বিদ্রোহী কবিতার প্রাসঙ্গিকতা

রেজাউদ্দিন স্টালিন

নজরুল কবিতার সঙ্গে আমার পরিচয় কৈশোরে। স্কুলের এক্সসাইজ খাতার পেছনে নজরুলের বাবরি দোলানো একটা ছবির নিচের লেখা ছিল চার লাইনের একটা কবিতা-

পাতাল ফেড়ে নামবো আমি

উঠবো আমি আকাশ ফুঁড়ে,

বিশ্ব জগৎ দেখবো আমি

আপন হাতের মুঠোয় পুরে।

আমাকে আলোড়িত করেছিল। একটা মানুষের কী অপরিসীম শক্তি! বিশ্ব জগৎ হাতের মুঠোয় পুরে দেখবে। তখন থেকেই স্কুলের পাঠ্য কিংবা কোথাও নজরুলের কবিতা পেলে পড়তাম। কী অভাবনীয় সব কবিতা। আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি। আমাদের যশোর উপশহরের কিছু গুণগ্রাহী মানুষ জ্ঞানচর্চা ও সুকুমারবৃত্তি বিকাশে কাজ শুরু করলেন। একটা রচনা প্রতিযোগিতার আহ্বান করা হলে, আমি তাতে অংশ নিয়ে প্রথম হলাম। আমাকে প্রথম পুরস্কার দেয়া হলো নজরুলের অগ্নিবীণা। অগ্নিবীণা কতবার যে উল্টেপাল্টে দেখতাম আজ তা মনে হলে আনন্দ পাই। ঐ অগ্নিবীণা গ্রন্থেই ছিল আমার প্রিয় কবিতা ‘বিদ্রোহী’। সময় পেলে ঐ কবিতাটি উচ্চকণ্ঠে পড়তাম। নিজের ভেতরেই একটা পরিবর্তন আসত। নিজেকে বড় ভাবার; মানুষকে এত উঁচুতে স্থান দেবার কল্পনা আর কারো কবিতাই তখনো পাইনি।

নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা সেই নবম শ্রেণী থেকে আজ পর্যন্ত যতবার পড়েছি, আবৃত্তি করেছি কিংবা শুনেছি; আমার কাছে তার আবেদন দিন-দিন বেড়েছে বৈ কমেনি। মাত্র ২২ বছর বয়সে এরকম একটি কবিতা রচনা করা কী করে সম্ভব হলো তা ভাবলে অবাক হতে হয়। নজরুলপুত্র সব্যসাচীর কণ্ঠে যখন বিদ্রোহী কবিতার আবৃত্তি শুনি তখন গানের চেয়েও তা অর্থময় তাৎপর্যময় এবং অনিবার্যভাবে প্রয়োজনীয় মনে হয়। নজরুল একইসাথে গল্পকার, প্রাবন্ধিক, উপন্যাসিক, সঙ্গীত রচয়িতা, সাংবাদিক, সঙ্গীত পরিচালক, নাট্যকার রাজনীতিক ও সৈনিক। কিন্তু নজরুলের সব রচনা কবি মনের গভীরতম সত্যের দ্বারা অনুপ্রাণিত। মার্টিন হাইডেগার জর্মান দার্শনিক একজন সৃষ্টিশীল মানুষের বিশেষ করে কবির এই কাব্যিক সৌন্দর্য অনেক আগেই অনুধাবন করেছিলেন- তার বক্তব্যে তিনি আমাদের যে অনুশাসনের কথা বলেছিলেন তা এখানে উদ্ধৃত করব- The speach of genuine thinking is by nature poetic it needs not take the shape of verse. The voice of thought must be poetic beacuse poetry is the saying of thought. নজরুল হয়তো এই কারণে তার অন্যসব সত্তার চেয়ে কবিসত্তাকে জাগ্রত রেখেছিলেন। আমৃত্যু নজরুলের কবিসত্তাই ছিল প্রবল। কমিউনিজম এবং রুশবিপ্লবের দ্বারা আলোড়িত হয়েছিলেন সেটা তার রচনা পড়লে বোঝা যায়। ১৯৪৭ সালে সংঘটিত রুশ বিপ্লবের আদর্শ নজরুলের কবিসত্তাকে নাড়া দিয়েছিল সে বিষয়ে আমরা নিঃসন্দেহ। কমরেড মোজাফফর আহমেদের সাহচর্য এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত নজরুলের কবি মানসকে ধীরে ধীরে প্রস্তুত করেছিল বিদ্রোহী কবিতা লেখায়। এক দিকে রেনেসাঁর বুদ্ধিবৃত্তিকতা অন্য দিকে সাম্যবাদী চিন্তা দুয়ে মিলে নজরুল মানবমুক্তির উপায় অন্বেষণে তৎপর। স্বাধীনতা ছাড়া ভারতবর্ষের ভাগ্য পরিবর্তিত হবে না তা তিনি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলেন- আর এই সংগ্রামের জন্য প্রয়োজন ছিল বড় মানুষ। কেমন বড় মানুষ তার চাই আসন্ন বিপ্লবের জন্য, তা তিনি ভেবেছিলেন কাব্যিক বাস্তবতায়। হাইপার রিয়েলিটি এবং অ্যাবসেন্ট রিয়েলিটি এই দুটোর ভেদরেখা ঘুচিয়ে নজরুল অতিমানুষের কল্পনা করেছিলেন। কাব্যিক সত্য হলেও তৎকালীন স্বাধীনতাকামী মানুষের কাক্সিক্ষত বীরের চরিত্রের সাথে সংগতিময় হয়ে উঠেছিল বিদ্রোহীর দার্শনিক চিন্তা। এখনো সেই কাক্সিক্ষত বীরের চরিত্রের সাথে নজরুল সৃষ্ট বিদ্রোহী কবিতার বাস্তবতা খুঁজে পাই বলে বিদ্রোহী এখনো নানাভাবে প্রাসঙ্গিক। আজো অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণভূমে রণিত হচ্ছে। অসহায় মানুষ বাস্তুচ্যুত। বেকারত্বের যন্ত্রণায় কাতরে বেড়াচ্ছে যুবকগণ। কৃষক আজো তার ন্যায্যমূল্য বঞ্চিত। রাজনৈতিক নৃশংসতায় বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। একশ্রেণীর মধ্যস্বত্বভোগীর দাপটে বাজারব্যবস্থা বেশামাল। পুলিশ, আমলা, আর্মি, সাংবাদিক সব জায়গাতে ব্যক্তিস্বার্থ এত প্রকট হয়ে উঠেছে যে, রাষ্ট্রের নাভিশ্বাস। সে কারণে এখনো এই একুশ শতকে যতবার যেখানে নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার আবৃত্তি শুনি কিংবা কোনো আলোচনা পড়ি তখন নিজেকে একজন শক্তিমান মানুষ হিসেবে বিবেচনা করার সাহস পাই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ভৃগুভগবান বুকে পদচিহ্ন আঁকবার দুঃসাহসে স্থিত হই। হল বলরাম স্কন্ধে অধীন বিশ্ব উপড়ে ফেলার শক্তি অর্জন করি। পাথরের পর পাথর সাজিয়ে আশ্চর্য পিরামিডতুল্য শিখরস্পর্শী কবিতা ‘বিদ্রোহী’। আমি একে মহাকবিতা বলতে চাই। ন্যায়ের, যুক্তির শৃঙ্খলায় সৌন্দর্যে নান্দনিক বোধের ঐশ্বর্যে স্তবকের পর স্তবক সাজিয়ে গড়ে উঠেছে এই মহা আশ্চর্য কাব্যিক প্রকৌশল। পিরামিডি প্রাসাদের মতো আশ্চর্য, ভয়াবহভাবে চিত্তাকর্ষক এবং ব্যঞ্জনাময় এবং বিস্ময়কর।

অনেকগুলো কক্ষ আছে যেন এই কাব্যপ্রসাদে। একবার ঢুকলে তার শেষ না দেখে বেরুনো যাবে না- এই যেন এই মহলের নির্দেশনা। কী বিষণ্ন বিধূর বজ্রনির্ঘোষ বিদ্রোহ কী নাটকীয়তা- যেন চরম ট্র্যাজেডির রক্তাক্ত প্রান্তর। প্রেম আর দ্রোহ, স্বপ্ন আর আকাক্সক্ষা, যুদ্ধ আর রক্তপাত, বিজয় আর উল্লাস, মমতা আর পিতৃময়তা, কঠিন আর পেলব সবকিছু অপূর্ব সংশ্লেষ। কি আরণ্যক অব্যর্থ তীরন্দাজ এই ‘বিদ্রোহী’ কবিতার নায়ক ‘আমি’। মুক্তক মাত্রাবৃত্তের যতটুকু শক্তি তার সবই নিংড়ে ব্যবহার করেছেন নজরুল বিদ্রোহী কবিতায়। চারমাত্রার মাত্রাবৃত্তে যে এত শক্তি তা বিদ্রোহী রচিত না হলে আমরা জানতাম না। আর জানতাম না বাংলা ভাষার মধ্যে এই অমিত শক্তি লুকানো ছিল।

