বগুড়ায় শিশু হত্যার রহস্য উদঘাটন : ঘাতক গ্রেফতার

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় আড়াই বছরের শিশু মিজান হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ঘাতককে গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

বগুড়ার সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) গাজিউর রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে দুপচাঁচিয়া থানার পুলিশ বুধবার বিকেলে ঘাতক হাসান আলীকে গ্রেফতার করে। নিহত শিশু মিজানের পিতার সাথে ইট ভাটায় ভ্যান চালানোকে কেন্দ্র করে ৬ বছর আগের বিরোধের প্রতিশোধ নিতেই হাসান আলী শিশু মিজানকে খুন করে। গ্রেফতারকৃত রেবেকা ও তার মা আমেনা বৃহস্পতিবার দুপুরে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।

জানাগেছে, সোমবার রাতে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার পোড়াঘাটা থেকে আড়াই বছরের শিশু মিজান সাকিদারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই পুলিশ রেবেকা ও তার মা আমেনাকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে খুলে বলে।

মা ও মেয়ে পুলিশকে জানায়, প্রায় ৬ বছর পূর্বে রেবেকাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে হাসান আলী পালিয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। কিন্তু রেবেকার বাবা বিয়ে মেনে নেয়নি। এনিয়ে জামাই-শ্বশুরের বিরোধ চলে আসছিল। অন্যদিকে শিশু মিজানের বাবা আব্দুল মান্নানের সাথে দেড় বছর পূর্বে একটি ইট ভাটার ইট ভ্যানে করে বহন করা নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়েছিল। হাসান শিশু মিজানকে হত্যা করে লাশ শ্বশুরের শোবার ঘরে পুঁতে রেখে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চেয়েছিল।

সোমবার বিকেলে হাসান তার শ্বশুর বাড়িতে যায়। এসময় তার বউ রেবেকা ছাড়া শ্বাশুড়ী বা শ্বশুর কেউ বাড়িতে ছিল না। হাসান তার বউকে কৌশলে বাড়ির বাইরে পাঠিয়ে পাশেই খেলতে থাকা শিশু মিজানকে ঘরের মধ্যে ডেকে নেয়। এরপর তার অ-কোষ এবং গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর ঘরের ভিতরে গর্ত করে লাশ পুঁতে রেখে ধান দিয়ে ঢেকে দেয়।

রেবেকা পুকুর থেকে ফিরে এসে দেখে হাসান ঘর্মাক্ত শরীরে ছটফট করতে করতে বের হয়ে যাচ্ছে। সে তাকে জিজ্ঞেস করতেই সে কোন উত্তর না দিয়ে দ্রুত চলে যায়। রেবেকা ঘরের মেঝেতে ধান সরিয়ে মাটি খনন করা দেখে তার সন্দেহ হয়। সে একটু মাটি সরাতেই মিজানের পা বের হয়ে পড়ে। এরপর সে ভয় পেয়ে দ্রুত আবার মাটি দিয়ে পা ঢেকে শ্বশুর বাড়িতে চলে যায়। শ্বাশুড়ীকে তার মাকে ডেকে আনতে বললে তার শ্বাশুড়ী রেবেকার মাকে ফোন করে নিয়ে আসে। ইতোমধ্যেই শিশু মিজান নিখোঁজের বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেল গ্রামবাসী পাহারা বসায়। সারারাত পাহারা থাকায় তারা লাশ বাড়ির বাইরে নিতে পারেনি। রেবেকার মা আমেনা মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে লাশ বাড়ির সামনে খেজুর গাছের নীচে ফেলে আসে।

খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে মিজানের মৃতদেহ পাওয়া যায়। এরপর পুলিশ মিজানের লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে। এঘটনায় মিজানের বাবা আব্দুল মান্নান বাদি হয়ে রেবেকার বাবা ইন্তেজার ও রেবেকার নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা হত্যাকা-ের বিষয় স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দেয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদেরকে জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এটিএম তোফায়েল আহমেদ এর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করে।

এদিকে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধায় এএসপি (বি-সার্কেল) গাজিউর রহমানের নেতৃত্বে দুুপচাঁচিয়া থানার পুলিশ শিশু মিজানের ঘাতক হাসান আলীকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে শিশু মিজান হত্যার পাশাপাশি ২০১৩ সালের ২৪ জুলাই দুপচাঁচিয়া উপজেলার পরানপুর গ্রামের ৫ বছরের শিশু আরাফাত হত্যার কথাও স্বীকার করে।

You Might Also Like