বার কাউন্সিলের নির্বাচন হবে ১৩ আগস্ট

আইনজীবীদের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচনের জন্য ১৩ আগস্ট দিন নির্ধারণ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে তা প্রকাশ করতে বলেছে আপিল বিভাগ।

বার কাউন্সিল ও কয়েকজন প্রার্থীর আবেদনের শুনানি করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।

আদেশে বলা হয়, বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান (অ্যাটর্নি জেনারেল) ও কাউন্সিলের সচিবকে ভোটার তালিকা পর্যালোচনা করে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে তা প্রকাশ করতে হবে।

নির্বাচন হওয়ার আগ পর্যন্ত বর্তমান কমিটিই কাজ চালিয়ে যাবে বলে কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন জানান।

এরআগে আগামী ২৭ মে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করে আদেশ দেন বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

একই সঙ্গে বার কাউন্সিল নির্বাচনের জন্য ঘোষিত তফসিল কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং ২০০৩ সালে সংশোধিত বার কাউন্সিল অধ্যাদেশের ৩ ধারা কেন অবৈধ ও সংবিধানের সাথে সংঘর্ষিক হবে না-তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুলও জারি করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুস আলী আকন্দের আলাদা দুটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত স্থগিতাদেশসহ এই রুল জারি করেন।

একই দিনে হাইকোর্টের ওই আদেশ বাতিল চেয়ে বার কাউন্সিলের সচিব ও তিন প্রার্থী চেম্বার বিচারপতির কাছে আলাদা দু’টি আবেদন করেন। এরপর আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন চেম্বার বিচারপতি।

আইনজীবী ড. আকন্দ জানান, গত ১৭ মে পৃথক ওই রিট আবেদন দুটি করা হয়। ভোটার তালিকায় ত্রুটি ও তা সময়মতো প্রকাশ না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বার কাউন্সিল নির্বাচনের তফসিল অবৈধ ঘোষণা চেয়ে একটি আবেদন করা হয়। অপর আবেদনে তিনি বার কাউন্সিল (সংশোধিত) আইন, ২০০৩-এর ৩ ধারা অবৈধ ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা চান।

গত ২৫ মার্চ বার কাউন্সিল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও ৯ এপ্রিল ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়, যাতে ভোটার সংখ্যা দেখানো হয় ৪৮ হাজার ৪৬৫ জন। ২০ মে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তবে ভোটার তালিকায় ত্রুটি ও একই নাম একাধিকবার থাকার অভিযোগ জানিয়ে কাউন্সিলের নির্বাচিত পাঁচ সদস্য এবং ১০১ জন আইনজীবী ২৯ এপ্রিল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সচিবকে চিঠি দেন। এতে অভিযোগ করা হয়, আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলেও কাউন্সিল নিজস্ব নথির সাহায্য না নিয়ে আইনজীবী সমিতিগুলোর পাঠানো সদস্য তালিকা ধরেই ভোটার তালিকা তৈরি করেছে। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ১২ মে কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল বিশেষ সভা ডাকেন, যাতে নির্বাচন সাত দিন পিছিয়ে ২৭ মে করা হয়।

You Might Also Like