ধর্ষকের সাক্ষাৎকার নিয়ে ভারতে তোলপাড়

২০১২ সালে দিল্লির চলন্ত বাসে এক মেডিক্যাল ছাত্রীর গণধর্ষণের ঘটনা কমবেশি প্রায় সবারই জানা। নৃশংস ওই ঘটনার প্রতিবাদের ঢেউ ভারত পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।

ওই ঘটনায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মুকেশ সিংয়ের এক সাক্ষাৎকারের  জেরে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ-সমাবেশ ফিরে এসেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে তোলপাড়। এ ব্যাপারে জেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিহার জেল কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনায় যথাযথ ব্যাখ্যা চেয়েছেন ‘ক্ষুব্ধ’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং।

ওই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ ও প্রচারের ওপর আদালত যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন তা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ। দিল্লির পুলিশের প্রধান বিএস বাসসি সব গণমাধ্যমকে ওই সাক্ষাৎকার প্রকাশ ও প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

বিবিসির এক ডকুমেন্টরিতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুকেশ দাবি করেছেন, ‘১৬ ডিসেম্বরের সেই রাতে ধর্ষণে বাধা দেওয়ার জন্যই মরতে হয়েছে নির্ভয়াকে। কোনো ভদ্র মেয়ে রাত ৯টার পর রাস্তায় বেরোয় না। ধর্ষণের জন্য ছেলেদের থেকে মেয়েরা অনেক বেশি দায়ী। ছেলে আর মেয়েরা কখনোই সমান হতে পারে না। বাড়িতে থেকে গৃহস্থালির কাজকর্ম করাটাই মেয়েদের সাজে। রাত ৯টার পর ‘অশালীন’ পোশাক পরে রাস্তায় বেরোনো মেয়েদের কাজ নয়। মাত্র ২০ শতাংশ মেয়েই ভালো হয়।’

তিহার জেলে বন্দি মুকেশের এই সাক্ষাত্কারটি নেওয়া হয়েছিল ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে ওই ডকুমেন্টারিটি করা হয়েছিল। সোমবার ওই সাক্ষাৎকারের বিষয়টি প্রকাশ পায়।

গোটা বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবারই তিহার জেলের ডিজিকে ফোন করে রিপোর্ট তলব করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছেন বলে জানান তিনি। তিহার ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত মুকেশ কীভাবে সাক্ষাৎকার দিলেন, সবার আগে উঠেছে সেই প্রশ্ন। বিবিসির দাবি, জেল থেকেই সাক্ষাৎকারের অনুমতি পেয়েছিলেন তারা।

জেল সূত্রের খবর, সাক্ষাৎকারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে একইসঙ্গে শর্ত ছিল, জেল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই তা সম্প্রচার করা যাবে। তিহার কর্তৃপক্ষের দাবি, এই বিষয়ে গত নভেম্বরেই বিবিসিকে নোটিশ পাঠিয়েছেন তারা। জবাব না মেলায় আবার পাঠানো হচ্ছে নোটিশ।

কীভাবে ওই সাক্ষাৎকারের অনুমতি মিললো তা বের করতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর ‘লাইফ অব পাই’ সিনেমা দেখে এক ছেলে বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ফিরছিলেন ওই মেডিক্যাল ছাত্রী। যাত্রীবাহী বাস সাজিয়ে ৬ জন ছেলে বন্ধুকে মারধর করে ও একে একে সবাই মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। এরপর লোহার যন্ত্রপাতি দিয়ে মেয়েটিকে ভয়ানক জখম করে। ঘটনার পর মেয়েটি ও ছেলেটিকে বাস থেকে ছুড়ে পালিয়ে যায় তারা। সিঙ্গাপুরে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মেয়েটি মারা যায়।

এ ঘটনায় জড়িত ছয়জনই গ্রেফতার হন। একজনের বয়স কম হওয়ায় কিশোর অপরাধীকে সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অন্য পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। এ ঘটনার অন্যতম আসামি ও মুকেশ সিংয়ের ভাই রাম সিং তিহার কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। নিম্ন আদালত তাদের ফাঁসির আদেশ দিলেও দিল্লি হাইকোর্টে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দোষীপক্ষ। এখনো পর্যন্ত এই চারজনের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রয়েছে।

তথ্যসূত্র : জিনিউজ, বিবিসি।

You Might Also Like