হাতকড়া পরা মায়ের ‘স্বাধীনতা’ প্রসব! (ভিডিও)

দাহাব হামদি নামে ১৮ বছরের এক মিসরীয় মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছিল দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। সেনা অভ্যুত্থান বিরোধী বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করার অপরাধে নির্বিচার গ্রেপ্তারের অংশ হিসেবে ওই মেয়েটিকেও আটক করা হয়েছিল। কিন্তু সমস্যা হলো মেয়েটি তখন ছিল আট মাসের গর্ভবতী।

দাহাব জানায়, রাস্তায় হাঁটার সময় নিরাপত্তা বাহিনী বিনা কারণেই তাকে আটক করে। তার সাথে তার বান্ধবীকেও আটক করে। তারা একসাথে একটি হাসপাতালে যাচ্ছিল স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য। তারা বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেনি।

গ্রেপ্তারের পর নিরাপত্তা কর্মকর্তারা হুমকি দেয় দাহাবকে জেলের ভেতরই সন্তান প্রসব করতে হবে। তার আটকাদেশ বাড়ানো হয় ১৫ দিনের জন্য। এখন সে হাসপাতালে আছে এবং হাতে হাতকড়া অবস্থায়। তাকে আল-আমেরিয়া পুলিশ সদরদপ্তরে পাঠানো হতে পারে। তাকে ওখানে আটকাবস্থায় থাকতে হবে।

এদিকে, দাহাবের স্বামী জোর দাবি করেন তার স্ত্রী কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নয়। সে বিক্ষোভ চলা অবস্থায় হাসপাতালে যাচ্ছিলেন এবং ওখানেই তাকে আটক করা হয়। তিনি পাবলিক প্রসিকিউটরের সাথে যোগাযোগ করেছেন কিন্তু তিনি এখনো কোনো জবাব পাঠাননি।
[youtube]Or2roo0Mt5M[/youtube]

ভিডিওর কথাগুলো হুবহু তুলে ধরা হলো:
দাহাব: আমার নাম দাহাব..দাহাব হামদি। আমি রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম তারা আমাকে আটক করে।

সাক্ষাতকারগ্রহীতা: আপনি কি বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছিলেন?
দাহাব: না। আমি ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। তারা আমাকে এবং আমার বান্ধবীকে গ্রেপ্তার করে। এক যুবক চিৎকার করে তাদের কাছে বলেছিল- আমরা বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করিনি। কিন্তু তারপরও তারা আমাকে আটক করে।

সাক্ষাতকারগ্রহীতা: তারপর কী ঘটলো?
দাহাব: তারা আমাদেরকে পুলিশ সদর দপ্তর (সাহেল) এ নিয়ে যায়। তারপর আমাদেরকে আল আমেরিয়া পুলিশ সদরদপ্তরে পাঠিয়ে দেয়।

সাক্ষাতকারগ্রহীতা: এটা কখন?
দাহাব: এটা গণভোটের দিন (১৪ জানুয়ারি,২০১৪)।

সাক্ষাতকারগ্রহীতা: সদর দপ্তরে তারা আপনাদের সাথে কেমন ব্যবহার করে?
দাহাব: পুলিশ সদরদপ্তরে পৌঁছার পর আমি পুলিশ অফিসারকে বলি যে আমি বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করিনি। কিন্তু ওই পুলিশ অফিসার জবাব দেয়- সাবধান! তোমাকে জেলখানাতেই বাচ্চা প্রসব করতে হবে। চুপ থাক এবং কথা বলবে না।

সাক্ষাতকারগ্রহীতা: আপনি হাসপাতালে আসলেন কিভাবে?
দাহাব: আমার আইনজীবী নিয়ে এসেছে।

সাক্ষাতকারগ্রহীতা: আপনি কি জেলখানায় ফেরত যাবেন?
দাহাব: হ্যাঁ। তারা আমাকে জেলখানায় নিয়ে যাবে।

সাক্ষাতকারগ্রহীতা: আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ কী?
দাহাব: আমি বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছি, দাঙ্গায় অংশগ্রহণ করেছি-এরকম আরো অনেক অভিযোগ।

সাক্ষাতকারগ্রহীতা: আপনার মামলাটা কিভাবে চলছে?
দাহাব: আরো ১৫ দিন লাগবে শেষ হতে, তারপর…।

সাক্ষাতকারগ্রহীতা: দেশের সরকারের কাছে আপনি কী বার্তা দিতে চান?
দাহাব: আমি আশা করি আমাকে যেন আমার বাচ্চা মেয়ের সাথে পুলিশ সদরদপ্তরে নিয়ে যাওয়া না হয়। ওখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো না, এখানে ভালো। এটাই আর কি।

সাক্ষাতকারগ্রহীতা: আপনার মেয়ের নাম কী রেখেছেন?
দাহাব: হোরিয়া (স্বাধীনতা)।

You Might Also Like