গানের সুরে ‘র‌্যাপ’ গেয়ে ধর্ষণের প্রতিবাদ

পশ্চিমবঙ্গে এক নানকে গণধর্ষণের ঘটনায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে ভারতজুড়ে। এর আগে ২০১২ সালে দিল্লিতে চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হয়ে মেডিকেল কলেজের এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়। এমন ঘটনা দেশটিতে সম্প্রতি প্রায়ই ঘটছে। এসব ঘটনায় প্রতিবাদে সরব দেশটির সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সংস্কৃতি, গণমাধ্যম, কবি, ​শিল্পী সবাই। এবার গানে গানে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন র‍্যাপ সংগীতের দুই শিল্পী।
এনডিটিভি ও বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, নারীর প্রতি সহিংস যৌন অপরাধ বন্ধে দুই বান্ধবী উপেক্ষা জেইন ও পাঙ্খুরি আওয়াস্তি একটি র‍্যাপ গানের ভিডিও তৈরি করেছেন। মঞ্চ শিল্পী উপেক্ষা এবং টেলিভিশন উপস্থাপক পাঙ্খুরি সম্প্রতি ভারতে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে নিজেদের অবস্থান থেকে কিছু একটা করার চিন্তাভাবনা থেকেই তাঁরা এই ভিডিও​ ইউটিউবে পোস্ট করেন।
ভারতের বাণিজ্যিক নগরী মুম্বাইয়ের এই দ্ইু শিল্পীর ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে র‍্যাপ গানের ভিডিও ইউটিউবে পোস্ট করা হয়েছে গত ১৬ মার্চ। দুদিনে (১৮ মার্চ) এই ভিডিওটি প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার বার দেখা হয়েছে। এ খবর আজ বৃহস্পতিবার যখন আপনি পড়ছেন তখন এ সংখ্যা নিশ্চয়ই আরও অনেকে বেড়ে গেছে।
ভারতে ২০১৪ সালে এক লাখ ১৭ হাজার ৩৫টি ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী মানেকা গান্ধী সম্প্রতি জানিয়েছেন।
ইউটিউবের ওই ভিডিও পোস্টের ব্যাপারে উপেক্ষা জেই​ন বলেন, ‘ভারতে নারীদের নিরাপত্তার জন্য কিছু না করার চেয়ে কিছু করা ভালো।’ তিনি বলেন, ভারতে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে কিছু একটা অবশ্যই করা উচিত। পাঙ্খুরি আওয়াস্তি বলেন, ‘এই ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে আমরা সবাইকে একটা বার্তা দিতে চেয়েছি মাত্র।’ মুম্বাইয়ের রাস্তায় মাঝে মাঝে তিনিও সমস্যায় পড়েন বলে জানান পাঙ্খুরি আওয়াস্তি।
তবে ইউটিউব এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে র‍্যাপ গানের ভিডিওচিত্রে এতটা সাড়া পড়ে যাবে, ভাবেননি দুই বান্ধবী। সাড়া পড়ে যাওয়ায় স্বভাবই তাঁরা খুশি। দুই শিল্পী বলেন, ধর্ষণের সমস্যা কতটা প্রকট সেটি বোঝাতে গানটিতে বেশ কিছু সাহসী শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা মানুষকে নাড়া দেবে। দুই বান্ধবী ধর্ষণের মতো বড় একটি ব্যাপারটি মানুষের নজরে আনতেই র‍্যাপ গানের ভিডিওচিত্র পোস্ট করেছেন ইউটিউবে। তাদের মতে, এটি তাদের খুবই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে প্রতিবাদ জানিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন উপেক্ষা জেইনের। তিনি বলেন, আমরা জানি আমাদের এই ভিডিওচিত্র ধর্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না। কিন্তু এই ভিডিও দেখার পর যদি ১০জন লোকও এটা নিয়ে চিন্তা করে, তবে সেটাই সফলতা।’

You Might Also Like