একবার ঘুরে তাকাচ্ছি মধুসূদনের দিকে- স্থির, অতল গম্ভীর সমুদ্রস্বরে তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দে আমাদের দেখিয়েছিলেন বাংলা ভাষার শক্তি আরেকবার দেখালেন মুক্তকমাত্রাবৃত্তে নজরুল। রুগ্ণপৃথিবীর যাবতীয় অসংগতির প্রেক্ষাপটে, প্রতিশোধস্পৃহায় হৃদয় উদ্বেল। সমাজ চৈতন্য ও ব্যক্তিস্বরূপকে আশ্রয় করে এই কাব্যের জন্ম। ব্যর্থতার পীড়া, মর্মদাহের আর্তনাদ কিন্তু স্বচ্ছচৈতন্যের আগ্নেয়লাভায় জারিত নজরুলের উচ্চারণ। আন্তর্দাহের তীব্রতায় শিল্পীর কাব্যিক দায়িত্বে নজরুল এই অসীম ধ্বনিব্যঞ্জনা তৈরি করেছিলেন। মাঝে মাঝে মনে হয় আবৃত্তির তাড়নায় আমরা অনেক সময় বিদ্রোহী কবিতার মূল এসেন্স বা তাৎপর্য বুঝতে পারি না- বিদ্রোহীর স্বররীতির মধ্যে এই ফাঁদ লুকিয়ে আছে- সুতরাং সৎপাঠককে এই কাব্যপাঠ কিংবা আবৃত্তি শোনার সময় মনোসংযোগ করতে হবে সতর্কভাবে। কবি পাস্তেরনাক এই জন্যে পাঠককে সাবধান করে বলতেন ‘Dont try to win me over with your voice.’ আরো এক গূঢ় ভয় কবির কবিতায় আবৃত্তি কিংবা কবির উচ্চারণে কবিতা যখন হয়ে ওঠে ‘Performance’ তখন হারিয়ে যেতে পারে নাটকীয় স্বরক্ষেপের প্রবলতায় মধ্য কবিতার ভেতরের জয়গান, গভীর নৈঃশব্দ্যের শক্তি। এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে কবিতার সার্থকতার ভিত্তি কি মুদ্রিত পাঠ না উচ্চারিত পাঠ? উচ্চারিত পাঠেই কবিতার প্রতিমূর্তি সুন্দর হয় কারণ কবিতা ছিল আদিতে সঙ্গীত। সের্গেট লুইস বোর্হেস মনে করেন কবিতা প্রাণ পায় উচ্চারণে জোরে জোরে পাঠের মধ্য দিয়ে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে সাবধান হতে হয় এই ভেবে যে, মুদ্রিত কবিতা পাঠ অনেক নির্লিপ্ত এবং নিরপেক্ষ কিন্তু আবৃত্তি কণ্ঠস্বরের অপেক্ষা রাখে মোহ সৃষ্টি করে অর্থের অবগুণ্ঠন টেনে ধরে- বিদ্রোহীর আবৃত্তি অনেক ক্ষেত্রে এই বিচ্যুতি ঘটায় বলে কবিতাটি নির্জন পাঠ এবং মুদ্রিত পাঠ উভয় দাবি করে। ডিলান টমাসের কবিতার মুদ্রিত পাঠ অনেক সময় আকর্ষণ নাও করতে পারে কিন্তু যারা তার কণ্ঠে তার কবিতার আবৃত্তি শুনেছেন তারা বলবেন অপূর্ব। বিদ্রোহী কবিতার যে অক্ষরবিন্যাস সেটাও একটা আবেগের প্রতিমূর্তি তৈরি করে। অক্ষরসজ্জায় বিদ্রোহী কবিতা এক সামুদ্রিক উচ্ছ্বাসের বীররসের আভাস দিয়ে চিত্রময়তা গড়ে তোলে। অক্ষরই এখানে টাইপোগ্রাফির প্রসাদে উপস্থাপন করেছে চিত্রময়তা। আপলিয়নারের ‘ঈধষষরমৎধসসবং’ যাকে অনেকে বলেছেন ‘খরঃবৎধৎু ছঁনরংস’ নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার অঙ্গসৌষ্ঠবের মধ্যে আছে এই জ্যামিতিক যৌক্তিকতা। ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অক্ষর বিন্যাস ও শব্দশৈলীর বুনন, স্তবক নির্মাণের যে প্রাচ্য কারুকার্য তাতে আমি পিরামিডের আকৃতি আবিষ্কার করি।

 

বল বীর

বল উন্নত মম শির।

শির নেহারি আমারি, নত-শির ওই শিখর হিমাদ্রির।

বল বীর-

বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি-

চন্দ্রসূর্য গ্রহতারা ছাড়ি,

ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া

খোদার আসন আরশ ছেদিয়া

উঠিয়াছি চির বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাত্রীর

মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজরাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর

বল বীর-

আমি চির উন্নত শির।

 

