৭২ ঘন্টার তৃতীয় দিনের হরতাল চলছে

লাগাতার অবরোধের মধ্যে দেশব্যাপী ২০ দলীয় জোটের ডাকা ৭২ ঘন্টার তৃতীয় দিনের হরতাল চলছে। রোববার ভোর ৬টা থেকে এ হরতাল শুরু হয়। শেষ হবে বুধবার ভোর ৬টায়। গত তিন সপ্তাহ ধরে প্রতিটি কর্মদিবসে হরতাল পালন করছে বিএনপি জোট।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হরতালের সমর্থনে বিক্ষিপ্ত মিছিল-পিকেটিং, অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে তেমন কোন সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

হরতাল-অবরোধকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন রয়েছে র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের যৌথ টহল টিম নামানো হয়েছে। দেশের অন্যান্য নগর মহানগর ও গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। হরতাল-অবরোধের সমর্থনে মিছিল-পিকেটিং ঠেকাতে সর্বত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক তৎপরতা চোখে পড়ার মতো।

এছাড়া অবরোধ-হরতালে যে কোন সহিংসতা মোকাবেলায় পুলিশ-র‌্যাবের পাশাপাশি সারা দেশে বেশ কয়েক প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সকালে হরতালে রাজধানীতে সীমিত সংখ্যক গণপরিবহন চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে প্রশাসনের সাথে বৈঠকে ঢাকা পরিবহণ মালিক সমিতির গাড়ি চালানোর আগের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বেলা বাড়ার সাথে সাথে যানবাহন চলাচল কিছুটা বাড়লেও পরিবহনগুলোতে যাত্রী সংখ্যা কম দেখা যায়। এছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলও ছিল কম।

ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও যাত্রী কম থাকায় নির্ধারিত সময়ের পর সেগুলো ছাড়ছে। তবে গাবতলি, সায়েদাবাদ ও মহাখালী থেকে দূরপাল্লার হাতে গোনা কিছু বাস ছেড়ে যেতে দেখা গেলেও সেগুলোতে যাত্রী সংখ্যা ছিল কম।

এদিকে দেশের বিভিন্ন নগর-মহানগরসহ জেলায়ও চলছে শান্তিপূর্ণ হরতাল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক প্রহরার মধ্যেও হরতাল-অবরোধের সমর্থনে বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত মিছিল-পিকেটিং করছে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ, রাস্তায় ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ঘটেছে ককটেল বিস্ফোরণ। জেলা সদর, নগর-মহানগরগুলোর আন্তঃমহাসড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরায় কিছু হালকা যানবাহন চলাচল করার খবর পাওয়া গেছে।

হরতালের কারণে পূর্ব নির্ধারিত আজ মঙ্গলবারের এসএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া হরতালে রাজধানীসহ সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি খুবই কম দেখা যায়।

গত শুক্রবার জোটের পক্ষে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ এক বিবৃতিতে ২০ দলের পক্ষ থেকে জানান, অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে সবার অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার, এখনও পর্যন্ত গণদাবির প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করাসহ বেশকিছু দাবিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

You Might Also Like