আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের পবিত্র মেরাজুন্নবী (সা:) উদযাপন

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের উদ্যোগে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে পবিত্র মেরাজের শিক্ষা এবং তাৎপর্য শীর্ষক ইসলামিক সেমিনার ও মেরাজুন্নবী মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ২৫ রোববার। জ্যাকসন হাইটসের ফুডকোর্ট রেস্টুরেন্টে বাদ মাগরিব থেকে আলোচনা সভা ও মেরাজুন্নবী মাহফিল মধ্যরাত পর্যন্ত চলে। মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ মাওলানা জুবায়ের আহমেদ। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আলোচনা সভা শুরু হয়। নাত পেশ করেন ওমর ফারুক, ওসমান গণি তালুকদার শামীম। প্রধান বক্তা ছিলেন হাফেজ মাওলানা শেখ মাহমুদ, মাওলানা আতাউর রহমান, মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক, মোহাম্মদ শাহ আলম, মাওলানা মোস্তফা কামাল, মাওলানা একরামুল হক তফাদার, ড. জামাল নাসের প্রমুখ।

ঊক্তাগণ বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালার দীদার লাভ এবং সমগ্র সৃষ্টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অবলোকনের জন্য আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশেষ ভ্রমণ বা ঊর্ধ্বগমনই পবিত্র মেরাজের ঘটনা। মহানবী (সাঃ) এর অসংখ্য মোজেজার মধ্যে পবিত্র মিরাজ অন্যতম শ্রেষ্ঠ মোজেজা। মেরাজ শব্দের অর্থ ঊর্ধ্বগমন। মক্কা শরীফ হতে বায়তুল মোকাদ্দাস (পবিত্র জেরুজালেম) এবং বায়তুল মোকাদ্দাস হতে ঊর্ধ্বে গমন, সপ্তআকাশ ভ্রমণ নবীগণের সাথে সাক্ষাৎ, বেহেস্ত, দোজখ, দর্শন এবং সিদরাতুল মোনতাহা পর্যন্ত গমন। সিদরাতুল মোনতাহা থেকে রফরফের মাধ্যমে আরশে আযীমে গমন, সেখান থেকে লা-মাকান ভ্রমণ এবং আল্লাহর দীদার ও সান্নিধ্য লাভ। সেখান থেকে পুনরায় পৃথিবীতে (পবিত্র মক্কায়) প্রত্যাগমন। এই বিস্ময়কর সফর বা ভ্রমণকেই এক নামে “মেরাজ” বলা হয়। প্রিয়নবী নূরনবী (সাঃ)-এর মেরাজ ছিল বাস্তব, স্বশরীরী ও আধ্যাত্মিক ঘটনা। মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবীব (সাঃ) কে তার সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে সম্মানিত করেছেন, আর রাসূল (সাঃ) তাঁর উম্মতের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট থেকে পুরস্কার স্বরূপ নিয়ে এসেছেন দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এবং হাদীস শরীফে এই সালাতকে বান্দাদের জন্য মহান আল্লাহর পরোক্ষ মেরাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য যে, পবিত্র সালাতের ভিতরেই সালাতু সালাম তথা প্রিয়নবীর দরূদ শরীফ নিহিত রয়েছে যা প্রতিনিয়ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মেরাজ শরীফের স্বাক্ষীস্বরূপ।

বক্তাগণ বলেন যে, অধিকাংশ ইমামবৃন্দ-আউলিয়া কেরাম ও হক্ব ওলামাদের মতে, নবুয়াত প্রকাশের দ্বাদশ সালে ২৬ রজব দিবাগত রজনীতে সশরীরে জাগ্রত অবস্থায় রাতের একাংশে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র মেরাজ সংঘটিত হয়। বিশ্বের মুসলিম সমাজের সর্বত্র এমতটিই সমধিক সুপ্রসিদ্ধ। অনেকে বলেন মেরাজ স্বপ্নে সংগঠিত হয়েছিল! তবে বক্তাগন এই দাবীকে বাতেল মত বলে নাকচ করে দিয়ে বলেন, বাতেল-কাফেরদের অস্বীকারই প্রমান করে মেরাজ শরীফ স্বশরীরে হয়েছিল যা বিশ্বাস করা ঈমানের অপরিহার্য অংশ। পবিত্র মাহফিলের শেষে মিলাদ (সালাতু সালাম), ক্বিয়াম, দেশ ও মুসলিম জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

You Might Also Like