ব্রিটিশ বিমান বাহিনীর দ্বিগুণ যুদ্ধবিমান সৌদি আরবের

ব্রিটিশ বিমান বাহিনীতে ব্রিটেনের তৈরি যে সংখ্যক যুদ্ধবিমান রয়েছে তার দ্বিগুণ সংখ্যক একই ধরনের যুদ্ধবিমান দিয়ে সৌদি আরব ইয়েমেনে হামলা চালাচ্ছে।

ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দমনে রাজকীয় সৌদি এয়ার ফোর্সে ব্রিটেনের তৈরি টর্নেডো জিআর৪ এবং ইউরোফাইটার টাইফুন নামের বিমানগুলোই প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

সৌদি সেনাবাহিনী সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিন হুথিদের বিভিন্ন অবস্থানে হামলার জন্য প্রায় ১০০ বিমান নিয়মিত অংশগ্রহণ করছে। এসব বিমানের অর্ধেকই হচ্ছে গত ৩০ বছর ধরে আল-ইয়ামামাহ নামে পরিচিত একটি বিতর্কিত চুক্তির মাধ্যেমে সৌদির কাছে বিক্রি করা ব্রিটিশ টর্নেডো এবং ইউরোফাইটার।

ব্রিটেন থেকে কেনা ৭৩টি টর্নেডো বিমান সংস্কারের জন্য সম্প্রতি সৌদি আরব আড়াই বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। বিমানগুলো থেকে হুথিদের ওপর ব্রিটিনের তৈরি প্যাভওয়ে আইভি এবং স্টর্ম শ্যাডো বোমা ফেলা হচ্ছে।

অন্যদিকে, সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুহূর্তে সৌদির মতো বিমান হামলা চালানোর প্রয়োজন পড়লে ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্স সর্বোচ্চ ৩৬টি টর্নেডো জিআর৪ বিমান জড়ো করতে পারবে! একই সাথে বাজেটের অভাবে ইউরোফাইটার টাইফুনগুলোকে সংস্কার করতে দেরি হওয়ায় বুঝা যাচ্ছে, ইসলামিক স্টেট (আইএস) বা এরকম কোনো গ্রুপের ওপর বিমান অভিযান চালানোর মতো প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ব্রিটেনের নেই।

২০১০ সালে ব্রিটেনের জোট সরকার সামরিক বাজেটে ব্যাপকহারে কমিয়ে দেয়ায় ব্রিটিশ বিমান বাহিনীকে ইতোমধ্যে সিরিয়ান আইএসআইএলের বিরুদ্ধে বিমান অভিযানে পর্যাপ্ত সংখ্যক টর্নেডো যুদ্ধবিমান পাঠাতে গলদঘর্ম হতে হয়েছে।

অভিযানের একেবারে প্রথম দিকে ব্রিটিশ বিমান বাহিনী সাইপ্রাসে মাত্র চারটি টর্নেডো মোতায়েন করতে সক্ষম হয়। তবে পরে সেই সংখ্যা ৮-এ উন্নীত করেছে।

আইএসের বিরুদ্ধে বিমান অভিযানে জোটের হয়ে মাত্র ৬ শতাংশ অবদান রাখার কারণে সম্প্রতি দেশটির ডিফেন্স সিলেক্ট কমিটির সমালোচনার মুখে পড়ে ব্রিটিশ বিমান বাহিনী।

বিমান বাহিনী প্রধান স্যার মাইকেল গ্রেডন বলেছেন, তার বাহিনীর বর্তমান যে অবস্থা তাতে তার আশংকা যে, কোনো জরুরি অবস্থায় মাত্র ৩০টির বেশি যুদ্ধবিমান তিনি সরবরাহ করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, সৌদি আরব ইয়েমেনে এখন যে ধরনের বিমান অভিযান চালাচ্ছে সেরকম দীর্ঘ মেয়াদি অভিযান চালাতে গেলে আপনার কাছে প্রচুর সংখ্যক যুদ্ধবিমান এবং সেগুলো চালানোর জন্য বহু লোকবল দরকার। কিন্তু বাজেট কমানোর কারণে আমাদের সেই সক্ষমতা নেই।

গত প্রায় দেড় মাস ধরে ইয়েমেনে ২২০০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব ও তার আরব মিত্ররা। এসব হামলায় হুথিদের প্রায় সবগুলো ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া হুথিদের দখল করে নেয়া গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোও পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

You Might Also Like