সারাদেশে জামায়াতের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জামায়াত নেতা মুহম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের প্রতিবাদে দেশব্যাপী দলটির ডাকে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে। শনিবার রাতে কামারুজ্জমানের ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের প্রতিবাদে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ হরতালের এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

হরতালকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন রয়েছে র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের যৌথ টহল টিম নামানো হয়েছে। দেশের অন্যান্য নগর মহানগর ও গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। হরতালের সমর্থনে মিছিল-পিকেটিং ঠেকাতে সর্বত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক তৎপরতা চোখে পড়ার মতো।

আজ সোমবার সকালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হরতালের সমর্থনে বিক্ষিপ্ত মিছিল-পিকেটিং করেছে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। এছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে সড়কে অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে তেমন কোন সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

হরতালে সকাল থেকে রাজধানীতে সীমিত সংখ্যক গণপরিবহন চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে পরিবহনগুলোতে যাত্রী সংখ্যা কম দেখা যায়। এছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলও ছিল কম।
ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক। তবে গাবতলি, সায়েদাবাদ ও মহাখালী থেকে দূরপাল্লার কোন যান ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। যাত্রী পাওয়া সাপেক্ষে হাতেগোনা কিছু বাস ছাড়া হতে পারে বলে জানায় বাস কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে দেশের বিভিন্ন নগর-মহানগরসহ জেলায়ও চলছে শান্তিপূর্ণ হরতাল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক প্রহরার মধ্যেও হরতালের সমর্থনে বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত মিছিল-পিকেটিং করছে জামায়াত নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ, রাস্তায় অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভ করেছে তারা। ঘটেছে ককটেল বিস্ফোরণ। জেলা সদর, নগর-মহানগরগুলোর আন্তঃমহাসড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরায় কিছু হালকা যানবাহন চলাচল করার খবর পাওয়া গেছে।

জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর ও দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বিবৃতিতে।

You Might Also Like