্যন্ত তাই যেভাবেই হউক, যত শক্তি প্রয়োগ করেই হউক, একতরফা নির্বাচনই হউক ৫ই জানুয়ারীই নির্বাচন করতে হবে এটাই ছিল শেখ হাসিনার শেষ কথা ও ইচ্ছা। দেশের প্রধান বিরোধী দল তথা অন্যতম বৃহত্তম দলের নির্বাচনে অংশগ্রহন না করার মধ্য দিয়ে একতরফা ও অগ্রহনযোগ্য নির্বাচন করতে শেখ হাসিনা সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জাতিসংঘ, আমেরিকা, বৃটেন, কমনওয়েলথ, ইউরোপ ইউনিয়ন এমনকি রাশিয়াসহ পৃথিবীর সব বড় বড় গনতান্ত্রিক দেশ ও সংস্থা ঐ নির্বাচনে তাদের কোন পর্যবেক্ষক পাঠাবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু দেশী বিদেশী সকলের বিরোধীতা ও সমালোচনাকে উপেক্ষা করে ( কেবল ভারতের সমর্থন পেয়ে )  শেখ হাসিনা গায়ের জোরে ৫ই জানুয়ারী দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের চেষ্টা চালায়। বিরোধী জোট এ নির্বাচন বর্জন করায় এবং জনগনকে এমন প্রহসনের নির্বাচনে অংশ নিতে আহ্বান জানানো ও সংগত কারণে ( নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের ন্যায্য দাবী না মানায় ) নির্বাচন বানচাল বা প্রতিহত করার ঘোষণা দেওয়ায় ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন সত্যিই একটা প্রহসনের নির্বাচনে পরিনত হয়েছিল। নির্বাচনের আগেই ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গিয়েছিল – যা এ দেশের এমনকি বিশ্বের গনতান্ত্রিক নির্বাচনের ইতিহাসে একটা কলংকময় উদাহরন ও বিস্ময়কর রেকর্ড। বাকী ১৪৭ টা আসনেও ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র গড়ে ১০- ১৫% – যার মাধ্যমে বিরোধী জোটের নির্বাচন বর্জন ও প্রতিহত করার সফলতা প্রমানিত হয়েছে। হাসিনা সরকার তার সমস্ত রাষ্ট্রীয় ও দলীয় শক্তি নিয়োজিত করেও ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনে উল্লেখ করার মত ন্যূনতম সংখ্যক ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত ও নির্বাটনটাকে গ্রহনযোগ্য করতে পারেনি। অথচ এমন হাস্যকর নির্বাচনের পরেও শেখ হাসিনা, তার দলীয় লোকজন ও সমর্থক গোষ্টি নির্বাচনের ফলাফলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে কৃত্রিম আনন্দ-উল্লাসে মেতে আছে। পরবর্তিতে ভোটারহীন ও বিতর্কিত নব-নির্বাচিত দশম সংসদের এম,পিদের শপথ গ্রহনের পর শেখ হাসিনা নতুন সরকার গঠন করে ( অন্তত “খালেদা জিয়ার সমান সমান” যাতে বলা যায় তৃতীয়বারের মত প্রধানমন্ত্রী হয়েছে ) এখন পর্যন্ত দারুন আনন্দ উল্লাসে দিন কাটাচ্ছে। অথচ এই প্রধানমন্ত্রীর মসনদটা ধরে রাখতে বিগত ১ বছর যাবত তাকে দেশের কত শত লোকের রক্ত পার হয়ে, কত শত শহস্র কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংশ করে আসতে হয়েছে সেজন্য তার কোন মনোকষ্ট আছে বলে নির্বাচন পরবর্তি তার চলন-বলন ও কর্মকান্ডে মোটেও মনে হচ্ছেনা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দেশবাসী অবশ্যই ভুলে যায়নি নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা একবার বলেছিল তার কাছে দেশ ও দেশের মানুষের সুখ শান্তিটাই বড়, প্রধানমন্ত্রীত্ব সে চায়না বা এটা তার কাছে বড় নয়। কিন্তু ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমানিত হল দেশ ও দেশের মানুষের সুখ শান্তির চেয়ে তার কাছে প্রধানমন্ত্রীত্বটাই সবচেয়ে বেশী আকর্ষনীয় ও বড়।

দেশের বিগত ১ বছরের চলমান সংকট ও নির্বাচন সংক্রান্ত সবকিছুর জন্য সেই একই রেকর্ড বি,এন,পি-জামায়াত জোটের সহিংসতা ও সন্ত্রাসই দায়ী বলে সে নিজে ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা বলে বেড়াচ্ছে। অথচ এর পেছনে তার উগ্র ক্ষমতার নেশা, একরোখা, অনমনীয় ও একগুয়েমী মনোভাব এবং রাষ্ট্রীয় ও দলীয় শক্তি প্রয়োগ করে যেভাবেই হউক রাষ্ট্রক্ষমতা আবার করায়াত্ব করার যে মানষিকতা বহুলাংশেই দায়ী তা স্বীকার করতে বা মানতে নারাজ। বিরোধী জোট দাক্ষী আদায়ের জন্য গনতান্ত্রিক ও অহিংস আন্দোলনের পথ ছেড়ে কেন অগনতান্ত্রিক বা সহিংস আন্দোলনে যেতে বাধ্য হল তা কেউ বলছেনা। শেখ হাসিনা ও তার দলের লোকেরাতো প্রকাশ্যই বলে যাচ্ছে আন্দোলন করে এ সরকারের কাছ থেকে বিরোধী দল কোন দাবী আদায় করতে পারবেনা, অথচ হাসিনা সরকার বিরোধী দলের দাবীর ব্যাপারে সংলাপেও বসছেনা বা তাদের গনতান্ত্রিক বা অহিংস আন্দোলনকেও পাত্তা দিচ্ছেনা। যদি বিরোধী দল রাজপথে ( আওয়ামী লীগের মত ) চরম সহিংসতা করে সরকারী শক্তিকে পরাজিত করতে পারত তবে তাদের দাবী আদায় হত। ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা দেশবাসীকে তাই বুঝিয়ে দিল “জোর যার মুল্লুক তার”। এই হলো শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগের গনতান্ত্রিক ও আদর্শিক রাজনীতির বৈশিষ্ট্য। স্বাধীনতার পর থেকে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার পরিপন্থি অগনতান্ত্রিক ও স্বৈবরাচারী কায়দায় একদল  ( শুধু আওয়ামী লীগ ) দ্বারা দেশ শাসন করার যে মানষিকতা ও প্রবনতা আওয়ামী লীগ ও এর দোষরদের মধ্যে জন্ম নিয়েছিল এখনও তাদের ধমনীতে ও চিন্তা-চেতনায় সেই একই রক্ত ও মানষিক স্রোতধারা বহমান। তাই তারা এ দেশে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোন বিরোধী দলের অস্তিত্বকে মেনে নিতে পারছেনা। এই মানষিকতা থেকেই যুদ্ধাপরাধের কথা ভুলে গিয়ে এক সময় জামায়াতের সাখে সখ্যতা রাখার পরেও বি,এন,পি’র জোটকে দূর্বল তথা জামায়াতে ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে ৪২ বছর পর তাদের সব শীর্ষ নেতাকে ফঁসিতে ঝুলিয়ে মারার পরিকল্পনা কার্যকর করছে। হয়ত একই সাথে সুযোগ ও কৌশল খুজছে বি,এন,পিকেও ধ্বংশ করে দেওয়া যায় কিনা, বিভিন্ন মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ফাসাতে চাচ্ছে, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা, ২১ আগষ্টে গ্র্যানেড হামলা মামলাতেও বি,এন,পি’র শীর্ষ নেতাদের জড়াতে চাচ্ছে। তাছাড়া বর্তমান সময়ে বি,এন,পি’র শীর্ষ ও বয়স্ক ( সত্তুরোর্ধ )  নেতাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে মাসের মাসের পর জেলে আটক রেখে তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে আরো অসুস্থ করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া যায় কিনা মনে হয় এই অপকৌশল হাসিনা সরকার নিয়েছে। তাদের ভাষায় ক্যান্টনমেন্টের গর্ভ থেকে বা সামরিক উর্দীপড়া লোকের হাত ধরে জন্ম হলেও বি,এন,পি যে ২/৩ বার এ দেশের সংখ্যাগড়িষ্ঠ মানুষের সমর্থন নিয়ে ও ভোটের মাধ্যমে জয়যুক্ত হয়ে ২ বার দেশ শাসন করেছে এবং এখন বি,এন,পিই যে এ দেশের ৩৬ বছর বয়সী একমাত্র প্রধান ও বৃহত্তম বিরোধী দল এ বাস্তবতা মেনে নেওয়ার গনতান্ত্রিক মানষিকতা ও চরিত্র তাদের নাই। জিয়াউর রহমানত ’৭৫ ও ৭ই নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতায় আবির্ভূত হয়েছিল, তাছাড়া ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার বলিষ্ঠ কন্ঠস্বরের সাথে ও স্বাধীনতাযুদ্ধে রনাঙ্গনের একজন বীর যুদ্ধা হিসেবে জিয়াউর রহমান এ দেশের মানুষের কাছে ভালভাবে পরিচিত, জিয়াউর রহমান জেনারেল এরশাদের মত কোন সাংধিানিক সরকারকে রাতের আঁধারে ক্ষমতাচ্যুত করে রাষ্ট্রক্ষমতা জোর করে দখল করেনি। একটা সাংধিানিক সরকারকে ১৯৮২ সালে রাতের আঁধারে ক্ষমতাচ্যুত করে রাষ্ট্রক্ষমতা জোর করে দখলকারী সেই স্বৈরাচার জেনারেল এরশাদ এখন আওয়ামী লীগের ক্ষমতা দখলের সবচেয়ে বড় মিত্র, সুতরাং আওয়ামী লীগের চরিত্রেও স্বৈরাচারের বৈশিষ্ট্য থাকাটাই স্বভাবিক।

আওয়ামী মহল থেকে এখন অভিযোগ করা হচ্ছে ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনে বি,এন,পি আসে নাই তাই নির্বাচন একতরফা হয়েছে, বিরোধী জোটের দাবী ছিল নির্বাচনকালে শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীত্বে আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারের পরিবর্তে একটা নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন – যা অবশ্যই একটা যুক্তিসংগত দাবী। যে কারণে বি,এন,পি জোট নির্বাচনে আসেনি তা দেশের মানুষের কাছে পরিস্কার থাকলেও আওয়ামী মহল তা জেনেও না জানার ভান করছে। তাদের দাবীর প্রশ্নে আপোষ বা মাথা নত না করে বিরোধী দল দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার অংগীকার, নীতি ও আদর্শকে সমুন্নত রেখেছে। এতে দলীয় নেতাকর্মীরা হতাশ হওয়ার পরিবর্তে আত্মবিশ্বাস ও দলীয় নীতি-আদর্শে আরো উজ্জীবিত হয়েছে। সরকার এও বলছে শরীক দল জামায়াতের বিরোধীতার কারণে ও চাপে বি,এন,পি নির্বাচনে আসেনি বা আসতে পারেনি। কত খোড়া ও হাস্যকর কথাবার্তা ! , শেখ হাসিনা যদি বিরোধী জোটের সাথে সমঝোতা করে একটা নির্দলীয়, নিরপেক্ষ বা সে নিজে প্রধান না থেকে একটা সর্বদলীয় সরকার গঠন করে নির্বাচন করত আর তখন যদি বি,এন,পি নির্বাচনে না আসত তবে এই অভিযোগ করা যেত। বরং এটা করা হলে বি,এন,পি জোটের সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহন করত একমাত্র জামায়াত ছাড়া, কারণ তাদের নিবন্ধন নাই বলে তারা নির্বাচনে আসতে পারতনা, তখন জামায়াত একঘরে ও তাদের আন্দোলন নিয়ে একা হয়ে যেত। বরং বলা যায় শেখ হাসিনার সরকারই কোন সমঝোতায় না গিয়ে বি,এন,পিকে নির্বাচন থেকে দূরে রেখেছে যাতে এখন এমন কল্পিত অভিযোগ করা যায়।

এখন শেখ হাসিনা ও তার দলের লোকরা বলছে বিরোধী দল নির্বাচন প্রতিহত করার কথা বলায় এবং নির্বাচনের দিন সহিংসতা করায় ৫ই জানুয়ারী ভয়ে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যায়নি। কথাটা হয়ত আংশিক সত্য, তাহলেত বিরোধীদল তাদের আন্দোলনে সফল হয়েছে বলা যায়, তারা নির্বাচন / ভোট প্রতিহত করতে পেরেছে।  কিন্তু ঢাকা শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল সবচেয়ে বেশী এবং ঢাকায় বিরোধী দলের আন্দোলন বা সহিংসতাও ছিলনা, তাহলে ঢাকায় ভোটারের উপস্থিতি কেন ৫-১০% হল ? শুধু তাই নয় দেশের ৪২টা কেন্দ্রে একটা ভোটও পড়েনি, সেসব এলাকায় কি সরকারী দলের একজন সমর্থক বা প্রার্থীরাও ছিলনা ? আসলে দেশের অধিকাংশ মানুষ সরকারী দলের অধীনে একতরফা নির্বাচন স্বেচ্ছায় বর্জন করেছে – এ সত্যটা শেখ হাসিনার দল মানতে চায়না। আর নির্বাচন প্রতিহত করার আন্দোলনের ঘটনা কি এ দেশে এবারই হয়েছে ?  