বাজে আম্পায়ারিং নিয়ে ‘ক্ষুব্ধ’ মাশরাফি

প্রশ্নটা তৈরিই ছিল। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর দিকে যে প্রশ্নটা ধেয়ে যাবে, এটা ছিল একদম নিশ্চিত। শুধু বোলিংয়ের সময় নয়, ব্যাটিংয়ের সময়ও আম্পায়ারের গুরুত্বপূর্ণ দুটি সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে গেছে। কিন্তু এ নিয়ে মুখ খোলার জো নেই। আচরণবিধির কারণে কিছু বলতে পারলেন না মাশরাফি বিন মুর্তজাও। তবে তাঁর কথা শুনে মনে হচ্ছে, এ নিয়ে রাগ পুষে রেখেছেন। মাশরাফি বললেন, ‘মাঠে কী হয়েছে সেটা তো সবাই দেখেছে। আমি এ নিয়ে কোনো কথা বলব না। ‘
রোহিত শর্মা সে সময় আউট হলে ভারত হয়তো এতগুলো রান তুলতেও পারত না। আম্পায়ারের বদৌলতে সুযোগ পাওয়ার পর ২৫ বলে ৪৭ করেছেন রোহিত। রোহিত তখনই আউট হয়ে গেলে অন্য রকম কিছু হতো কি? মাশরাফির উত্তর, ‘হতে পারত। ভারতের বিপক্ষে সব সময়ই আপনাকে উইকেট নিতে হবে। না হলে কাজটা কঠিন হয়ে যাবে। সে সময় রোহিত আউট হয়ে গেলে দারুণ হতো। কিন্তু আমি এ নিয়ে কিছু বলতে পারব না। মাঠেদ্ধ কী হয়েছে তা তো আপনারা সবাই দেখেছেনই। ‘ আবার সেই ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ থামিয়ে দিতে বাধ্য করল মাশরাফিকে।
আম্পায়ারিং, শেষ ম্যাচে এমন হার—সব মিলিয়ে শেষটা ভালো হলো না। কিন্তু তার পরও বিশ্বকাপের প্রায় দুই মাসের এই সফরে বাংলাদেশ অনেক ইতিবাচক কিছু কুড়িয়ে নিতেই পারে। এই দীর্ঘ সময়ে মাশরাফিদের অনেক রকম অভিজ্ঞতাই হলো। সেই অভিজ্ঞতার ঝুড়িতে আনন্দ আছে, প্রাপ্তির উল্লাস আছে। এর সঙ্গে আছে টুকরো টুকরো বেদনা আর কান্নার ছবি। অবশেষে শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশের বিশ্বকাপ। শেষটা ভালো হলো না যদিও। কিন্তু অধিনায়ক মাশরাফি ইতিবাচক। আশাটাই বেশি করে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরতে চান। এই টুর্নামেন্টে পাওয়া আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে চান সামনে।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন, ‘আজকের ম্যাচটা বাদ দিলে আমাদের নিয়ে সমর্থকেরা গর্ব করতেই পারে। আমাদের দলটা এখনো অনেক তরুণ। দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড় অল্প কিছু ম্যাচ খেলেছে। তারা মাত্রই ক্যারিয়ারের সূচনালগ্নে। দলের খেলোয়াড়রাও নিজেদের নিয়ে গর্ব করতে পারে তাদের প্রচেষ্টার জন্য। ‘
সামনেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের ব্যস্ত সময়। এপ্রিলে পাকিস্তান আসবে বাংলাদেশে। জুনে ভারত। সেই মাসে আসবে দক্ষিণ আফ্রিকাও। অক্টোবরে আসবে অস্ট্রেলিয়া। পরের বছর শুরুতেই জিম্বাবুয়ে আসবে পূর্ণাঙ্গ সফরে। মাশরাফি বলেছেন, ‘সামনে অনেকগুলো সিরিজ আসছে। আমরা আমাদের মাটিতে খেলব। আমরা অবশ্যই ভালো একটা দল হয়ে উঠব। এর আগেও বলেছি, এ ধরনের কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা আমাদের ছিল না। এখন আবার আমরা দেশে খেলব, যেখানে কীভাবে খেলতে হয় আমরা জানি। আশা করি এই বছরটা আমাদের জন্য রোমাঞ্চকর হবে। ‘
শেষটা আরেকটু ভালো হতেই পারত। এ নিয়ে আক্ষেপ আছে। মাশরাফিকে পোড়াচ্ছে টস জিততে না পারাটা, ‘টসটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরাও প্রথমে ব্যাটিং করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এটা তো আর আমাদের হাতে নেই। ‘ প্রথমে বোলিং করলেও ২৫ ওভার পর্যন্ত ভারতকে কোণঠাসা করেই রেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এর পরও ভারত তিন শ পেরিয়ে গেল। মাশরাফি বলেছেন, ‘সে সময় রুবেল দারুণ বোলিং করছিল। অন্য প্রান্ত থেকে সাকিবও বেশ চাপে রেখেছিল। কিন্তু চাপটা আমরা ধরে রাখতে পারিনি। ‘
তবু কি জয়ের আশা করেছিলেন? অধিনায়কের উত্তর, ‘আসলে তিন শর বেশি রান তাড়া করা সব সময়ই কঠিন। তবে ২৮০-র মতো হলে হয়তো আরও ভালো হতো। ‘ শেষ ভালো না হলেও দর্শকদের অভিবাদন আর করতালি পেয়েছেন। এ জন্যও কৃতজ্ঞ তিনি, ‘সব সমর্থককে ধন্যবাদ দিতে চাই। মাঠে এসে আপনারা আমাদের সমর্থন দিয়েছেন টুর্নামেন্টজুড়ে। এর জন্য অনেক ধন্যবাদ। ‘

You Might Also Like