কলকাতায় লোকাল ট্রেনে বিস্ফোরণ, আহত ১৮

কেতুগ্রামের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল কলকাতা। শিয়ালদহ থেকে কৃষ্ণনগর যাওয়ার পথে একটি লোকাল ট্রেনে বোমার বিস্ফোরণে অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে পাঁচ জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের প্রথমে ব্যারাকপুর বি এন বসু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের আরজিকর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

মঙ্গলবার ভোর রাত ৩টা ৫৫ মিনিটে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে সময় ট্রেনটি ব্যারাকপুর ও তিতাগড় স্টেশনের মাঝামাঝি অবস্থান করছিল।

রেল পুলিশ সূত্রে খবর, এ দিন ভোর ৩টে ৩৫ মিনিট নাগাদ আপ কৃষ্ণনগর লোকাল ট্রেনটি শিয়ালদহ স্টেশন ছাড়ে। সিগন্যালে ত্রুটির জন্য দমদমে কিছুক্ষণ দাঁড়ায় ট্রেনটি। পরে ফের রওনা হয়ে টিটাগড় স্টেশন পেরুতেই পিছনের দিকের একটি কামরা থেকে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

গার্ড এসে দেখেন, কামরাটিতে রক্তাক্ত অবস্থায় বেশ কয়েক জন যাত্রী পড়ে রয়েছেন। ওই অবস্থায় চালক ট্রেনটিকে ব্যারাকপুর স্টেশনে নিয়ে আসেন। তড়িঘড়ি আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, কোনও দুষ্কৃতীর রাখা বোমা ফেটেই এই কাণ্ড।

অন্যদিকে, রেল কর্মকর্তাদের একাংশের মতে, সকালের ট্রেনে নিরাপত্তার অভাবের সুযোগ নিয়ে বোমা পাচার করা হচ্ছিল।

তবে এই ঘটনা ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, কলকাতার লোকাল ট্রেনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা শিথিল। শিয়ালদহ বা হাওড়ার মতো বড় স্টেশনে সামান্য নজরদারির ব্যবস্থা থাকলেও অন্য স্টেশনগুলিতে তা-ও নেই। এ বিষয়ে রেল দফতরও যে চিন্তিত, তা-ও জানিয়েছেন রেলের কর্মকর্তারা।

এদিকে রেলপুলিশসূত্রে দাবি করা হয়েছে, চলন্ত ট্রেনে বোমা নিয়ে ওঠে রাজা দাস নামে এক দুষ্কৃতী। ট্রেনে আর এক দুষ্কৃতীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি থেকে শুরু হয় হাতাহাতি। এরপরই রাজা দাসের হাতে থাকা বোমা ফেটে বিস্ফোরণ ঘটে। রাজা দাসের একটি হাত উড়ে যায়। অন্য এক দুষ্কৃতী গুরুতর আহত অবস্থায় ট্রেন থেকে নেমে যায় বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। তার হাতে একটি বন্দুক ছিল বলেও জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। ইতোমধ্যে আহত রাজাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ব্যারাকপুর শিয়ালদহ শাখায় ট্রেনে একাধিক ছিনতাই ডাকাতির ঘটনায় জড়িত রাজা। এই অপরাধে তাকে একাধিকবার গ্রেফতারও করে পুলিশ। কিন্তু, জামিনে মুক্ত হয়ে ফের অপরাধ জগতেই ফিরে যায় সে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর কামরা ধোঁয়ায় ভরে যায়। আতঙ্কে অনেক যাত্রী কামরা থেকে ঝাঁপ দেন। এর ফলেও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

You Might Also Like