এরশাদের সময় ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচনও প্রধান দলগুলো বর্জন ও প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছিল, ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্র“য়ারীর নির্বাচন আওয়ামী লীগ বর্জন ও স্পষ্ট ভাষায় প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছিল, এমনকি ২০০৭ সালের নির্বচনও আওয়ামী লীগ বর্জন ও প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু কোন নির্বাচনই প্রতিহত হয়নি, বাধাগ্রস্ত হয়েছে, গায়ের জোরে সব সরকারই নির্বাচন একটা করে সরকারও গঠন করেছিল, শুধু ২০০৭ সালে আওয়ামী লীগের সহিংস আন্দোলনের এক পর্যায়ে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করায় খালেদা জিয়ার ততকালীন কথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচন করতে পারেনি। এ ছাড়া উল্লেখিত অন্য সব নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার গ্রহনযোগ্য হয়নি এবং বেশীদিন ক্ষমতা ধরেও রাখতে পারেনি। সুতরাং নির্বাচন প্রতিহত করার কথা বলে অগনতান্ত্রিক আন্দোলনের ঘোষণা কেবল এবারই এবং শুধুু বি,এন,পিই দেয়নি। এমন ঘটনার ইতিহাস ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগও রচনা করে এসেছে।

সরকারী তরফ থেকে আরো বলা হয় বি,এন,পি নির্বাচনে আসলে নির্বাচন আরো সুন্দর ও গ্রহনযোগ্য হত, কথাটা আসলেই সত্য। কিন্তু শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখে তার দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে গেলে বি,এন,পি যদি হেরে যেত ( হেরে যাওয়ার সম্ভাবনাই ছিল বেশী ) তখন সরকারী দল বলত তারা সব দলের অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ন নির্বাচন করইে জিতেছে, তখন আর তাদেরকে অবৈধ সরকার বলা যেতনা। বরং নির্বাচনে না গিয়ে বিরোধী জোট হাসিনা সরকারের কপালে একটা কলংকিত ও প্রহসনের নির্বাচনের তীলক লাগিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। এটাই বিরোধী দলে নির্বাচনে না যাওয়ার সফলতা ও স্বার্থকতা। ২ নম্বরী নির্বাচন করে সরকার গঠন করলেও শেখ হাসিনা ও তার দলের লোকেরা মুখে যত কথাই বলুক অন্তর্জ্বালা ও হীনমন্যতায় তারা সারক্ষনই জ্বলছে। তদুপরি ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনে কি শুধু বি,এন,পিই আসে নাই ? দেশে ৪২টা দল নিবন্ধিত থাকা সত্তেও শুধুমাত্র হাসিনার মহাজোট সরকারে থাকা কয়েকটা দল ও হালুয়া-রুটির আশায় এক ব্যক্তির একদল বহুধা-বিভক্ত জাতীয় পার্টির নির্লজ্জ ও বেহায়া ( এরশাদের সাবেক সহচর হিসেবে ) আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং বি,এন,পিকে ভাঙ্গার কুমতলব নিয়ে সেবাদাস নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে রাতারাতি তৈরী করা বি,এন,এফ ছাড়া আর কোন দল হাসিনার প্রহসনের নির্বাচনে অংশ নেয়নি, এমনকি যারা বি,এন,পি জোটে নাই এবং আওয়ামী ঘরনার দল বলে পরিচিত সেই বামপন্থি কয়েকটা দলও এই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। যে কারণে ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন হয়েছে ভোটার ও প্রার্থীবিহীন নির্বাচন। এমন নির্বাচনের পর নির্লজ্জের মত সরকার গঠন করে শেখ হাসিনা গনতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নীতি-আদর্শ সব বিসর্জন দিয়ে কথিত ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগকে একটা স্বৈরাচারী দল হিসেবে বর্তমান প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে পরিচিত করেছে। সব দলের বিশেষ করে প্রধান বিরোধীদলের অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ন নির্বাচন করে যদি জিতে আসত তবে সেটা হত প্রকৃত বিজয় এবং কেবল তখনই নির্বাচিত হওয়ার এমন আত্মতুষ্টি ও গর্ব করার যৌক্তিকতা ও গ্রহনযোগ্যতা থাকত। খেলার মাঠে প্রতিপক্ষ দল যদি খেলতে না আসে তবে ফাঁকা মাঠেই গোল দিয়ে জয়লাভ করা যায়, কিন্তু সে জয়ে কি আত্মতৃপ্তি বা সন্তুষ্টি থাকে ?  তবে সেই জয়লাভকেও মেনে নেওয়া বা ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা যায়।  কিন্তু পরিবেশ অনুকূলে থাকায় ( রাষ্ট্রীয় সকল শক্তি ও প্রতিবেশী দেশের নির্লজ্জ সমর্থন ) কোন একটা দল যদি ছলে বলে কৌশলে ঐ খেলায় প্রতিপক্ষ দলকে মাঠে নামতে না দিয়ে ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে জয়লাভ করার ফন্দি ( যা সবার কাছে প্রকাশ্য ) আগেই করে বসে থাকে তবে সে জয়লাভ কি ফলাফল হিসেবে মেনে নেওয়া যায় ? ভবনের ফাউন্ডেশন যদি মজবুত না হয় অর্থাৎ তিন তলার ফাউন্ডেশনের উপর যদি ৫ তলা বানানো হয় তবে সে ভবন যেহেতু একসময় ধ্বসে পড়বেই সেহেতু অধিকাংশ জনগনের মেন্ডেট তথা ভোটের সমর্থন না নিয়ে যদি ৫ বছর ক্ষমতায় থাকার মানষিকতা নিয়ে সরকার গঠন করা হয় তবে সে সরকারের ভবিষ্যত ও আয়ূ:কালও যে কোনসময় নি:শেষ হয়ে যেতে পারে, ক্ষমতার নেশায় অন্ধ শেখ হাসিনা ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা তা ভাবতে অক্ষম।

