ছাত্রীর সাথে অনৈতিক আচরণের অভিযোগে শিক্ষক লাঞ্ছিত

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর (ভোকেশনাল) এক ছাত্রীর সাথে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে ওই বিদ্যালয়েরই সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সহকারি প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকের চুল কেটে গলায় জুতার মালা ঝুলিয়ে দিয়েছে বিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।

বুধবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এই ঘটানা ঘটে। তবে আব্দুর রাজ্জাক ও তার পরিবার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন প্রতিপক্ষরা তাকে লাঞ্ছিত করতে পরিকল্পিত ভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কিয়ামত আলী জানান, দশম শ্রেণীর ছাত্রী কামিনীর সাথে অনৈতকি আচরন করেছে এমন অভিযোগে তার মা ময়না খাতুন মঙ্গলবার সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি আবেদন করেন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির কাছে। সে বিষয়ে ১৪মে বৃহস্পতিবার স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকেদর মিটিং হওয়ার কথা। এরই মধ্যে বিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা বুধবার সকাল ৯টার দিকে স্কুল চলাকালে স্কুলে প্রবেশ করে সহকারী প্রধান শিক্ষককে পেটাতে পেটাতে দারিয়াপুর বাজারে নিয়ে গিয়ে সেখানে তার চুল দাড়ি কেটে লাঞ্ছিত করেছে।

খবর পেয়ে মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুণ কুমার মন্ডল, মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী সালেক উদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই জনসম্মুখে এভাবে একজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনা অনাকাঙ্খিত বলে মন্তব্য করেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ব্যবস্থা নিতে পারতো। তার আগেই শিক্ষার্থী সহ বহিরাগতরা স্কুলে হামলা চালিয়ে প্রতিষ্ঠানে মর্যাদা নষ্ট করেছে। তাদেরও বিচার হওয়া উচিৎ।

মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী সালেক জানান, ছাত্রীর সাথে শিক্ষকের অনৈতিক আচরণ করা ঠিক হয়নি। পাশাপশি আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এলাকাবাসীও অন্যায় করেছে। অভিয়োগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুণ ক‍ুমার মন্ডল জানান, শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় বৃহস্পতিবার স্কুল ম্যানেজিং কমিটির মিটিং ছিলো। সেখানে শিক্ষক দোষী প্রমাণিত হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হতো। কিন্তু এর মধ্যে বহিরাগতরা আইন হাতে তুলে নিয়ে অপরাধ করার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা নষ্ট করার অপরাধ করেছে। তদন্ত করে সকল অপরাধীর বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

You Might Also Like