পাঠক এখানে কবিতার অঙ্গসজ্জা এবং অক্ষর বিন্যাসের পর্যায়গুলো লক্ষ করুন- কিভাবে একের পর এক অনিবার্য অলঙ্ঘনীয় শব্দশৈলী দিয়ে কবি প্রথম পর্বে গেঁথে তুলেছেন নিজের অনুভব এবং অন্তর্গত-মননের উপলব্ধির অস্তিত্ব, স্থাপত্যধর্মী এবং সঙ্গীতধর্মী সংগঠন এবং একেকবার আগ্নেয় চিন্তার প্রগতি আর অভ্যুত্থান। দ্বিতীয় পর্বে কবি কী করতে চান তার বর্ণনা-

আমি ঝঞ্ঝা আমি ঘূর্ণি

আমি পথ সম্মুখে যাহা পাই যাই চূর্ণি

আমি নৃত্য পাগল ছন্দ

আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ

আমি হাম্বীর আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল

আমি চল চঞ্চল ঠমকি ছমকি

পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি

ফিং দিয়া দিই তিন দোল

আমি চপলা, চপল হিন্দোল

কবির এই অভিযানে ‘আমি’ শব্দবন্ধ সতর্কতার সাথে গ্রোথিত হয়েছে। ‘পাগল’ শব্দটি তুচ্ছ হলেও কবি ‘নৃত্যপাগল ছন্দ’ এই বাক্যবন্ধ তৈরি করায় তা’ শ্রুতিতে নতুন মাত্রা দেয় এবং মাধুর্য তৈরি করে। একইভাবে ‘ফিং’ শব্দটিও তেমন যুৎসই নয় কিন্তু যখন ‘ফিং দিয়া দিই তিন দোল’ তখন মানিয়ে যায় অনিবার্য মনে হয়। এইভাবে আমি ‘উন্মাদ’ এই উন্মাদ শব্দটিও কবিতার শরীরে মানিয়ে গেছে ‘আমি উন্মাদ আমি ঝঞ্ঝা’ এরকম গতিময় শব্দব্যঞ্জনা তৈরির ক্ষমতায় নজরুল যারপরনাই পারঙ্গম। ১৩৯ লাইনের এই বিদ্রোহী কবিতায় ‘আমি’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে ১৩১ বার। কিন্তু কী আশ্চর্য কবিতার শ্রুতিময়তা, গতিময়তা এবং নান্দনিকতা কিংবা আভিজাত্যে একটুও টাল খায়নি বরং তার শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে। কবিতার শেষে কবি যে জয়ের নেশায় যুদ্ধ সংঘটিত করলেন, যে অভিযাত্রা তিনি শুরু করেছিলেন তার উপসংহারে অর্থাৎ পরিসমাপ্তিতে তিনি তার পরাজিত শক্তির প্রতি যে শর্ত দিলেন তা’ কাব্যিক শর্ত, অনাগত শত্রু এবং বর্তমান শত্রুপক্ষকে সাবধান করে দিলেন এবং তার বিজয়ের সিংহাসনে এই বলে আসীন হলেন-

আমি চির বিদ্রোহী বীর-

আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা- চির উন্নত শির।

ইউলিসিসের এক দুর্গম সমুদ্র যাত্রা- স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের এক প্রতিজ্ঞাবদ্ধ অধ্যবসায়। কাক্সিক্ষত লক্ষ্যছাড়া কোনো বীর কি অবসিত হয় যুদ্ধে? নজরুল ইউলিসিসের মতো আজীবন এই যুদ্ধ জারি রেখেছিলেন এবং জীবন দিয়ে তা’ প্রমাণ করেছিলেন কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছানো পর্যন্ত। সব বীরের যে ট্র্যাজেডি তা’ নজরুলের ভাগ্যেও ঘটেছে। নিজের সজাতিকে স্বাধীন দেখার আগেই তিনি নির্বাক হলেন- তবে স্বাক্ষী হয়ে রইলেন কালের- সে এক অসীম সময়, যেখানে নজরুল গচ্ছিত রেখেছেন তার স্বপ্ন- যে স্বপ্ন স্বাধীনতার। যতবার আমরা পররাধীনতার বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষ, অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাবো ততবার আমরা সাথে নেবো ‘বিদ্রোহী’ কবিতা। মহাবীর আলেকজান্ডার যেমন তার বালিশের নিচের রাখতেন হোমারের অডিসি। সুভাষ বসু বলেছিলেন আমরা যখন কারাগারে যাবো তখন নজরুলের গান গাইব- আমরা যখন যুদ্ধে যাবো তখনো নজরুলের গান গাইব- সাথে আমি যোগ করব আমরা যখন অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংকুল পথ পেরুব তখন- নজরুলের বিদ্রোহী পাঠ করব এবং আমরা যখন সমাজ সংগঠনে মানবকল্যাণে ব্রতী হবো তখনো নজরুলের ‘বিদ্রোহী’র আবৃত্তি শুনব।

You Might Also Like