শেখ হাসিনা ও তার দলের লোকেরা বরবরই বলে আসছিল সংবিধান মোতাবেকই তাদের নির্বাচন করা ছাড়া আর কোর বিকল্প ছিলনা। কিন্তু ৫ই জানুয়ারীর আগে আগের সরকারের মন্ত্রীদের পদত্যাগ প্রক্রিয়া, কথিত সর্বদলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা, নবম সংসদের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও এম,পিদের বহাল রেখে দশম সংসদ নির্বাচন করা, নির্বাচনের পর আগের এম,পিদের পদত্যাগ ও নবম সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া, উৎকোচ বা ঘুষ হিসেবে পছন্দমত আসন সংখ্যা ও মন্ত্রীত্ব দেওয়ার গোপন অংগীকার করে একটা অনুগত বিরোধী দল তৈরী করা, কথিত বিরোধী দলকে সরকারেও অন্তর্ভূক্ত রেখে নতুন মন্ত্রীসভা গঠন করার ক্ষেত্রে সংবিধানের কোন্ ধারা বা বিধি অনুসরন করা হয়েছে ?  শেখ হাসিনার ইচ্ছাতেই যা ইচ্ছা তাই করা হয়েছে ও হচ্ছে, অর্থাৎ শেখ হাসিনার ইচ্ছাটাই এখন আওয়ামী লীগের কাছে বাংলাদেশের সংবিধান। মূখে মূখে সবাই পাশ্চাত্যের গনতন্ত্রের উদাহরন দেয়, কিন্তু পৃথিবীর কোথাও কি উদাহরন দেওয়ার মত এমন বিরোধী দলের নজীর আছে ? যদি সব দলের অংশগ্রহনের ভিত্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ন নির্বাচনে জয়লাভ করে আসা কোন বিরোধী দলের বেলায় সরকারের তরফ থেকে এমন আত্মীয়তা করা হত তাও মেনে নেয়া যেত। দেশে কোন দূর্যোগপূর্ন পরিবেশও বিরাজমান নাই যে জাতীয় বা সর্বদলীয় সরকার গঠন করতে হবে। বর্তমান হাসিনা সরকারের যে সর্বদলীয় সরকারের কথা বলা হচ্ছে দেশের প্রায় ৪০% লোকের প্রতিনিধিত্বকারী দলের অংশগ্রহন ছাড়া এটা জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার হয় কিভাবে ? অথবা এ সরকারের প্রতি কি ৪০% লোকের প্রতিনিধিত্বকারী দলের সমর্থন রয়েছে ?  শেখ হাসিনা যদি এমন উদ্ভট ও প্রশ্নবিদ্ধ সরকার গঠন না করে “৪২ বছরের গনতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রমান হিসেবে” সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশে নির্বাচন বাদ দিয়ে বরং সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার গঠন করেই দেশ চালানোর ব্যবস্থা করত তবে হয়ত তাইই উত্তম হত ( ১৯৭৫ সালের তার পিতার বাকশালের মত )। তাহলে আর নির্বাচন করে শত শত কোটি টাকা অপচয় এবং নির্বাটনকে কেন্দ্র করে জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতিও আর হতনা।

সংবিধানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে সংসদ সদস্যরা  নির্বাচিত হবে সুষ্ঠু এবং জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে। দশম সংসদের সদস্যরা কি জনগনের প্রত্যক্ষ ভোট বা সরাসরি অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হয়েছে ( যে কারণেই হউক ) ? দশম সংসদ নির্বাচন কি সুষ্ঠু হয়েছে ? তাহলে সংবিধান মোতাবেক নির্বাচন হলো কোথায় ? যে কারণেই হউক ( প্রাকৃতিক দূর্যোগ বা অন্য প্রার্থীর মৃত্যুবরন ছাড়া ) ১৫৪ জন সংসদ সদস্য যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এবং বাকী ১৪৬ আসনের সদস্যরা যদি মাত্র ১০-১৫% ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয় তবে সে নির্বাচন কি গ্রহনযোগ্য ও গনতান্ত্রিক ? তাহলে যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, যে নির্বাচনে ভোটাররা সরাসরি ভোট দিয়ে সংসদ সদস্যদের নির্বাচিত করেনি, যে নির্বাচন গনতান্ত্রিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হয়নি সে নির্বাচন কিভাবে সংবিধান মোতাবেক হল ? যে নির্বাচন প্রধান বিরোধী দল বর্জন করেছে এবং একতরফা ও প্রহসনের নির্বাচন বলে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে, যে নির্বাচন সব দল বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দলের অংশগ্রহন ছাড়া হচ্ছে বলে এর গ্রহনযোগ্যতা ও গনতান্ত্রিক নির্বাচনের বৈশিষ্ট্য না থাকার কারণে যখন পৃথিবীর সকল গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সংস্থা তাদের পর্যবেক্ষক পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সরকার যদি রাষ্ট্রের সমস্ত শক্তি ও দলীয় সশস্ত্র ক্যাডারদের নিয়োজিত করে সম্পূর্ন গায়ের জোরে এমন একটা একতরফা ও প্রহসনের নির্বাচন করে তবে সে নির্বাচন কি সুষ্ঠু ও বৈধ নির্বাচন ? সংবিধানে নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন করতে হবে বলে বা নির্বাচন প্রহনযোগ্য হওয়ার ব্যাপারে ন্যূনতম ভোটার উপস্থিতির কথা সংবিধানে লেখা নাই বলে কি গায়ের জোরে প্রধান বিরোধী দলের অংশগ্রহন ছাড়া একতরফা এবং দেশের মানুষের ও সারা দুনিয়ার কাছে অগ্রহনযােগ্য ও যেন-তেন একটা লোক-দেখানো নির্বাচন করলেই তা সংবিধান, আইণসম্মত ও বৈধ নির্বাচন হয়ে যাবে ?  একটা সুষ্ঠু, গ্রহনযোগ্য ও গনতান্ত্রিক নির্বাচনের কি কোন স্বীকৃত মানদন্ড বা শর্ত নাই ?  শুধু নির্বাচনের দিন নির্বাচন নামক একটা নাটক মঞ্চস্থ করলেই কি তা সংবিধানসম্মত হয়ে যায় ? যদি তা না হয় তবে যুক্তি ও ন্যায়সংগত কারণে এই নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত সরকারও বৈধ ও গ্রহনযোগ্য হতে পারেনা। যতভাবেই বলা হউক “যদি কেউ নির্বাচনে না আসে তবে সরকার কি করবে”, “সরকার কি নির্বাচন না করে দেশে সাংবিধানিক সংকট তৈরী করবে” ? এই কথা বলে পার পাওয়া যাবেনা। বরং বলতে হবে, জানতে হবে, মানতে হবে কেন কেউ ( প্রধান বিরোধী দল ) নির্বাচনে আসলনা, কি কারণে নির্বাচন বর্জন করল, সবার অংশগ্রহনের জন্য কি সমঝোতায় পৌছা যেতনা ? নির্বাচন কি সংবিধান মোতাবেক ২৪শে জানুয়ারীর পরের ৯০ দিনে করা যেতনা ?  