বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত ৫ উপজেলা চেয়ারম্যান বরখাস্ত

ফৌজদারি মামলা থাকায় নাটোর, বগুড়া ও ময়মনসিংহে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত পাঁচ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। আজ সোমবার এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

বরখাস্ত হওয়া জনপ্রতিনিধিরা হলেন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ একরামুল আলম এবং নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ, বগুড়ার শেরপুর পৌরসভার মেয়র ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক স্বাধীন কুমার কুণ্ডু এবং বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক সেক্রেটারি মো. আবদুস ছামাদ।

নাটোরের দুই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে বরখাস্তের আদেশ আজ সোমবার জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে পাঠানো হয়। বাকি তিন জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন আজ সোমবার দুপুরে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা হয়। বিকেলের মধ্যে তা বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবদুল মালেক আজ সাংবাদিকদের জানান, নাশকতা ও সন্ত্রাসের অভিযোগে এই জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত করা হয়েছে। যাঁদের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত, হবে তাঁদের বরখাস্ত করা হবে।

বড়াইগ্রামের বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান একরামুল আলম জানান, তাঁকেসহ দুজনকে বরখাস্তের আদেশের চিঠি পেয়েছেন। এর বিরুদ্ধে তিনি আদালতে যাবেন।

নলডাঙ্গা উপজেলার চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন জানান, তিনি এখনো বরখাস্তের চিঠি পাননি।

যোগাযোগ করা হলে গৌরীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা তায়েবুর রহমান হিরণ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বরখাস্তের আদেশের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। বরখাস্ত হয়ে থাকলে তা রাজনৈতিক কারণে হয়েছে। আমি এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।’

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গৌরীপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দূর-রে-শাহয়াজ বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করার আদেশের কপি জেলা প্রশাসনে এসেছে বলে জানতে পারে পেরেছি।’

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী শেখ জানান, বরখাস্ত উপজেলা চেয়ারম্যানের নামে থানায় অস্ত্র, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দ্রুত বিচার আইনে কমপক্ষে ১০টি মামলার পলাতক আসামি তিনি।

এদিকে বগুড়ার শেরপুরের ইউএনও এ কে এম সরওয়ার জাহান ও শিবগঞ্জের ইউএনও রবিউল ইসলাম জানান, শেরপুর পৌরসভার মেয়র স্বাধীন কুমার কুণ্ডু এবং শিবগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস ছামাদকে সাময়িক বরখাস্ত করার আদেশ তাঁরা পেয়েছেন।

এর আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতাসহ বিভিন্ন মামলা থাকায় বিএনপি সমর্থিত একাধিক উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরকে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।-এনটিভি

You Might Also Like