ঐশীসহ চারজনের নামে চার্জশিট এ সপ্তাহে

পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যার ঘটনায় চলতি সপ্তাহে আদালতে চার্জশিট দিচ্ছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এতে তাদের মেয়ে ঐশী রহমান, তার দুই বন্ধু জনি ও রনি এবং বাসার কাজের মেয়ে খাদিজা আক্তার সুমীকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।  তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক আবু আল খায়ের মাতুব্বর রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আবু আল খায়ের জানান, মামলার তদন্ত শেষ। চলতি সপ্তাহে আদালতে চার্জশিট দেয়া হবে। ঐশী রহমানের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনও হাতে পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
অপ্রাপ্তবয়স্ক কাজের মেয়ে সুমির বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “আইনের ভাষায় অপ্রাপ্তবয়স্ক হলেও অপরাধে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তিনি অপরাধী। এ হত্যায় সুমির ক্রিটিকাল কিছু বিষয়ে ভূমিকা ছিল। ঐশী তার বাবা-মাকে নেশাজাতীয় ওষুধ খাওয়ানো ও আঘাত করার সময় সুমি নীরব ছিল। মায়ের শরীর থেকে স্বর্ণালংকার খোলা ও মেঝের রক্ত মোছার সময় ঐশীকে সহযোগিতা করেছে সুমি।”
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ঐশী রহমানের সঙ্গে জনি ও রনির পরিচয় হয় একটি ডিজে পার্টিতে। সেখানে তারা নিয়মিত যাতায়াত করত। মাদক নেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল। বাবা-মাকে হত্যার আগে ঐশীকে বিদেশে যাওয়ার প্রলোভন দেখায় দুই বন্ধু। হত্যার  আগে ও পরে রনি ঐশীকে আশ্রয় দিয়েছে।
গত বছরের ১৬ আগস্ট শুক্রবার রাতে রাজধানীর চামেলীবাগের ‘চামেলী ম্যানশনে’র ছয় তলার বি-৫ নম্বর ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঐশীর কক্ষের বাথরুম থেকে চাদর দিয়ে প্যাঁচানো অবস্থায় লাশ দু’টি উদ্ধার করা হয়। দুজনের শরীরেই ছিল বহু ছুরিকাঘাতের চিহ্ন।
ঘটনার পর এক দিন পালিয়ে থেকে পল্টন থানায় আত্মসমর্পণ করে ঐশী। এরপর তাকে ও কাজের মেয়ে সুমিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। রিমান্ড শেষে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় ঐশী। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে গাজীপুরের কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে কাজের মেয়ে সুমিকেও রাখা হয়।
জবানবন্দিতে ঐশী জানায়, ১৩ আগস্ট ওষুধের দোকান থেকে তিন পাতা টেনিল ও তিন পাতা নাইট্যাচ (মোট ৬০টি) কিনে নিয়ে রাখে বাসায়। পরদিন বাসায় বাবা-মায়ের জন্য কফি তৈরি করে। সব ওষুধই গুঁড়ো করে কফির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়। মাগরিবের নামাজের পর মাকে কফি খেতে দেয়। মা কফি খেয়ে ঘুমিয়ে যান। রাত ১১টার পর অবশিষ্ট কফি গরম করে বাবাকে খেতে দেয়। বাবাও কফি পান করে ঘুমিয়ে যান। রাত দুটার দিকে হত্যার মিশন শুরু হয় ঐশীর।
বাবা-মায়ের সঙ্গে দূরত্ব প্রসঙ্গে এশী জানায়, পারিবারিক শাসন এত বেশি ছিল যে, বাসায় কারও সঙ্গে কিছু শেয়ার করতে পারত না। জনির সঙ্গে সবকিছু আলোচনা করত। ঘটনার চার-পাঁচ দিন আগে থেকেই বাবা-মাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে জানায় ঐশী।

You Might Also Like