চট্টগ্রাম বন্দর অচল করতে চেয়েছিল শিবির!

চলমান হরতাল-অবরোধে ব্যাপক নাশকতা চালিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর অচল করে দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল জামায়াত-শিবির। বন্দর অচলের পাশাপাশি ওই এলাকায় অবস্থিত তিনটি তেল ডিপো ও তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়ে সারা দেশে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত করার মিশন নিয়ে চট্টগ্রাম এসেছিল জামায়াত-শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সমাজসেবা সম্পাদক এনামুল কবির।

চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর এই শিবির নেতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এইসব নাশকতা পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সৈয়দ মাশফিকুল ইসলামের আদালতে শিবির নেতা এনামুল কবির এ জবানবন্দি দেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী মুত্তাকিম মিনান শিবির নেতার ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, কেন্দ্রীয় এই শিবির নেতা চট্টগ্রামে নাশকতার নানা পরিকল্পনার কথা এবং এই পরিকল্পনার জড়িতদের নাম প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২০ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা এনামুল কবিরকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

আদালত সূত্র জানায়, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শিবির নেতা জানান, চট্টগ্রামে আন্দোলন জোরদার করা এবং চট্টগ্রাম বন্দর অচল করার বিশেষ মিশন নিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি এনামুল কবির চট্টগ্রাম আসেন। চট্টগ্রাম এসে একটি বিল্ডংয়ের তৃতীয় তলায় প্রবাহ কোচিং সেন্টারের অফিসে ছিলেন। সেখানে শিবিরের চট্টগ্রাম দক্ষিণের সভাপতি সোহেলসহ ৮-১০ জনও ছিলেন। সেখানে চলমান আন্দোলন নিয়ে কথা হয়। সোহেলসহ অন্যান্যরা আন্দোলনের গতি কিভাবে বৃদ্ধি করা যায় সেই বিষয়ে বক্তব্য দেন। ওই সময় আলোচনায় উঠে আসে চট্টগ্রাম বন্দর অচল করা এবং পতেঙ্গায় অবস্থিত পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ওয়েল ডিপোতে তেল বিক্রি বন্ধ করার নানা পরিকল্পনার কথা। শিবির নেতারা পরিকল্পনা করেন চট্টগ্রাম বন্দরে মানুষের সমাগম ঘটিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্ন করা যেতে পারে। তাদের মধ্যে একজন বলেন, পদ্মা মেঘনা যমুনা ওয়েল ডিপোতে হুমকি প্রদান অচিরেই করা যাবে। আরেকজন সদস্য বলেন, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা ওয়েল ডিপোতে থ্রেট (হুমকি) দেওয়া সম্ভব।’

শিবির নেতা এনামুল কবির ৭ পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে আরো বলেন, ‘চট্টগ্রাম এসে শিবিরের চট্টগ্রাম মহানগর (উত্তর) শাখার সভাপতি নূরুল আমিনের সঙ্গে বেঠক করে প্রাক্তন সাংসদ শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা পোষণ করি। নূরুল আমিন আমাকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানাবে বলে।’ এরপর ২০ ফেব্রুয়ারি যোগাযোগের সময় নির্ধারিত হলেও ওইদিনই আমি গ্রেফতার হয়ে যাই।

You Might Also Like