তার যৌক্তিক উত্তর খুজতে ও দিতে হবে, তবেই নির্বাচনের ও বর্তমান সরকারের বৈধতা ও গ্রহনযোগ্যতার যৌক্তিকতা পাওয়া যাবে।  নির্বাচনের পর প্রতিবেশী “বিশেষ বন্ধু” রাষ্ট্রসহ শুধু কয়েকটা দেশের স্বীকৃতি বা অভিন্দন যোগাড় করে আনতে পারলেই কি গায়ের জোরে প্রধান বিরোধী দলের অংশগ্রহন ছাড়া একতরফা এবং সারা দুনিয়ার কাছে অগ্রহনযােগ্য, প্রার্থীহীন, ভোটারহীন ও যেন-তেন একটা লোক-দেখানো নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তি সরকার সংবিধান, আইণসম্মত ও বৈধ হয়ে যাবে ? এ দেশে ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্টের পরের সরকারকেওতো তাৎক্ষনিকভাবে বহু দেশ স্বীকৃতি দিয়েছিল, ১৯৮২-৯০ সালের স্বৈর সরকারের সাথেওতো পৃথিবীর সব দেশ সম্পর্ক রেখেছিল, পাকিস্তানের জেনারেল পারভেজ মোশাররফের সরকার, ইসরাইল ও একসময়ের বিতর্কিত ও নিন্দিত দক্ষিন আফ্রিকার সরকারকেওতো পৃথিবীর বড় বড় গনতান্ত্রিক দেশ স্বীকৃতি দিয়েছিল ও তাদের সাথে সব রকমের সম্পর্ক রেখেছিল এবং এখনও রাখছে। এটা আন্ত-রাষ্ট্রীয় ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্কের একটা বৈশিষ্ট্য বা কূটনৈতিক শিষ্টচার। এই উদাহরন দেখিয়ে কি নিজ দেশে গায়ের জোরে প্রধান বিরোধী দলের অংশগ্রহন ছাড়া একতরফা এবং সারা দুনিয়ার কাছে অগ্রহনযােগ্য, প্রার্থীহীন, ভোটারহীন ও যেন-তেন একটা লোক-দেখানো নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তি সরকারকে বৈধ ও সাংবিধানিক বলা যাবে ? ক্লাশের সব ছাত্র-ছাত্রীর অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে পরীক্ষার সব নিয়ম-কানুন মেনে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করা আর অটো-প্রমোশন পেয়ে বা পেশী শক্তি দেখিয়ে বা “বড় মুরুব্বীর” সুপারিশ নিয়ে পাশ করার অর্থ ও মর্যাদা কি এক জিনিষ ?

শেখ হাসিনা আবারও নিজেই এবার ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন করে প্রমান দিল যে ক্ষমতায় থেকে নিজের দলীয় সরকারের অধীনে সরকার বদলের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়না। ৫ বছর ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে যেভাবে দলীয়করন করা হয়েছে নির্বাচনে তাদেরকে স্বীয় স্বার্থে সেভাবে কাজে লাগিয়েছে, ক্ষমতাসীন সরকার হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে স্বীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে পেরেছে, একতরফা ও অর্দ্ধেক ( মাত্র ১৪৬ টা ) আসনে নির্বাচন করার জন্য এত বাহিনী মাঠে থাকা সত্তেও সেনাবাহিনীকে নামানো হয়েছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার আগে থেকে শুরু করে তফসিল ঘোষণার পরেও নির্বাচনের ২ দিন আগ পর্যন্ত শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়েছে, নির্বাচন কমিশন কোন আপত্তি করেনি। আগের সরকার ও এম,পিরা সব বহাল থেকে পূর্ন ক্ষমতা ও দাপটের সাথে আর একটা নতুন নির্বাচনে অংশগ্রহন করার সুযোগ পেয়েছে, ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ায় বেপরোয়াভাবে বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট দিয়ে ৩০% এর উপরে ভোটার উপস্থিতি হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, প্রধান বিরোধী দল না থাকা সত্তেও সতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীরাও জেতার জন্য ভোটকেন্দ্র দখলসহ নির্বাচন সংক্রান্ত যত অনিয়ম ও কারচুপি আছে ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনে সবই করেছে। আর যদি প্রধান বিরোধী দল নির্বাচনে অংশগ্রহন করত তবে সরকারী দল জেতার জন্য ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনকে কারচুপির নির্বাচনের একটা মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে বাংলাদেশে নির্বাচনের নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করত। তা না হয়ে যদি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ একটা সরকারের অধীনে নির্বাচন হত তবে প্রধান বিরোধীদলসহ সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহন করত, ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারতনা, ভোটারের উপস্থিতিও ৮০-৯০% হত, দেশী – বিদেশী

সব জায়গা থেকেই পর্যবেক্ষরা আসত, অর্থাৎ সবার কাছে গ্রহনযোগ্য একটা অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমূখর নির্বাচন হত। