‘এরিনা বৈশাখী মেলা’য় হাজারো মানুষের ঢল

রাসেল রহমান : গত রোববার, ১০ মে অনুষ্ঠিত হলো এপর্যন্ত আয়োজিত এবছরের সর্ববৃহৎ মেলার। এটি ছিল ‘উৎসব ডট কম’ পরিবেশিত এরিনা বৈশাখী মেলা। আয়োজক এরিনা কমিউনিকেশনস্ তাদের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক আসলেই সেদিন প্রকৃত মেলার আস্বাদ উপহার দিতে পেরেছে জ্যামাইকার সুসান বি এন্থনী স্কুলের খেলার মাঠে দিনব্যাপী এই আয়োজনের মাধ্যমে।
সকাল ১১টা থেকে মেলা প্রাঙ্গন সেজে গুজে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত ও প্রস্তুত হয়ে থাকলেও এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনটি হয় দুপুর ১টায়। মেলার উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ও নাট্য ব্যক্তিত্ব জামাল উদ্দিন হোসেন। DSC_7239এসময় গণ্যমান্যদের মধ্যে আরো যারা উপস্থিত ছিলেন তারা হলেন- এরিনা বৈশাখী মেলার অন্যতম উপদেশক ও মিডিয়া পার্টনার সাপ্তাহিক বাংলাদেশ-এর সম্পাদক ড. DSC_7121111ওয়াজেদ এ খান, আরটিভি’র উত্তর আমেরিকার আবাসিক পরিচালক ও সাপ্তাহিক এখন সময় পত্রিকার সম্পাদক কাজী শামসুল হক, সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, প্রাণ ইউএসএ-এর কর্মকর্তা তৌফিক প্রমূখ। এপর্বটি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রথম পর্যায় পরিচালনা করেন এরিনা’র প্রোগ্রাম ডিরেক্টর সেলিনা শারমিন। এরপরপরই প্রাণ ইউএসএ-এর পক্ষ থেকে মেলায় আগত প্রথম ৭০০ দর্শককে প্রাণ বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে তৈরি একেকটি গিফট প্যাক উপহার দেয়া হয়।
তারপর ঘোষণা অনুযায়ী শুরু হয় শিশু-কিশোরদের জন্য পোষাকে বাঙালী সাঁজো প্রতিযোগিতা। এপর্বের পুরস্কারগুলো স্পন্সর করেন মেলার আরেকজন উপদেশক প্রিন্টিং ব্যবসায়ী কামরুল হাসান স্বপন। এই প্রতিযোগিতা যখন শেষ হয় ততক্ষণে মঞ্চ সম্পূর্ণ প্রস্তুত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরুর জন্য। কিন্তু সামারের আদর্শ আবহাওয়া নিয়ে হাজির হওয়া এদিনকার প্রখর রোদ মঞ্চের সামনের মাঠে দর্শককে টানতে পারছিল না। তারা তখন মাঠের একপাশের ছায়াঘেরা অংশের স্থাপিত খাবার আর পোষাক-আশাক কেনাকাটাতেই ব্যস্ত। আয়োজকরা মনে হলো এত বিশাল মাঠটি দর্শকে ভরবে কিনা বা কখনইবা ভরবে সেটি এরকম দ্বিধা নিয়েই দেশাত্ববোধক গানের হারুনের বাঁশীর সুরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু করলো। দুটি পরিবেশনার পরে বিরতি দিয়ে প্রদান করা হয় সেদিনকার  পোষাকে বাঙালী সাঁজো এবং আগের সপ্তাহের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী। এই পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউ ইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট-এর কনসাল জেনারেল শামীম আহসান। এসময় আরো যারা বক্তব্য রাখেন তারা হলেন- চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পৃষ্টপোষক খান টিউটোরিয়ালের নাইমা খান, জ্যামাইকার প্রবীন ব্যক্তিত্ব ও কমিউনিটি লিডার সদরুন নূর, মুক্তিযোদ্ধা শরাফ সরকার, এটর্নি মঈন চৌধুরী, রিয়েলটর মাকসুদুর রহমান, কমিউনিটি বোর্ড ৮ মেম্বার ও জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির অন্যতম DSC_7035প্রতিষ্ঠাতা ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, এরিনা বৈশাখী মেলার প্রধান সমন্বয়কারী  ফরহাদ তালুকদার, মেলা কর্মকর্তা বাবুল তরফদার, এস এ বুখারি, গোলাম মোস্তফা প্রমূখ। এপর্বটি পরিচালনা করেন এরিনা কমিউনিকেশন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাসেল কবির রহমান। এরপর একটানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরু হলে ও সূর্যের প্রখরতা কিছুটা কমতেই দেখা যায় মেলা প্রাঙ্গন সব বয়সীদের বাঙালীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ। এসময় নিউ ইয়র্কের DSC_7132প্রতিষ্ঠিত ও প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীদের মধ্যে একে একে গান পরিবেশন করেন লাল্টু, জুয়েল, বিশাল, ফরহাদ হোসেন, তুলি, শাহানা, বাপ্পী সোম, মোহাম্মদ কামাল, এ আর সুমন, নাসরিন আজাদ, লেমন চৌধুরী, শারমিন রিমু, ওয়াহিদ আজাদ ও বাংলাদেশ থেকে আগত জনপ্রিয় শিল্পী রিজিয়া পারভিন। নৃত্য পরিবেশন করে সৃজনী সাংস্কৃতিক সংসদ, অপর্ণা ড্যান্স ক্লাব ও সিভানা হায়দার ফারাহ। ক্লাসিক বুটিকস্-এর পোষাকে ফ্যাশন শো পরিবেশন করে এক ঝাক তরুণ-তরুণী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন নাজমুন নাহার ইউনা। এই পরিবেশনাগুলোর মাঝখানে আরো দুটি ছোট বিরতি নেয়া হয়, এর একটি ছিল মেলার টাইটেল স্পন্সর উৎসব ডট কম-এর সিইও রায়হান জামান-এর বক্তব্য শোনার জন্য এবং অন্যটি ছিল তাদেরই পরিচালনায় অনুষ্ঠিত র‌্যাফল ড্র-এর জন্য। শেষ শিল্পী রিজিয়া পারভিন যখন মঞ্চে উঠেন ততক্ষণে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত, মঞ্চে জ্বলে উঠেছে বাঁতি। দর্শকদের অধীর অপেক্ষার প্রতিদান দিতে তিনি এক নাগারে গেয়ে গেলেন অনেকগুলো গান, সাথে নাঁচিয়ে ও মাতিয়ে গেলেন সবাইকে। হয়তো আরো গাইতেন যদি আয়োজকরা বেরসিকের মতো অনুষ্ঠান শেষ করতে না চাইতেন। রাত তখন ১০টা, আয়োজকদের তখনও আরো একটি কাজ সম্পন্ন করা বাকী রয়ে গেছে। সেটি ছিল আকর্ষণীয় DSC_7091র‌্যাফেল ড্র। দ্বিতীয় পুরস্কার জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটি’র সৌজন্যে প্রদান করা ৪০ ইঞ্চি স্যামসাং টিভি ও তৃতীয় পুরস্কার গ্রীণ ক্যাব ওনার্স এসোসিয়েশন ইনক্-এর সৌজেন্য প্রদান করা টোশিবা ল্যাপটপ বিজয়ী তৎক্ষনাতই তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। তবে রেডিয়েন্ট আইপি টিভির সৌজন্যে প্রথম পুরস্কার নিউ ইয়র্ক-ঢাকা-নিউ ইয়র্ক বিমান টিকিট-এর ভাগ্যবান বিজয়ীকে সেসময় পাওয়া যায়নি। যার টিকিটের নম্বর হচ্ছে- ৪১৪০৮৬২। ৩৪৭-৬৭০-০৮৯৩ মেলা আয়োজকদের এই নম্বরে যোগাযোগ করে বিজয়ী ব্যক্তিকে পুরস্কারের দাবী জানাতে অনুরোধ করে ও সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেলা সমাপ্তির ঘোষণা দেন রাসেল রহমান। আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির পরও চার্জার লাইটে বিভিন্ন পণ্যের পশরা সাজিয়ে বসা ব্যবসায়ীরা তখনও চালিয়ে যাচ্ছিলেন শেষ সময়ের বেচাকেনা।এরকম আরো অনেক মেলার চাহিদা জিইয়ে রেখেই যেনো শেষ হলো এরিনা বৈশাখী মেলা।

You Might Also Like