‘আপত্তিকর’ লেখার দায়ে স্কুলশিক্ষকের কারাদণ্ড

পহেলা বৈশাখে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের স্মরণিকা ‘বিশাখা’-এর একটি প্রবন্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার দায়ে লেখক স্কুলশিক্ষক জাহিদুর রহমানকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিষ্ণুপদ পাল ভ্রাম্যমাণ আদালতের ১৭৯/১৫ নম্বর মামলায় বাংলাদেশ পেনাল কোডের ২৯৫ ধারায় এই দণ্ড দেন। পরে জাহিদুর রহমানকে সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক ) মো. মহসীন আলী।

জাহিদুর রহমান সদর উপজেলার বলাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মশাসন গ্রামের আবদুর রশীদের ছেলে। জেলা শহরে একটি ভাড়া বাড়িতে থেকে জাহিদুর চাকরি করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার নেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্মরণিকা ‘বিশাখা’ প্রকাশিত হয়। গত মঙ্গলবার সাতক্ষীরার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে জেলা প্রশাসন আয়োজিত বৈশাখী অনুষ্ঠান চলাকালে সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি আনুষ্ঠানিকভাবে এর মোড়ক উন্মোচন করেন। এ সময় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রিফাত আমিন, জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল আহসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মহসীন আলীসহ সুধীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মরণিকায় জাহিদুর রহমান ‘বাঙালির নববর্ষ উদযাপন’ শীর্ষক লেখায় একাধিক অনুচ্ছেদে পহেলা বৈশাখ সম্পর্কে উসকানিমূলক, আপত্তিকর এবং অসত্য তথ্য দেওয়ায় জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল আহসান লেখাটি প্রত্যাহার করেন। পাশাপাশি এর সব কপি বাজেয়াপ্ত করে এটি বিক্রয়, বিপণন, প্রচার ও উপহার দেওয়া নিষিদ্ধ করে জেলা প্রশাসন।

এরপর গতকাল বুধবার স্কুলশিক্ষক জাহিদুর রহমানকে দুপুর ৩টার দিকে আটক করা হয়।

জেলা প্রশাসন জানায়, স্মরণিকা ‘বিশাখা’ বের করার জন্য জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে কবি পল্টু বাসারকে আহ্বায়ক করে একটি প্রকাশনা পরিষদ গঠন করা হয়। এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন হেনরি সরদার, আবু আফফান রোজ বাবু ও মনিরুজ্জামান ছোট্টু। গত মঙ্গলবার ‘বিশাখা’ বের হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক ) মো. মহসীন আলি আরো জানান, ‘বিশাখা’ সম্পাদক পল্টু বাসারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।সময় স্বল্পতায় ও ঠিকমতো প্রুফ না দেখার কারণে অসাবধানতাবশত এ লেখাটি ছাপা হওয়ায় স্মরণিকার সম্পাদক দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন।

এদিকে এ ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদকে প্রধান করে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি অনতিবিলম্বে প্রতিবেদন জমা দিবে বলে জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক।

You Might Also Like