‘ইসলামপন্থীদের ওপর অভিজিৎ হত্যার দায় চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে’

অভিজিতের মূল হত্যাকারীদের চিহ্নিত করার আগেই অভিজিৎ হত্যার দায় ইসলাম ও দেশের শান্তিপ্রিয় মুসলমানদের ওপর বেআইনিভাবে চাপিয়ে দেওয়া এবং ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক বিষোদ্গারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠনো এক বিবৃতিতে হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে হেফাজত নেতৃবৃন্দ বলেন, অভিজিৎ রায়ের খুন হওয়ার নেপথ্য কারণ উদ্ঘাটন এবং খুনিদের চিহ্নিত করার পূর্বেই একশ্রেণির হলুদ মিডিয়া ও একটি ইসলামবিদ্বেষী চক্র অভিজিৎ হত্যার দায় ইসলাম ও শান্তিপ্রিয় মুসলমানদের ওপর বেআইনিভাবে চাপিয়ে দিয়ে আবারও বিদ্বেষমূলক বর্ণবাদী প্রপাগান্ডা চালানো শুরু করেছে।

অভিজিৎ হত্যার তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের আগেই ইসলাম ও মুসলমানদের ওপর ঢালাওভাবে দোষারোপের অপপ্রয়াস অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

তাঁরা বলেন, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামক কথিত ভূঁইফোড় একটি সংগঠন কর্তৃক অভিজিৎ হত্যার দায় স্বীকারের দাবির সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত না করে অযাচিতভাবে ধর্মান্ধতা, মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের জিগির তুলে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে একতরফা বর্ণবাদী প্রচারণা ও উস্কানিÑ দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করারই ষড়যন্ত্র। যে নামে সংগঠনটির দায় স্বীকারের প্রচারণা চলছে, সে নামে কোনো গোষ্ঠীর বাস্তব অস্তিত্ব আছে কিনা সে ব্যাপারেও আমরা যথেষ্ট সন্দিহান।

হেফাজত নেতৃদ্বয় আরো বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যতক্ষণ হত্যার নেপথ্য কারণ উদ্ঘাটন ও মূল হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে না পারবে, ততক্ষণ পর্যন্ত অভিজিৎ হত্যা নিয়ে নানা ধরনের গুজব ও ধোঁয়াশা তৈরি হতে থাকবে। পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনী কর্তৃক নিরাপত্তাবেষ্টিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড়ে পুলিশের চেকপোস্ট থেকে মাত্র ২৫ গজ দূরে কীভাবে দুজন নর-নারীকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে মেরে নিরাপদে পালিয়ে যেতে পারেÑএটি বিরাট প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিজিৎ নিহত হলেও তার অপর সঙ্গিনী গুরুতর জখম হয়েছে। অভিজিতের ওপর ফলস ফ্ল্যাগ অ্যাটাক তথা গুপ্তহত্যার ঘটনা সাজিয়ে কোনো ক্ষমতাধর শক্তি নিজেদের ফায়দা হাসিল করতে চেয়েছে কিনা, সেটাও আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।

তাঁরা আরো বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দেশের এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে কোনো কায়েমি স্বার্থবাজ মহল বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টির ইন্ধন দিয়ে সুবিধা নেওয়ার জন্য এই হত্যাকা- ঘটিয়ে থাকতে পারে; ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক উগ্র জঙ্গিবাদী প্রচারণা ও ঘৃণা ছড়ানোর অপচেষ্টা আমাদের এই বিশ্বাসকে দৃঢ়তর করেছে। আমরা সরকারকে অবিলম্বে এই অপপ্রচারণার লাগাম টেনে ধরে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের জনসমক্ষে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

You Might Also Like