গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের আবেদন খালেদার

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন। ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহাম্মদ জমাদ্দারের আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় এ আবেদন করেন। দুপুরে এ আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ওই দুই দুর্নীতি মামলার শুনানিতে দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। অন্য দুইজন হচ্ছেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ।

এর আগে দুই দুর্নীতি মামলার শুনানিতে বুধবার (৪ মার্চ) আদালতে হাজির হচ্ছেন না বলে সোমবার জানান অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া। তিনি জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে আদালতে যাচ্ছেন না খালেদা জিয়া। বুধবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার দ্বিতীয় সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। এর আগে এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন বাদী ও প্রথম সাক্ষী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদ।

গত ২৮ জানুয়ারি বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে মামলার আদালত পরিবর্তনে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার এ আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে। তাই ওই আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত রাখার জন্য বুধবার আবেদন জানানো হবে বলেও জানান খালেদার আইনজীবীরা।

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের সুপারিশে আইন মন্ত্রণালয় এ আদালতের আগের বিচারক বাসুদেব রায়ের বদলে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ হিসাবে নিয়োগ দেয় আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবু আহমেদ জমাদারকে। নানা কারণ দেখিয়ে মামলা দুইটির শুনানির জন্য নির্ধারিত ৬৩ কার্যদিবসের মধ্যে ৫৬ কার্যদিবসই অনুপস্থিত থেকেছেন খালেদা জিয়া, হাজির হয়েছেন মাত্র ৭ দিন। কোনো আসামিই আদালতে না থাকায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদকে আসামিপক্ষের জেরাও বাতিল করেছেন আদালত।

You Might Also Like