নামাজের জামাতে কাতার সোজা রাখার ফজিলত

মাওলানা মুহাম্মদ সাহেব আলী : জামাতে নামাজ আদায়ের সময় ইমামের পেছনে মুসলি্লদের কাঁধে কাঁধ মিশিয়ে দাঁড়াতে হয়। ধনী, গরিব, অভিজাত-অনভিজাত সবাই এক কাতারে দাঁড়ায় মহান স্রষ্টার কাছে নিজের আনুগত্য প্রকাশের জন্য। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় রসুল (সা.)-এর সুন্নত। বারা ইবনে আজের (রা.) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজের কাতারে প্রবেশ করে একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্ত পর্যন্ত আমাদের সিনা এবং কাঁধ সমান্তরাল করতেন ও বলতেন, তোমরা সামনে ও পেছনে যেও না; অন্যথায় তোমাদের অন্তরে অনৈক্যের সৃষ্টি হবে। তিনি বলতেন, আল্লাহতায়ালা প্রথম কাতারের লোকদের জন্য রহমত প্রেরণ করেন এবং ফেরেশতারা রহমতের দোয়া করেন (আবু দাউদ)।

এক কাতারে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মহান স্রষ্টার ইবাদত বান্দাদের মধ্যে আধ্যাত্দিক ঐক্যই শুধু জোরদার করে না, মুমিনদের সামাজিক ঐক্যও সুসংহত করে। এই ঐক্য এবং সহমর্মিতা মুসলমানদের দুনিয়ার সেরা জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। বাতিল শক্তির বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছে প্রতিটি ক্ষেত্রে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায়ের পক্ষে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক হাদিস রয়েছে এবং এর প্রতিটিতেই এ বিষয়টি যথাযথভাবে মেনে চলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা কাতার সোজা রাখ, কাঁধসমূহ সমান্তরালে রাখ, শূন্যস্থান পূরণ কর, নিজের ভাইয়ের সঙ্গে বিনম্র ব্যবহার কর, শয়তানের জন্য জায়গা খালি রেখ না, যে কাতারযুক্ত হবে আল্লাহতায়ালা তাকে আপন রহমতের সঙ্গে যুক্ত রাখবেন এবং যে কাতার বিচ্ছিন্ন হবে তিনি তাকে রহমত থেকেও বিচ্ছিন্ন করে দেবেন (আবু দাউদ)। আরেকটি হাদিসেও কাতার সোজা রাখার প্রতি বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, ‘নামাজের ইকামত বলা হলো, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রতি মনোনিবেশ করে বললেন- তোমরা কাতার সোজা রাখ, মিলেমিশে দাঁড়াও, কারণ আমি তোমাদের পেছন থেকেও দেখি (বুখারি)

আল্লাহ আমাদের কাতারে সোজা করে সহিভাবে নামাজ আদায়ের তৌফিক দিন।

লেখক : ইসলামী গবেষক।

You Might Also Like