রাবি উপাচার্য লাঞ্ছিত, ক্ষুব্ধ ক্যাম্পাস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষকদের লাঞ্ছনা ও দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিচার দাবি করা হয়।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ, সমাজকর্ম বিভাগ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ও ফোকলোর বিভাগের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে গণস্বাক্ষর, মানববন্ধন, মৌন মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের উদ্যোগে রাবি উপাচার্য ও শিক্ষকদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে থেকে মৌন মিছিল বের করা হয়। মৌন মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সেখানে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুনুর রশীদ তালুকদার, রাবি শিক্ষক সমিতিরি সভাপতি আনন্দ কুমার সাহা, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাহানুর রহমান।

বক্তারা বলেন, এ ধরনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নজিরবহীন। উাপাচার্যকে লাঞ্ছিত করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে।

সমাবেশ চলাকালে সিনেট ভবনের সামনে এ ঘটনার প্রতিবাদে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা হয়।

বেলা ১২টার দিকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগ মমতাজ উদ্দিন কলা ভবনের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন থেকে উপাচার্য ও শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের শাস্তি দাবি করা হয়। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক নীলুফার সুলতানা, বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ওয়ারদাতুল আকমাম প্রমুখ।

একই সময় মমতাজ উদ্দিন কলা ভবনের সামনে থেকে সমাজকর্ম বিভাগের উদ্যোগে র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে এসে মানববন্ধনে মিলিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক শর্মিষ্ঠা রায়, বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান প্রমুখ।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজী ভবনের সামনে ফোকলোর বিভাগের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোবাররা সিদ্দিকা, বিভাগের অধ্যাপক সাইফুদ্দীন চৌধুরী, অধ্যাপক আবুল হাসান চৌধুরী, অধ্যাপক আখতার হোসেন, অধ্যাপক তারিকুল আহসান, সহকারী অধ্যাপক অনুপম হীরা ম-ল, উদয় শংকর বিশ্বাস, আমিরুল ইসলাম প্রমুখ।

মানববন্ধন থেকে উপাচার্য ও শিক্ষকদের লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িত সাংসদ ওমর ফারুক ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়। এছাড়া তাদের দল থেকে বহিষ্কার করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

You Might Also Like