ইরানের কাছে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে উচ্চপ্রযুক্তির রুশ ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী ব্যবস্থা সরবরাহের সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়েছে ওয়াশিংটন। এবিষয়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভকে টেলিফোন করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।

লাভরভ তাকে বলেছেন, এমাসেই ইরানের সাথে পারমানবিক চুক্তির কাঠামো নিয়ে যে সমঝোতা হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালে রাশিয়ার স্বেচ্ছায় আরোপ করা অবরোধের আর প্রয়োজন নেই।

পারমানবিক চুক্তি নিয়ে সমঝোতার প্রেক্ষিতে রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে চাইলেও, যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে এই নিষেধাজ্ঞাটি জাতিসংঘের আরোপ করা অবরোধের অংশ এবং জুন নাগাদ একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ তুলে নেয়া উচিত হবে না।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলছেন, পৃথক একটি রুশ অবরোধের কোন প্রয়োজন নেই এবং ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী ব্যবস্থার মাধ্যমে কোন দেশের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হবে না।

লাভরভ বলেন, “এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী ব্যবস্থার ব্যবহার সম্পূর্ণই প্রতিরক্ষামূলক। এটি হামলার জন্য তৈরি করা হয়নি এবং এর মাধ্যমে কোন অঞ্চলের নিরাপত্তাই বিঘ্নিত হবে না। যার মধ্যে ইসরায়েলও অন্তর্ভুক্ত।”

রুশ আকাশ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রয়েছে উচ্চপ্রযুক্তির রাডার এবং ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপনযোগ্য দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। এই ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে জঙ্গিবিমানসহ অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্রেও আঘাত করা সম্ভব।

প্রায় ৮০ কোটি ডলারের বিনিময়ে ইরানের কাছে রাশিয়া এই অস্ত্র বিক্রির চুক্তি করেছিল ২০০৭ সালে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের কড়া আপত্তির মুখে সেই চুক্তি স্থগিত করা হয়েছিল।

কবে নাগাদ এই ব্যবস্থাটি ইরানের কাছে সরবরাহ করা হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। মূল চুক্তিতে যে মডেল সরবরাহের কথা ছিল, রাশিয়া এখন আর তা তৈরি করছে না। পরিবর্তে আরো উন্নতমানের প্রযুক্তি সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হোসেইন দেঘান বলেছে, রাশিয়ার সিদ্ধান্তের ফলে এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

তবে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ইসরায়েল। বিবিসির একজন সংবাদদাতা বলছেন, ইসরায়েলের ভয় হচ্ছে, এস-৩০০ নামের এই ব্যবস্থাটি ইরানের হাতে থাকলে ভবিষ্যতে ইরানের পারমানবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো ইসরায়েলের জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়বে।

সূত্র : বিবিসি

You Might Also Like