দেশের ভবিষ্যত কি, উত্তর জানা নেই বি. চৌধুরীর

তিন সিটিতে অনুষ্ঠেয় ২৮ এপ্রিলের নির্বাচনকে ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেছেন বিকল্পধারার সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘এটিকে একটি নির্বাচন বলতে হবে! ভয়াবহ নির্বাচন, কঠিন নির্বাচন। এভাবে চলতে থাকলে দেশের ভবিষ্যৎ কি? আল্লাহই ভালো জানেন, আমার জানা নেই।’
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বি. চৌধুরী এসব কথা বলেন। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজক ভাসানী অনুসারি পরিষদ।
বিকল্পধারা সভাপতি বলেন, ‘দেশ যেভাবে চলছে, এটি চলতে থাকলে ক্ষমতাসীনরাই বারবার ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু কিছুই করা যাবে না। তবে ইতিহাসের শিক্ষা হচ্ছে, এভাবে কেউ টিকতে পারে না। সরকার যদি বিষয়টা নিয়ে ভাবতেন তবে সবচেয়ে ভালো হতো।’
তিনি বলেন, ‘এ দেশের মানুষ দেখেছে কিভাবে সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ বললেন- দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। এভাবেই ভবিষ্যতেও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। যদি এভাবেই চলতে থাকে আর একই পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়, তবে দেশের ভবিষ্যত কী?’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন বাংলাদেশ সফরে ফারাক্কার পানি ইস্যুর মীমাংসা দাবি করে বি. চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করছেন মোদি। ছিটমহলে যে সমস্যার সমধান সম্প্রতি হলো, এটাকে কিছু মানুষের সংখ্যার হিসেবে ফেললে চলবে না, কতগুলো মানুষের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণার অবসান হলো সেটা ভাবতে হবে।’
তিনি এজন্য মোদিকে ধন্যবাদ জানান। তবে এবারের মোদির বাংলাদেশ সফরে ফারাক্কার পানি ইস্যু যেন এক নম্বর ইস্যু হয়, সেটিও উল্লেখ করেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, ‘ভারতসহ সব দেশের সঙ্গেই আমরা সুসম্পর্ক চাই। কিন্তু সে সম্পর্ক যেন মাথানত করে না হয়।’
সাগরে ভাসমান অভিবাসীদের ব্যাপারে বি. চৌধুরী বলেন, ‘দেশের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। নেপালের ভূমিকম্পে সরকার যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। কিন্তু সাগরে যে ১০,০০০’র বেশি মানুষ ভাসছে, তাদের জন্য সরকারের তৎপরতা কি?’
তিনি বলেন, ‘এদের উদ্ধার করতে সরকার কি একটা উড়োজাহাজ পাঠিয়েছে? এ অবস্থায় ভাসানী থাকলে তিনি একটি উড়োজাহাজের দাবি করে বলতেন- আমাকে ওখানে পাঠানোর ব্যবস্থা কর।’
তিনি আরো বলেন, ‘সাগরে যা হচ্ছে, তা আমাদের জন্য লজ্জার। অনেকে বলতে পারেন, তারা রোহিঙ্গা কিন্তু তারা কি মানুষ না? জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ক্যাম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া সাহায্য করতে পারে অথচ আমরা কি করলাম? এটা লজ্জার।’
বিকল্পধারার সভাপতি বলেন, ‘মায়ের ছেলেরা সমুদ্রে ভাসছে, ডুবে মরছে। অথচ সরকারের কোনো মন্ত্রী সমুদ্রে গেলেন না। মালয়েশিয়া বা থাইল্যান্ডে গেলেন না। এটা খুবই লজ্জার। সরকারের অন্তত তিনজন মন্ত্রীকে অবশ্যই যাওয়া উচিত ছিল। উচিত ছিল নৌ-বাহিনীকে পাঠানো, হেলিকপ্টার পাঠানো।’
ভাসানী অনুসারি পরিষদের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. জসীম উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, কলামিস্ট কাজী সিরাজ, সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নূরুল আমিন বেপারী প্রমুখ।

You Might Also Like