শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনও গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকী : বার্নিকাট

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট বলেছেন, শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বেশ কিছু কাজ করেছে। রানা প্লাজা ধসের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অনেক কাজ হয়েছে। তবে এখনও বাকী রয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ।

৫ মার্চ বৃহস্পতিবার  দুপুরে রাজধানী ঢাকার বিজিএমইএ কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে একথা বলেন তিনি।

শ্রমআইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের পাশে থাকারও ঘোষণা দেন। ২০২১ সালের মধ্যে পোশাক রফতানি ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা পূরণেও সহায়তার আশ্বাস দেন বার্নিকাট।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের উচিত শ্রমআইনের সাথে মিল রেখে কমপ্লায়ান্স নিশ্চিত করা। ইতোমধ্যেই আপনারা অনেক কাজ করেছেন যা সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ বাকি আছে। আশা করছি এ দেশের পোশাক শিল্পের ব্যবসায়ীরা তাও বাস্তবায়ন করবে। আমাদের পক্ষ থেকে এসব ক্ষেত্রে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে।

তিনি বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশ শিখেছে কীভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। এ দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ অনেক ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। পরিবেশ উন্নয়নে বিশ্ববাসীর সাথে কাজ করা শুরু করেছে। এ খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। শ্রম আইন বাস্তবায়নে পোশাকশিল্প মালিক, শ্রমিক, ট্রেড ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক কমিউনিটি সবাই মিলে একযোগে কাজ করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম গার্মেন্টস খাতের অগ্রগতির পথে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও দুর্বলতার চিত্র তুলে ধরে বলেন, এ মুহূর্তে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাই তৈরিপোশাক শিল্পের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এছাড়াও বাংলাদেশে পোশাকখাতে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে পোশাকখাতের উন্নয়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা খুব জরুরি। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় পোশাক শিল্পের ১৮৯ কোটি টাকা সরাসরি ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান বিজিএমইএ সভাপতি।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের ব্যাপক সংস্কার হয়েছে। অ্যাকড ও অ্যালায়েন্স তিন হাজার ৫০০ কারখানার মধ্যে দুই হাজার ৩২৫টি পরিদর্শন করে মাত্র ২৯টি কারখানাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মতামত দিয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে এসব কারখানা বন্ধ করে দিয়েছি। পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরিও বৃদ্ধি করেছি। বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি হলেই কেবল পোশাক শিল্পের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি।

You Might Also Like