কারাবন্দি বিএনপির শীর্ষ নেতাদের স্লো-পয়জন দেয়ার অভিযোগ!

কারা অভ্যন্তরে থাকা শীর্ষ কয়েকজন নেতাকে স্লো-পয়জন দেয়ার অভিযোগ করেছেন বিএনপির নেতারা। কারবন্দি নেতাদের নিয়ে শঙ্কিত রয়েছে দলটি। বিষয়টি দলের প্রধান বিএনপি চেয়ারর্পাসন বেগম খালেদা জিয়াও অবগত রয়েছেন বলে জানা গেছে। এসব শীর্ষ নেতাদের পরিবারসহ বিভিন্ন সূত্র বেগম জিয়াকে অবহিত করেছেন । ইতিমধ্যে দু’একজন কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়া নেতাদের শরীরে স্লো-পয়জনের অস্তিত্ব মিলেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়া যুবদলের সভাপতি আ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। মেডিকেল চেকআপের পর ডাক্তার বলেছেন ইলেক্টরাল ইনব্যালেন্সর জন্য তার এ ধরনের সমস্যা হয়েছে। আলাল চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলেন, ‘ইলেক্টরালাইটিং ইন ব্যালেন্সর সমস্যা হয় সাধারণত খাবার অনিয়মে এবং শরীরে স্লো-পয়জনের জন্য। কিন্তু কারাগারে থাকা অবস্থায় খাবার নিয়ে কোন অনিয়ম তিনি করেননি বলে জানান এই প্রতিবেদককে। তিনি বলেন,কারাগার থেকে সরবরাহ করা খাবারের সাথেই হয়তো স্লো পয়জনটা তার শরীরে এসেছে।

স্লো পয়জনে শরীরের রোগের উপসর্গ নিয়ে কথা বলেছেন একাধিক চিকিৎসক। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিওরোলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর এহসান মাহমুদ বলেছেন, স্লো-পয়জনে মাথা ঘুরাতে পারে। এটা খুবই স্বাভাবিক উপর্সগ। তবে এ ধরনের কোন কেইস স্টাডি আমাদের কাছে কখনো আসেনি। তাই এ নিয়ে খুব বেশি বলতে পারবো না।

ডা. এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ড্যাবের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব সহযোগী অধ্যাপক মো.রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেছেন , স্লো -পয়জনে ইলেক্ট্রোলাইটিং ইন ব্যলেন্সটা থাকতে পারে। এতে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়াসহ কিডনী এবং লিভার খারাপ হয়ে যেতে পারে। এমনকি ফুডের মাধ্যমে যদি আর্সেনিক পয়জনটা দেয়া হয় তাহলে পেট খারাপ থেকে শুরু করে ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।

ড্যাবের অপর কয়েকজন চিকিৎসক বলেছেন, কারান্তরীণ এসব নেতাদের সব রোগের একই উপসর্গ। বিষয়টি সাধারণ রোগের সাথে মেলানো যাচ্ছে না। তারা সৈয়দ মোয়াজ্জম হোসেন আলালের চিকিৎসা করে আরো গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এমনকি বিএনপি নেতা নাসিরুদ্দিন পিন্টুর মৃত্যুর আগে মাথা ঝিমঝিম করাসহ একই উপর্সগের জন্য বিএনপির মধ্যে আশঙ্কা আরো বেড়েছে।

এ নিয়ে বাংলাদেশে দ্বিতীয় দফায় রাজবন্দিদের খাবারের সাথে স্লো-পয়জন মেশানোর অভিযোগ পাওয়া গেল। এর আগে ওয়ান ইলেভেনের সময় আটক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছিলেন তার খাবারের স্লো-পয়জন দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমেকে বলেছিলেন, এ সময় তার মাথা ঝিম ঝিম করতো এবং চোখের সমস্যা শুরু হয়েছিল।
দুই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা হয় স্লো পয়জন নিয়ে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কারান্তরীণ নেতাদের স্লো-পয়জন দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানান কয়েকজন বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা। আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের আহবায়ক প্রফেসর এমাজ উদ্দিন আহমদ বলেন, শীর্ষ নেতাদের কয়েকটি পরিবার অভিযোগ করেছে স্লো-পয়জনের ব্যাপারে। সে বিষয় নিয়ে বিএনপি চেয়ারর্পাসনের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তিনি বিষয়টা জানেন।

আমরা বিএনপির এসব নেতাদের নিয়ে প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তায় রয়েছি। মহাসচিবের মতো জাতীয় পর্যায়ের একজন নেতাকে যখন ময়লার গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে মামলায় রিমান্ডে নেয়া হয় ;তাদের দিনের পর দিন রিমান্ডে নিয়ে টরচার করা হয়। তখন স্লো-পয়জনটা খুব স্বাভাবিক প্রক্রিয়া সরকারের কাছে। কারান্তরীণ নেতাদের নিয়ে দল এবং তাদের পরিবারগুলো খুবই উৎকণ্ঠা আর উদ্বিগ্ন রয়েছে। এমনকি এসব নেতাদের এত দূরে রাখা হয়েছে যে পরিবার ইচ্ছা করলেই তাদের দেখা পান না। তাদের স্বাস্থ্যের খবর নিতে পারেন না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে.জেনারেল মাহবুবুর রহামন (অব) বলেছেন, যেভাবে জেল জুলুম চলছে শীর্ষ নেতাদের ওপরে তাতে এসব কোন কিছুই অসম্ভব নয। এটা অসম্ভব আর অবিশ্বাসের কিছু নয়। তবে সাংবাদিকদের উচিত এ নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইজিপির সঙ্গে কথা বলা। সরকারের কাছে গণমাধ্যমের প্রশ্ন রাখা উচিত কেন তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। তাহলেই সব উত্তর বেরিয়ে আসবে।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আ.স.ম হান্নান শাহ বলেছেন, অতীতেও স্লো-পয়জনে বিরোধী রাজনীতিকদের হত্যা ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটেছে। এখনো তো এর ব্যতিক্রম নয়। আর তা না হলে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের কেন এত ওজন কমে গেল? কেন তিনি কিছু মনে করতে পারছেন না? কেন ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন মাথা ঘুরে পড়ে যাবেন? সবাই জানে ইয়াসির আরাফাতকে কিভাবে খাবারের সাথে স্লো-পয়জন দেয়া হয়েছিল। ভারতেও রেকর্ড রয়েছে। যেখানে জেল -জুলুম চলছে,গুম খুন চলছে তাতে এসব ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। আমরা জানি সৈয়দ মেয়াজেজ্ম হোসেন আলাল অসুস্থ হাসপাতালে। তিনি দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো.শাহজাহান খান বলেন, কারান্তরীণ নেতাদের ওপরে যেভাবে নির্যাতন চলছে তা অমানবিক। তাদের মৌলিক অধিকার চিকিৎসা সেবা পাওয়া সেটাই দিচ্ছে না। বরং অসুস্থ নেতাদের মাসের পর মাস রিমান্ড চলছে।সরকারের যদি সৎ সাহস থাকে তাহলে বিএনপির এসব নেতাদের মুক্তি দিয়ে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করুক সরকার।

এদিকে এসব ব্যাপারে ফোন করলে আইজি (প্রিজন) ফোন রিসিভ করেননি।

You Might Also Like