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করায় নির্বাচনটা যেমন এর মূল্য ও মর্যাদা হারিয়েছে দেশের মানুষও ৫ বছর অপেক্ষার পর আনন্দঘন ও উৎসবমূখর পরিবেশে স্বতর্স্ফূত একটা নির্বাচন থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনের আগে তখন সংবিধানের দোহাই দিয়ে দশম সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংলাপের সময় নাই বলে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের লোকজন জোরালোভাবে যুক্তি দেখিয়েছিল। কিন্তু ৫ই জানুয়ারীর পর সরকার গঠন করে হাসিনা সরকার সেই আগের রূপে ফিরে গেছে, এখন আর একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে সহসা বিরোধী দলের সাথে আলোচনার আগ্রহ দেখাচ্ছেনা, এমনকি মন্ত্রীদের ( বিশেষ করে যারা বিগত সরকারে মন্ত্রী হয়ে ৫ বছর লুট-পাট করার সুযোগ পায়নি )  প্রায় সবাই বলাবলি করছে তারা ৫ বছরের জন্যই নির্বাচিত হয়েছে, সুতরাং ৫ বছরের আগে আর কোন নির্বাচন নয় এবং এ ব্যাপারে বিরোধী দলের সাথে কোন আলোচনাও নাই। মাঝে-মধ্যে নৈতিকতা বা বিবেকের ও সচেতন মানুষের চাপের মূখে পড়লে বলে আমরা আলোচনায় রাজী আছি তবে বিরোধী দলকে সহিংস আন্দোলন বাদ দিয়ে এবং জামায়াতকে ছেড়ে আসতে হবে, অর্থাৎ সরকার এখন আলোচনায় রাজী নয় বলে এবং এমন নির্বোচন করেও ৫ বছর ক্ষমতায় থাকার মানষিকতায় আছে বলে আলোচনার ব্যাপারে বিরোধী দলকে নতুন নতুন শর্ত দিচ্ছে – ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনের আগে যেসব শর্ত ছিলনা। বিরোধী দল ইতমধ্যে তাদের হরতাল ও অবরোধের কর্মসূচি স্থগিত করেছে এবং তাদের শীর্ষ নেত্রীসহ সব নেতারাই সরকারকে শীঘ্রই আলোচায় বসার অনুরোধ জানাচ্ছে। নির্বাচনী কৌশল হিসেবে জামায়াত বি,এন,পি জোটের সাথে ২০০১ সাল থেকেই আছে, এখনও আছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রশ্নে তাদের অবস্থান তাদের নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু নির্বাচনকালীন সরকারের দাবীর ব্যাপারে বি,এন,পি’র অবস্থান অনড় ও স্পষ্ট, সুতরাং এ ব্যাপারে সরকার চাইলে জামায়াতের প্রতিনিধি বাদ দিয়েই বি,এন,পি তার অন্য শরীকদের সাথে নিয়ে সরকারের সাথে আলোচনায় আসতে পারে। কিন্তু তা না করে সরকার শর্ত দিচ্ছে বি,এন,পিকে ১৯-দলীয় জোট থেকেই জামায়াতকে সম্পূর্ন বহিস্কার করে তারপরে আলোচনায় আসতে হবে। বি,এন,পি তার জোটে কাকে রাখবে বা কাকে অন্তর্ভূক্ত করবে এটা সম্পূর্নই বি,এন,পি’র নিজস্ব ব্যাপার বা এখতিয়ার, আলোচনার পূর্ব শর্ত হিসেবে সরকার বি,এন,পিকে এ ব্যাপারে বাধ্য করার জন্য চাপ দিতে পারেনা। এ দেশের জনগন যদি জামায়াতকে সাথে রাখলে বি,এন,পিকে পছন্দ না করে তবে জনগনই নির্বাচনে তার রায় দিবে, এটা আগে থেকে কেউ অরাজনৈতিক বা অগনতান্ত্রিকভাবে চাপিয়ে দিতে পারেনা। এছাড়াও শেখ হাসিনার সরকার আর এক নতুন সুর তুলেছে বি,এন,পিকে আগে বর্তমান সরকারকে বৈধ বলে স্বীকার করে তারপরে আলোচনায় আসতে হবে। উল্লেখ্য, সাংবিধানিক ও বৈধ সরকারের ব্যাপারে উপরে বর্নিত যুক্তি ও বিবেচ্য তথ্যের আলোকে বিরোধী দল রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারকে অবৈধ বলে আসছে। কিন্তু এটা সংলাপের ব্যাপারে বাধা বা শর্ত হবে কেন ? পৃথিবীর সব জায়গায় সব দেশে যা হয় তা হলো যদি কেউ কোন দেশ বা অন্যের জায়গা জোর করে দখল করে নেয় তবে সেই দেশ বা জায়গা পুনরুদ্ধার বা অবৈধ দখলকারীকেও উচ্ছেদ করতে হলে সমঝোতার জন্য তার সাথেই প্রয়োজনে আলোচনায় বসতে হয়-এটাই বাস্তবতা। বাংলাদেশেও এখন রাষ্ট্রীয় সর্বশক্তি নিয়োগ করে গায়ের জোরে একটা বিতর্কিত, একতরফা ও অগ্রহনযোগ্য নির্বাচন করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে বসে আছে যে সরকার তা বিরোধী দলের কাছে অবৈধ মনে হলেও তাকে উচ্ছেদ করতে হলে বা তার কাছ থেকে দাবী আদায়ের জন্য সমঝোতা করতে হলে সেই সরকারের সাথেই আলোচনা করতে হবে-এটা স্ববিরোধী আচরন বা অবস্থান হবে কেন ? আসল কথা হলো ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা ও তার দলের লোকজন যেমন বিরোধী দলের সাথে আলোচনা বা সমঝোতায় যেতে চায়নি এবং পুনরায় ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য বিরোধী দল তথা বি,এন,পিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে চেয়েছে তেমনি এখনও বিভিন্ন শর্ত আরোপ করে বিরোধী জোটের সাথে আলোচনা না করার কৌশল অবলম্বন করে শীঘ্রই আর একটা গ্রহনযোগ্য নির্বাচন না দিয়ে ৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পায়তারা করছে। সাথে সাথে নির্বাচন পরবর্তি সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমনের অভিযোগে কেবল জামায়াত-শিবির ও বি,এন,পিকে দায়ী করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ১৯৭১ সালের পাক দখলদার বাহিনীর মত যৌথ বাহিনী দিয়ে নিজ দেশের জনগনকে বিনা বিচারে বেপরোয়াভাবে হত্যা করে যাচ্ছে, ক্রসফায়ারের নামে প্রতিদিন বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের হত্যা ও গুম করা হচ্ছে। নির্বাচন পরবর্তি প্রত্যাশিত আলোচনার উদ্যোগ না নিয়ে শেখ হাসিনা বিরোধী দলকে দমন করার জন্য প্রতিদিন কঠোর থেকে আরো কঠোর হওয়ার হুংকার দিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ শেখ হাসিনা ও তার দলের বা জোটের লোকজনের বর্তমান অবস্থান ও মানষিকতা এবং আলোচনার ব্যাপারে বিরোধী দলের কাছে অপ্রত্যাশিত ও নতুন নতুন শর্ত দিয়ে একটা ২ নম্বরী নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছে, এটা আজ দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট – যা রীতিমত দেশবাসীর সাথে এমনকি তাদের নিজেদের সাথেও বাটপারী ও প্রতারনার সামিল।

