ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে জঙ্গি সংগঠন!

বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো তাদের আধুনিক সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সাধারণত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে থাকে। জঙ্গিসংগঠনের প্রাণঘাতী এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর বিষয়টি হয়তো কল্পনা করার মতোই কোনো ঘটনা।

তবে পাকিস্তানের জঙ্গিসংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দাবি করেছে। বুধবার ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, চীনের সঙ্গে পাকিস্তান সরকার যখন হাজারো কোটি টাকা বিনিয়োগ চুক্তি করছে, ঠিক তখন জঙ্গিসংগঠন টিটিপি ওমর-১ নামের দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে পরীক্ষা করেছে। সোমবার টিটিপির ওয়েবসাইটে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে এমন দাবি করা হয়।

 

টিটিপি পাকিস্তানে বেশ শক্তিশালী জঙ্গিসংগঠন। তবে বর্তমান পাকিস্তানি সেনাদের প্রতিরোধের মুখে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী উপজাতীয় অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান দূঢ় করেছে বলে জানা গেছে।

 

জঙ্গিসংগঠনটি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দাবির সমর্থনে একটি বিবৃতি এবং ক্ষেপণাস্ত্র উদ্বোধনের একটি ভিডিওচিত্র তাদের ওয়েবসাইটে পোস্ট করেছে।

 

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উদ্বোধনের আগে ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন অংশ আলাদা আলাদাভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
টিটিপি বলছে,  ওমর-১ ক্ষেপণাস্ত্রের ‘নকশা’ এটি। ভিডিওতে টিটিপির মুখপাত্র মুহাম্মদ খুরাসসানি ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কে বলেন, ‘এটি পরিস্থিতি অনুযায়ী যেকোন সময় জোড়া লাগানো যায় কিংবা আলাদা করা যায়। তিনি আরো জানান, বিশেষ আকৃতির এ ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা হচ্ছে, এটি শত্রুপক্ষের ওপর সুনিশ্চিতভাবে আক্রমণ করতে সক্ষম হবে।’
তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে, এর মাধ্যমে আমরা শিগগিরই আমাদের শত্রুদের পরাজিত করতে পারব।’ তবে ক্ষেপণাস্ত্র উড্ডীয়নের কোনো চিত্র ওই ভিডিওতে দেখানো হয়নি ।

মুখপাত্র আরো বলেন, ‘টিটিপির প্রকৌশল বিভাগ আধুনিক প্রাণঘাতী অস্ত্র তৈরিতে সক্ষমতা অর্জন করেছে। আমাদের যোদ্ধাদের আরো বেশি শক্তিশালী করতে তাদের আত্মঘাতী পরিবহণ, হাতবোমা, গ্রেনেড, বোমা প্রতিরোধক যন্ত্রপাতি এবং এ রকম অস্ত্রপাতি তৈরিতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি আমরা।’

 

পাকিস্তানের পেশোয়ারে সেনা পরিচালিত এক স্কুলে তালেবান হামলার পর  জঙ্গিসংগঠনটির বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এর পর থেকে দুই হাজারের বেশি জঙ্গিকে হত্যা করে সেনা বাহিনী।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

You Might Also Like