ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের কাছে ফিরিয়ে দেবে না রাশিয়া

রাশিয়া আবারও জানিয়ে দিয়েছে, ক্রিমিয়াকে তারা ইউক্রেনের কাছে ফিরিয়ে দেবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও মঙ্গলবার এ ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। রয়টার্স অনলাইনের এক খবরে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

রুশ ফেডারেশনের সঙ্গে ক্রিমিয়ার যুক্ত হওয়ার এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ রাশিয়াকে বারবার সতর্ক করে আসছে, ক্রিমিয়াকে যেন ইউক্রেনের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু মঙ্গলবার রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার কোনো উপনিবেশ নেই। ক্রিমিয়া রাশিয়ারই অংশ এবং রাশিয়ারই থাকবে।

 

এদিকে ক্রিমিয়া রুশ ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর রাশিয়ার ওপর গত এক বছরে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা ও অরোধ অরোপ করেছে পশ্চিমা শক্তিজোট। এই অবস্থা বহাল রেখে ক্রিমিয়া নিয়ে কোনো আলোচনায় রাজি নয় রাশিয়া।

 

এ ছাড়া ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ক্রিমিয়া আমাদের আঞ্চলিক ইস্যু। এ নিয়ে বাইরের শক্তির সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়।

 

কৃষ্ণ সাগরবিধৌত ক্রিমিয়ার জনগণ গণভোটের মাধ্যমে বৈধতা দেওয়ার পর গত বছরের ২১ মার্চ রাশিয়ার পার্লামেন্ট ক্রিমিয়াকে রুশ ফেডারেশনের যুক্ত হওয়ার স্বীকৃতি দেয়। এরপর মস্কো বারবার জানিয়ে দিয়েছে, কোনো মতেই তারা ক্রিমিয়াকে আর ইউক্রেনের হাতে ফিরিয়ে দেবে না।

 

ক্রিমিয়া এখন রাশিয়ার সেনাদের দখলে। রুশ ভাষাভাষি জনগণের নিরাপত্তার ইস্যুটি সামনে রেখে ওই অঞ্চলে প্রবেশ করে রাশিয়ান সেনা। এদিকে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জেন পিসাকি বলেছেন, ক্রিমিয়া যতদিন রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবে ততদিন রাশিয়ার ওপর তাদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। ইইউর পরাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি সোমবার বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে ক্রিমিয়ার যুক্ত হওয়াকে স্বীকৃতি দেবে না ২৮ জাতির জোট ইইউ।

 

১৯৫৪ সালে রাশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে যুক্ত হয় ক্রিমিয়া। যা ৬০ বছর পর আবার রাশিয়ার সঙ্গে ফিরে এল প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সহায়তায়। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৬ মার্চ গণভোটের মাধ্যমে ইউক্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয় রাশিয়া। এই দিবস উদযাপন করেছে ক্রিমিয়ার জনগণ। সোমবার বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও নানা অনুষ্ঠানে মুখর ছিল ক্রিমিয়া।

You Might Also Like