শেখ হাসিনা ও তার দলের লোকেরা ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনের পর বিরোধী দলের সাথে নতুন নির্বাচনের জন্য আলোচনার উদ্যোগ না নিয়ে বরং নির্বাচনের আগের সুর ধরেছে, তারা সেই তাদের স্বভাবসূলভ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিরোধী দলকে আগের মত টিটকারী করে বলছে বি,এন,পি’র আন্দোলনের ফানুস ফুটা হয়ে গেছে, বি,এন,পি’র আন্দোলনের মুরদ দেশবাসী দেখেছে, ইত্যাদি, ইত্যাদি। তারা ও তাদের দোষররা বলছে বি,এন,পি’র আন্দোলনের সাথে সাধারন মানুষের সম্পৃক্ততা নাই বা ছিলনা বলে তাদের আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে। তাদের কাছে প্রশ্ন হলো জনগনের সম্পৃক্ততা বলতে তারা কি বুঝাতে চায় ? জনগন কি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মত সহিংসতা করার জন্য রাস্তায় নামলে জনগনের স¤পৃক্ততা বুঝায় ? তবে এটা অবশ্যই সত্য আওয়ামী লীগ, যুব লীগ, ছাত্র লীগ ও আওয়ামী যুব মহিলা লীগের মত বি,এন,পি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা  রাজপথে সন্ত্রাসী বা সহিংস কর্মকান্ড করতে অভ্যস্থ বা পারদর্শী নয়। বি,এন,পি নিয়মতান্ত্রিক, গনতান্ত্রিক, অহিংস ও শান্তিপূর্ন আন্দোলনে বিশ্বাসী ও অভ্যস্থ একটা দল, তাই রাজপথে তারা আন্দোলনে ততটা সক্রিয় ও তৎপর থাকতে পারেনা, তদুপরি এবারের আন্দোলন দমাতে সরকারী বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের বেপরোয়া গুলিবর্ষনের কারণে স্বভাবতই নেতা-কর্মীরা ইচ্ছা থাকলেও রাস্তায় নামতে পারেনি, এর উপর আগাম গ্রেফতারের ঘটনাতো ছিলই। ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে বি,এন,পি নেতারা আন্দোলনের সময় রাস্তায় নেমেছে, পুলিশের আঘাতে রক্তাক্তও হয়েছে, কিন্তু এবারের হাসিনা সরকার  তার পুলিশ ও র‌্যাব-বিজিবিকে নির্বিচারে গুলি করে আন্দোলনকারীদের হত্যা করার অনুমতি দিয়েছে । বিরোধী নেতা-কর্মীরা এবার হয়ত রাস্তায় নেমে আওয়ামী লীগ, যুব লীগ, ছাত্র লীগ ও আওয়ামী যুব মহিলা লীগের মত চরম সহিংসতা প্রদর্শন করতে পারেনি, কিন্তু তা বিরোধী দলের আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা নাই এটা প্রমান করেনা। বিরোধী দলের দাবী ছিল একটা নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, এই দাবীর সাথে বিরোধী দলের সকল নেতা-কর্মী বলতে গেলে সারা দেশের অধিকাংশ জনগনের সমর্থন ছিল, হাসিনা সরকার যদি এই ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন দিত বা বিরোধী দলের এই দাবীর প্রতি জনগনের সমর্থন আছে কিনা রেফারেন্ডাম দিয়ে তা যাচাই করত তবে বুঝতে পারত বিরোধী দলের আন্দোলন তথা দাবীর প্রতি দেশের অধিকাংশ জনগনের সম্পৃক্ততা আছে কি নাই, রাজপথের সন্ত্রাস বা সহিংসতায় লোসমাগমকে জনসম্পৃক্ততা বলা যায়না-যে কাজে কেবল আওয়ামী লীগই অভ্যস্থ ও পারদর্শী। বি,এন,পি, এর নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা সন্ত্রাসী নয়, কিন্তু আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী, অগনতান্ত্রিক ও আক্রমনাত্মক আচরন এ দেশর সকল দল ও জনগনকে হয়ত সহসাই সন্ত্রাসী হতে বাধ্য করবে। আওয়ামী মহল থেকে যখন বলা হয় বিরোধী জোটের জনসম্পৃক্তা নাই, তাহলে তারা ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনে ১০-১৫% এর বেশী ভোটার উপস্থিতি হতে দিলনা কেন ? অপরদিকে আওয়ামী জোটের যদি জনসম্পৃক্ততা বি,এন,পি জোাটের চেয়ে বেশী হয়ে থাকে তবে ভোটের দিন তারা ভোট কেন্দ্রে যায়নি কেন ? বিরোধী জোটের সহিংসতার ভয়ে ? বিরোধী জোটের সহিংসতা দমনের জন্য ভোটের দিনত ( মাত্র ১৪৬ আসনে ) পুলিশ, র‌্যাব, বি,জি,বি, অনসার এমনকি সেনাবাহিনীসহ প্রায় ৫ লাখ অত্যাধুনিক অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত প্রশিক্ষিত  বাহিনী মাঠে ছিল, এছাড়া সরকার দলীয় সশস্ত্র ক্যাডাররাও ছিল, তা সত্ত্বেও আওয়ামী জোট ভোটের দিন তাদের জনসম্পৃক্ততা প্রমান করতে তথা অধিক সংখ্যক ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারলনা কেন ? বিরোধী জোটের সমর্থকদের হাতেতো তাদের মত এত আধুনিক অস্ত্রসস্ত্র ছিলনা। সরকারের রাষ্ট্রীয় সকল সশস্ত্র বাহিনী ও তাদের ছত্রছায়ায় সশস্ত্র দলীয় ক্যাডারদের যদি রাস্তায় ও মাঠে লেলিয়ে দেওয়া না হত তবে বিরোধী জোটের জনসম্পৃক্ততা আছে কি নাই প্রমান করা যেত।

বর্তমান শেখ হাসিনার দালাল ও স্বার্থান্বেষী মহল বলছে ৫ই জাুনুয়ারী যখন একটা নির্বাচন হয়েই গেছে এবং সরকারও গঠিত হয়ে গেছে সুতরাং তড়িঘড়ি করে এই মূহুর্তে দেশে আর একটা নির্বাচন দেওয়ার বা ব্যবস্থা করার কোন প্রয়োজন নাই, তাদের কুপরামর্শ হলো সরকারের উচিত এখন দেশের আইণ-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দেশের অবস্থা স্থিতিশীল রাখার দিকে মনযোগ দেওয়া। কিন্তু এসব স্বার্থান্বেষী জ্ঞানপাপীরা বুঝেও বুঝতে চায়না ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনের আগে দেশে আইণ-শৃংখলা পরিস্থিতি ও স্থিতিশীলতা কেন ও কি কারণে বিনষ্ট হয়েছিল। বিরোধী জোটের সাথে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে ৫ই জানুয়ারীর আগে কি সমঝোতা হয়ে গিয়েছিল ? নির্বাচনটা কি সর্বদলের অংশগ্রহনের ভিত্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ন হয়েছিল ? বিরোধী জোট কি নির্বাচনটা মেনে নিয়েছিল ? অর্থাৎ আইণ-শৃংখলা পরিস্থিতি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হতে পারে এমন করণগুলো কি দূর হয়ে গেছে ? বিরোধী দলের সাথে কি সংকট নিরসন হয়ে গেছে ? যদি তা না হয়ে থাকে তবে গায়ের জোরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর ( নির্বাচনের আগের প্রতিশ্র“তি বা ঘোষণা মোতাবেক ) এখন সরকার যদি শীঘ্রই আর একটা নতুন নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য এখনই বিরোধী জোটের সাথে আলোচনায় না বসে ( ৫ বছরের জন্য ক্ষমতায় বসে গেছি মনে করে ) দেশ পরিচালনার দিকে মনোযোগ দেয় তবে বিরোধী জোট কি বসে বসে তামাসা দেখবে বা আঙ্গুল চুষবে ?  