বরের বয়স ৭৫, কনের ৬৩

জীবনের যাবতীয় আয়োজন চুকিয়েই বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই নেয় লোকে। কিন্তু শান্তনু কুমার দাস ও মঞ্জু সিং রায় তাদের জীবনের নতুন আয়োজন শুরু করলেন বৃদ্ধাশ্রম থেকেই। ৭৫ বছর বয়সী শান্তনু এবং ৬৩ বছরের মঞ্জু- আসামের একটি বৃদ্ধাশ্রমে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তারা।

শান্তনু-মঞ্জুর জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন শহরের বাসিন্দারা। বিয়ের আসরে বসে প্রবীণ এ প্রেমিক-প্রেমিকার প্রণয়-পর্বের শুরুর কথা শুনাচ্ছিলেন বৃদ্ধাশ্রমটির প্রতিষ্ঠাতা উৎপল ও মণিকা।

শান্তনুকুমার দাস নামের ওই বরের বাড়ি ভারতের আসাম রাজ্যে। রাজ্যের সেচ বিভাগের এ প্রকৌশলি স্ত্রীকে নিয়ে অবসর কাটানোর ডেরা খুঁজে নেন রাজ্যের রাজধানী গৌহাটির হাইলাকান্দিতে। তবে নিঃসন্তান এ শান্তনুকুমারের স্ত্রী মারা যাওয়ায় একা হয়ে যান তিনি। সেই একাকীত্ব কাটাতেই চলে আসেন ‘মাদার ওল্ড এজ হোম’ নামের বৃদ্ধাশ্রমে।

অপরদিকে কনে মঞ্জু সিং রায়ের ছিল বেসরকারি চাকরি। অবসরের পর তিনি ভাইয়ের সংসারে থাকতেন। টানাটানির সংসারেও মঞ্জু সিংকে আশ্রয় দেওয়া ভাই মারা গেলে অকুল পাথারে পরেন তিনি। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরা মঞ্জুকে একদিন বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে আসেন ‘মাদার ওল্ড এজ হোমের’ প্রতিষ্ঠাতা উৎপল ও মণিকা।

শান্তনু কুমারের সঙ্গে মঞ্জুর ‘প্রেম’ হয় অনেকটা ঘটনাচক্রে। মাদার ওল্ড এজ হোমের একমাত্র পুরুষবাসিন্দা শান্তনু অসুস্থ্য হলে মঞ্জু রায় তার সেবা করেন। তখন থেকেই মূলত শুরু হয় দু’জনের মনের লেনাদেনা। অবশেষে যা পরিণয়ে পরিণতি রাভ করে।

এ বিষয়ে মাদার ওল্ড এজ হোমের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা উৎপল জানান, বছর খানেক প্রেম করার পর আমরা বিষয়টি বুঝতে পারি। প্রায় তিন মাস আগে তাদের কাছে বিয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে দু’জনই হ্য বলে দেন।

পরের কাহিনী অনেকটা গল্পের মতো। মাদার ওল্ড এজ হোমের পূজামণ্ডপে আয়োজন করা হয় বিয়ের। অতিথিও কম ছিলেন না বিয়েতে। সবকিছু শেষে মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন বুড়ো বয়সের ‘তরুণ’ এই নবদম্পতি। সূত্র জি নিউজ

You Might Also Like