দিনদুপুরে ঢাকায় র‌্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে ২ ব্যক্তি নিহত

রোববার দুপুরে কদমতলী এলাকায় নিহত ওয়াসিম (৫০) ও সংগ্রাম (৪৫)অপহরণকারী ছিলেন বলে দাবি করেছে র‌্যাব। তবে ভিন্ন বক্তব্য এসেছে নিহতের পরিবারের কাছ থেকে।

এই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বাহিনীর তিন সদস্য আহত হয়েছেন বলে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরে র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

তবে তাদের কোথায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে এবং আঘাতের মাত্রা কী, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যান র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার গোলাম সারোয়ার।

‘বন্দুকযুদ্ধ’ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বক্তব্যের দিনই কদমতলীর এই ঘটনা ঘটল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাগুলোকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অভিহিত করে তার ব্যাপক সমালোচনা করে আসছে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর।

র‌্যাব জানিয়েছে,কদমতলীর আলমবাগে ওয়াসিমের বাড়িতে অপহরণকারীরা কয়েকজনকে আটকে নির্যাতন চালাচ্ছে বলে খবর পেয়ে তারা অভিযানে যায়।

‘বন্দুকযুদ্ধের’ পর ওই বাড়ির চিলেকোঠায় আটকে থাকা অবস্থায় আকতার (৪৮), জাহাঙ্গীর (২৬) রানা (২৬) এবং জনি (২৭) নামে চারজনকে উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক সারোয়ার জানান, সোয়া ১২টার দিকে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনাটি ঘটে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধ হন।

গুলিবিদ্ধ দুজনকে র‌্যাব মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক সহদেব রাজবংশী তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

এই চিকিৎসক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “র‌্যাব বেলা ২টার দিকে তাদের নিয়ে এসেছিল। তার আগেই তাদের মৃত্যু হয়। দুজনের দেহেই গুলির চিহ্ন আছে।”

পরে দুজনের পরিচয় জানিয়ে র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওয়াসিম বুড়িগঙ্গা (পোস্তগোলা) সেতুর টোল আদায়ের ইজারাদার ছিলেন। আশেপাশের এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা থেকে চাঁদা আদায় করতেন তিনি। আর সংগ্রাম ছিলেন তার সহযোগী।

অভিযানের বর্ণনা দিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা সারোয়ার বলেন, চারজনকে আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনা জানার পর র‌্যাব ওই বাসাটি ঘিরে ফেলে। বিষয়টি টের পেয়ে ‘অপহরণকারীরা পাইপ বেয়ে অনেকেই নিচে নেমে আসে।

“এর মধ্যে ওয়াসিম পাইপ বেয়ে না পালিয়ে গুলি করতে করতে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় র‌্যাবের মুখোমুখি হয়। তখনি র‌্যাবের গুলিতে আহত হন তিনি। একই সময় বাড়ির বাইরের পাইপ বেয়ে নামার সময় সংগ্রাম গুলিবিদ্ধ হন।”

তবে ওয়াসিমের স্ত্রী সোনিয়া বেগম তার বাড়িতে সাংবাদিকদের বলেন, “র‌্যাব বাসায় ঢুকে আমার নিরাপরাধ স্বামীকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি হত্যা করেছে।”

ওয়াসিম ও সংগ্রামের অন্য সহযোগীরা পাইপ বেয়ে পালিয়ে যায় বলে জানান র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক।  পরে ওই বাড়ির চিলেকোঠা থেকে চারজনকে উদ্ধার করা হয়, যে স্থানটি ওয়াসিমের ‘টর্চার সেল’ ছিল বলে র‌্যাবের দাবি।

ওই চারজনকে বিকালে র‌্যাব-১০ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে আনা হয়।

তাদের মধ্যে নিজেকে সিএনজিচালক হিসেবে পরিচয় দিয়ে আকতার বলেন, ওয়াসিমকে প্রতিদিন ১৩০ টাকা করে চাঁদা দিতে হত। গত দুই বছর ধরে চাঁদা না দেয়ায় তাকে নানাভাবে নির্যাতন করত ওয়াসিম এবং তার লোকজন।

তিনি বলেন, গত ২ ফেব্রুয়ারি ওয়াসিমের লোকজন সানারপাড় এলাকা থেকে তাকে ধরে এনে আটকে রাখে। সেখানে তাকে বৈদ্যুতিক শকসহ নানাভাবে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।

আকতারের পরিবারের কাছে ওয়াসিম মুক্তিপণও চেয়ে আসছিল বলে র‌্যাব জানায়।

জাহাঙ্গীর এবং জনি জানায়, ২ ফেব্রুয়ারি বিকালে আশুলিয়া থেকে তাদের ধরে আনে ওয়াসিম। তাদের পরিবারের কাছে ওয়াসিম ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল।

পেশা এবং স্থায়ী ঠিকানার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে কোনো উত্তর দিতে পারেননি জাহাঙ্গীর ও জনি।

রানা নিজেকে দই বিক্রেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে ওয়াসিম ধরে এনেছিল। তাকে আটকে রেখে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়।

জাহাঙ্গীর, জনি ও রানা তিনজনেই বলেন, ওয়াসিমকে আগে চিনতেন না তারা।

অভিযানের ওয়াসিমের বাড়ি থেকে নয় রাউন্ড গুলিসহ দুটি পিস্তলও পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন র‌্যাব কর্মকর্তা সারোয়ার।

You Might Also Like