সরকারের স্বৈর শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তারা কিছু করতে পারুক বা না পারুক দেশকে অস্থিতিশীল ও জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ধ্বংশের দিকে নিয়ে যেতে বাধ্যত হবেই। এ অবস্থা কি বর্তমান সরকারকে নির্বিঘেœ দেশ চালাতে দিবে ? দেশের শান্তি-শৃংখলা ও স্থিতিশীলতার পূর্বশর্তই হলো যে রাজনৈতিক সমঝোতা বা স্থিতিশীলতা স্বার্থান্বেষী দালাল গোষ্টি কি এটা বুঝতে অক্ষম, নাকি মনে করছে স্বৈরাচারী কায়দায় শক্তি প্রয়োগ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা যাবে ? আসলে এরা বুঝেও সরকারকে এমন আত্মঘাতি ও দেশ-বিরোধী কুপরামর্শ দিচ্ছে, এমন কুপরামর্শ দিয়ে সেই সময়ের দালালরাও শেখ মুজিবকে স্বৈরাচারী ও বাস্তববর্জিত পন্থায় দেশ চালাতে উৎসাহিত করেছিল। এখন তার কন্যা শেখ হাসিনাকেও একই পথে ধাবিত করার অপ্রপয়াস চালাচ্ছে। শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে বুঝতে হবে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যানের জন্য সবার আগে এই মূহুর্তের সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন দেশের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করা এবং তা করতে হবে রাজনৈতিক তথা গনতান্ত্রিক পথে ও ভাষায়, শক্তি প্রয়োগ করে ( র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও কোন বিশেষ বন্ধু রাষ্ট্রের সহায়তায় )  কোন সমাধান হবেনা। পৃথিবীর কোন শাসকই কেবল নিজের কিছু সমর্থকের উপর ভর করে বা কোন বিশেষ বন্ধু রাষ্ট্রের সহায়তায় দেশের অধিকাংশ মানুষের মতামত বা গনতান্ত্রিক মূল্যবোধকে বিসর্জন দিয়ে শেষ পর্যন্ত শক্তি প্রয়োগ করে বেশীদিন ক্ষমতায় থাকতে পারেনি এবং খুবই জঘন্য ও নির্লজ্জ পরিনতির মধ্য দিয়ে বিদায় নিতে হয়েছে ( তার প্রমান খুজতে হলে বেশী দূরে বা পেছনে যেতে হবেনা) । এত করে যখন ঢাক-ঢোল পেটানো হচ্ছে যে বিগত ৫ বছর মহাজোট সরকার দেশের অভূতপূর্ন উন্নয়ন করেছে, জনগন যখন তাদের ভাষায় যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রশ্নে হাসিনা সরকারের পেছনে সব ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেছে তাহলে জনগনইতো ঐ সরকারকে আবার ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসাবে, জনগনের উপর যদি সত্যিই আস্থা থাকে তবে শেখ হাসিনার উচিত নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বহাল রেখে তার দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন না করে একটা নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করে জনপ্রিয়তা যাচাই করা। বি,এ,পি জোট আবার ক্ষমতায় আসলে এ দেশে জঙ্গীবাদ কায়েম হবে, দূর্নীতি হবে – এ জুজুর ভয় দেখিয়ে বিরোধী দলকে নির্বাচনের বাইরে রেখে একতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতা ধরে রাখতে হবে-এটা কোন গনতান্ত্রিক মানষিকতা নয়, এটা হলো অগনতান্ত্রিক স্বৈরাচারী মানষিকতা। শেখ হাসিনার বিগত ৫ বছরে তার যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কি এ দেশে জঙ্গীবাদের চেয়েও আরো ভয়ংকর সন্ত্রাসবাদ কায়েম করেনি ?  তার বিগত আমলে র‌্যাব-পুলিশের গুম ও ক্রস-ফায়ারের ঘটনা কি মানবতাবিরোধী জঙ্গীবাদের চেয়ে কোন অংশে কম ? তার সরকারের বিগত আমলে বড় বড় র্দূর্নীতির ঘটনা ঘটেছে, তার মন্ত্রীরা ও এম,পিরা যে দূর্নীতি করেছে তার প্রমানতো তারা নিজেরাই দিয়েছে এবং তাদের বিচারের জন্য তদন্তও শুরু হয়েছে।  কাজেই জনগনের নাম ভাঙ্গিয়েই যখন রাজনীতি করা হয় এবং জনগনের উপর যদি সত্যিকার আস্থা থাকে তবে জনগন কাকে ক্ষমতায় বসাবে কাকে ক্ষমতা থেকে সরাবে এর বিচারের ভার নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের  ব্যবস্থা করে জনগনের উপরই ছেড়ে দেওয়া  হলো ক্ষমতাসীন একটা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব ( যেহেতু সংবিধান অনুযায়ী জনগনই হলো সার্বভৌম ও রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক ) ও গনতান্ত্রিক সংস্কৃতির দায়বদ্ধতা। যদি জনগন তার বিগত সরকারের উন্নয়নের ধারা ও যুদ্ধাপরাধের বিচারের কাজ অব্যাহত রাখতে চায় তবে শেখ হাসিনার দলকেই আবার ভোট দিয়ে জিতায়ে আনবে, তাহলে ৫ই জানুয়ারীর প্রশ্নবিদ্ধ ও প্রহসনের নির্বাচনের কলংক থেকেও তারা মুক্ত  হতে পারবে, দেশেও শান্তি-শৃংখলা ফিরে আসবে।

লেখক : জাহিদ হাসান, রিয়াদ, সউদী আরব।

You Might Also Like