আনিসুলের বিধি ভঙ্গ, প্রধানমন্ত্রীর নামে স্লোগান

নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে কমিউনিটি সেন্টারে সভা করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে সরকারি দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আনিসুল হক, যাতে আওয়ামী লীগের দুজন কেন্দ্রীয় নেতাও ছিলেন।

সোমবার মোহাম্মদপুরের রিং রোডে সূচনা কমিউনিটি সেন্টারে এই সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামেও স্লোগান ওঠে, যা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের এই নির্বাচনের সঙ্গে বিধিমালা বিরোধী।

ঢাকা উত্তরের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তারিফুজ্জামান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “কোনো কমিউনিটি সেন্টারে নির্বাচনী সভা করা আচরণবিধির লঙ্ঘন। প্রচারণাতে কোনো বাধা নেই, তবে সভা বা বৈঠক বিধিপরিপন্থি।”

তবে আনিসুল হকের দাবি, তিনি কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া নিয়ে সভা করেননি, ফলে তাতে বিধি লঙ্ঘন হয়নি।

২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ‘টেবিল ঘড়ি’ প্রতীকের প্রার্থী আনিসুল সোমবার সকালে জনসংযোগ করেন মোহাম্মদপুর জাপান গার্ডেন সিটি, পিসি কালচার এলাকা, তাজমহল রোড, জাকির হোসেন রোড, মোহাম্মদপুর বাজার ও লালমাটিয়া এলাকায়।

রিং রোডে সূচনা কমিউনিটি সেন্টারে সভার পর তার এই জনসংযোগ শুরু হয়। সভায় আওয়ামী লীগের দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক ছিলেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় স্লোগান নিষিদ্ধ হলেও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নামে সেøাগান ছিল আনিসুল সমর্থকদের মুখে। এর মধ্যে একটি স্লোগান ছিল- ‘শেখ হাসিনার সালাম নিন, টেবিল ঘড়ি মার্কায় ভোট দিন’।

মোহাম্মদপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আনিসুলের পক্ষে প্রচারে সক্রিয় রয়েছেন।

মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান মাহমুদ শামীম বলেন, তারা কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে দিনের বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনী প্রচারণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

ব্যবসায়ী আনিসুল হক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমর্থন পাওয়ার পর নিজেকে প্রধানমন্ত্রী সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন, যা নিয়ে আলোচনা উঠেছিল।

২৮ এপ্রিল তিনি সিটি করপোরেশনে ভোটের আগে আগে নির্বাচনী বিধিমালা পালনে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের প্রধানমন্ত্রীর সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়ার খবর প্রকাশের এক দিনের মধ্যে রাজধানীতে আনিসুলের এই সভা হল।

মোহাম্মদপুরে আনিসুল হকের সভার খবর পেয়ে মিরপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় থাকা তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তাবিথ আউয়াল সাংবাদিকদের কাছে এনিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান।

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তাবিথ বলেন, “সরকার দলীয় প্রার্থী একটি কমিউনিটি সেন্টার ব্যাবহার করে নির্বাচনী সভা করেছেন। নির্বাচন কমিশন যে একেবারেই লেভেল প্লেইং ফিল্ড বাস্তবায়ন করতে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না, এটা তারই একটা উদাহরণ।”

আচরণবিধি পালন নিশ্চিত এবং সব প্রার্থীদের সমান সুযোগের ক্ষেত্র তৈরি করতে নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানান এই মেয়র প্রার্থী।

বিধি ভঙ্গ করে আনিসুল হকের বৈঠকের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহ আলমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে একজন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বিকালে বলেন, “আমরা এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। তথ্যসহ অভিযোগ পেলে রিটার্নিং অফিসার তা খতিয়ে দেখতে পারেন।”

কমিউনিটি সেন্টারে সভার বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, “আমি কমিউনিটি সেন্টারের বারান্দায় পথসভা করেছি। সেখানে মাত্র ১০ মিনিট ছিলাম। আচরণবিধি মেনেই এ প্রচারণা চালানো হয়েছে।” কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া কিংবা শোভাযাত্রা বা মিছিল না করায় তা আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

সূচনা কমিউনিটি সেন্টারের ওই সভায় আনিসুল হক বলেন, “আমি মনে করি, জনগণের উন্নয়নের জন্য একজন জনপ্রতিনিধি প্রয়োজন, যে জনগণের ভালো করবে, জনগণের দিকে তাকাবে।

“আমি আগামী ৫ বছরের জন্য আমাকে জনগণের সেবা করার জন্য উৎসর্গ করেছি। আমি আমার পরিবার, আমার বাবার কাছ থেকে এজন্য সময় নিয়েছি।”

You Might Also Like