৩৭-এ বলিউডের রানি!

সেই কবে বলিউডের এক নায়ক গেয়েছিলেন মেরে সপনো কি রানি কব আয়েগি তু..। বলিউডে রানি অবশ্য এলেন তার অনেকগুলো দিন পরেই। যেদিন রাজা কি আয়েগি বারাত, সেদিনই যে বলিউড তার রানিকেও পেয়ে যাবে এ কথা বুঝি জানত হিন্দি সিনেমার দুনিয়া। বাংলা সিনেমা অবশ্য তার কিছুদিন আগেই দেখেছিল এক সদ্য কিশোরীর অভিনয়ে কেমন বিয়ের ফুল ফোটে। অভিনয় সাম্রাজ্যে যে তিনি রানি হয়ে থাকবেন এ কথা হয়তো আগেভাগেই আঁচ করেছিল বাংলার ছবিঘর। বাংলা যা ভাবে তা নাকি দুইদিন পরে হলেও সারা দেশ ভাবে।

শুরুর দিকের ওঠাপড়া সরিয়ে তাই একদিন হিন্দি সিনেমাও ঠিকঠাকভাবে চিনে নিয়েছিল তাকে। তার ওই নিষ্পাপ অথচ গ্ল্যামারাস লুকে, হাস্কি অথচ প্রত্যয়ী কণ্ঠস্বরের মাদকতাতেই যে দর্শকমনে কুছ কুছ হোতা হ্যায় তা বুঝে নিতে শুরুতে একটু সময়ই নিয়েছিল বলিপাড়া। তবে যখন বুঝল তখন সিংহাসন ছেড়ে দিতে কুণ্ঠা করেনি। আর তাই দীপিকা-আলিয়াদের সময়েও বলিউডের রানি হয়ে থেকে গেছেন বাঙালিকন্য রানি মুখোপাধ্যায়। ২১ মার্চ ৩৬ পেরিয়ে পা রাখলেন বয়সের হিসেবে ৩৭ এর ঘরে।

রানি যখন হিন্দি সিনেমা করতে এলেন ততোদিনে বিশ্বায়ন পরবর্তী সময়ের সাত বছর পেরিয়ে গেছে। ডিডিএলজের মতো সিনেমা এসে হিন্দি সিনেমার প্রায় খোলনলচে পাল্টে দিয়েছে বলা যায়। পারিবারিক সূত্রে বাঙালি কাজল তখন শুধু বলিউড কেন গোটা দেশের হৃদয় কাঁপিয়ে দিয়েছেন। এমন সময়ে রানি এলেন। বলা যায় কাজলের ইন্দ্রজালে আছন্ন সিনেদুনিয়ায় তিনি এলেন প্রায় নিঃসাড়ে। বলিউডের চিত্রনাট্যের মতো কোনও ভিনি-ভিডি-ভিসি হল না।  প্রথম ছবি রাজা কি আয়েগি বারাত যে ব্লকবাস্টার হয়ে রাতারাতি ইতিহাস বদলে দিয়েছিল এমনটা নয়। তার উপর কণ্ঠস্বরের টেক্সচারটাই অন্যরকম। একের পর এক ছবিতে পরিচালকরা তাঁর কণ্ঠ অন্যকে দিয়ে ডাব করিয়েছেন।

কুছ কুছ হোতা হ্যায়তে টুইঙ্কল খান্নার জন্য লেখা চরিত্র গেল তাঁর কাছে, কিন্তু যখন টুইঙ্কল তো বটেই, বলিউডের প্রায় কোনও প্রথম সারির নায়িকাই সে চরিত্রে অভিনয় করতে রাজি হননি তখন। কিন্তু সে ছবির টিনা মালহোত্রাই বদলে দিয়েছিল রানি মুখোপাধ্যায়ের জীবন। চূড়ান্ত সফল শাহরুখ-কাজল জুটি ছবিতে থাকা সত্ত্বেও রানির জন্য সিনেপ্রেমীরা বলে উছলেন ক্যায়া করু হায়ে কুছ কুছ হোতা হ্যায়..। সে ম্যাজিক রানি শেষ হতে দেননি। কখনও বান্টির জন্য বাবলি হয়েছেন, তো কখনও বীরের জন্য জারা, কিন্তু যাঁরা রানির অভিনয় দেখেছেন তাঁরা মুগ্ধ হওয়া ছাড়া দ্বিতীয় কোনও পথ খুঁজে পাননি। পরবর্তীকালে ব্ল্যাক ছবিতে মূক-বধির চরিত্রের জন্য তাই প্রায় নির্বিকল্প ভাবেই তাঁকে বেছে নিয়েছিলেন সঞ্জয় লীলা বনশালী। ততোদিনে বলিউড ১০০ শতাংশ নিশ্চিত যে রানি মুখোপাধ্যায় স্রেফ বলিপাড়ার নায়িকা মাত্র নন, বরং একজন সম্পূর্ণ অভিনেত্রী।

এই ক্যায়া বলতি তুর মতো হালকা চালের রোম্যান্সনির্ভর চরিত্র থেকে নিজেকে যিনি নিয়ে যেতে পেরেছেন হাম তুম বা কভি আলবিদা না কেহনার মতো সম্পর্কের গহীনে ডুব দেওয়া চরিত্রে। পৌঁছতে পেরেছেন নো ওয়ান কিলড জেসিকার দুরন্ত সাংবাদিক থেকে মর্দানির শিবানি শিবাজি রাওয়ের মতো দুঁদে, মানবিক মহিলা পুলিশ অফিসারের চরিত্রে। আর এখানেই রানি নিজেকে আলাদা করে নিতে পেরেছেন বলিউডের অন্যান্য নায়িকাদের থেকে। কোনও এক ইমেজে তাঁকে বাঁধা যায় না, অভিনয়ের দুনিয়ায় তিনি সত্যিই পহেলি। কিছুদিন আগেই বিবাহিত জীবন শুরু করেছেন রানি। কেরিয়ারেও শুরু করেছেন দ্বিতীয় ইনিংস। দুই ক্ষেত্রেই তাঁর সাফল্যের জন্য থাক শুভকামনা। কেননা রানির প্রতিটি সাফল্য দর্শকের প্রাপ্তির ভাঁড়ারকেও যে ভরিয়েই দেয় প্রতিবার।

You Might Also Like