সরকার যে পেট্রল বোমা হামলা করছে তা ফের প্রমাণিত : শিবির

পেট্রল বোমাসহ শীর্ষ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তারে আবারো প্রমাণ হয়েছে সরকারই পরিকল্পিত বোমা হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা করছে বলে মন্তব্য করেছে ইসলামী ছাত্র শিবির। পেট্রল বোমা হামলা ও নাশকতা করে নিরীহ জনগণকে হত্যা বন্ধের দাবি জানিয়ে গনমাধ্যমে দেয়া বিবৃতিতে শিবির এসব দাবী করে।

রবিবার এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার ও সেক্রেটারি জেনারেল আতিকুর রহমান বলেন, কোনভাবেই গণআন্দোলনকে দমন করতে না পেরে ষড়যন্ত্র ও নির্মম বর্বতার পথ বেছে নিয়েছে অবৈধ সরকার। এ নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে পরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ দলীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে পেট্রল বোমা হামলা চালিয়ে নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ নিরীহ জনগণকে পুড়িয়ে হত্যা করে বিরোধী দলের উপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা করছে।

রবিবারও ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নূর হোসেনকে ৪টি পেট্রল বোমা ও ৫টি ককটেলসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১০ এর সদস্যরা। ইতিমধ্যেই সে স্বীকার করেছে নাশকতার জন্যই পেট্রল বোমা ও ককটেল রেখেছে যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে।

এর আগেও গত ৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের যুবলীগ ক্যাডার মুন্না, ১৫ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর নবাবগঞ্জ উপজেলার ছাত্রলীগ নেতা উজ্জল ও যোবায়ের, ১৭ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার যুবলীগ ক্যাডার নাজমুল, ৫ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ রুপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা রাহাত, ১০ ফেব্রুয়ারি বগুড়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা সোহাগ, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা যুবলীগ নেতা মানিক ও বাবুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাসে পেট্রল বোমা হামলা চালাতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে।

তাছাড়াও ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ অফিস থেকে ১০টি তাজা পেট্রল বোমা উদ্ধার করে পুলিশ।

অন্যদিকে ৫ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ফেসবুক পেজে নিজেরা বোমা হামলা চালিয়ে কিভাবে বিরোধী দলের উপর দায় চাপানো হয় তা উল্লেখ করে স্টেটাস দেয়া হয়।

এসব ঘটনা দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়েছে। অথচ দুঃখজনকভাবে মিথ্যা অভিযোগে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ক্রস ফায়ারের নামে হত্যা, নির্যাতন গ্রেফতার করলেও আওয়ামী বোমাবাজদের উল্লেখযোগ্য শাস্তির কোন ব্যবস্থা করেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এখন জনগণের সামনে এখন স্পষ্ট ও প্রমাণিত যে সরকারই পরিকল্পিতভাবে এসব নাশকতা ঘটাচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এমন কোন অপকর্ম ও ষড়যন্ত্র নেই যা তারা করেনি। এর আগেও তারা বিরোধী দলে থাকতে দিন দুপুরে বাসে আগুন লাগিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। এবার ক্ষমতা ধরে রাখতে সেই মানুষ পুড়িয়ে মারার মিশনেই নেমেছে তারা। এমনিতেই দলীয় সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে অব্যাহত গণহত্যা, খুন, গুম, হামলা, মামলা নির্যাতন অবিচার করে দেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের শত্রুতে পরিণত হয়েছে অবৈধ সরকার। তার উপর দলীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে নির্মমভাবে মানুষকে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা ও তা বিরোধী দলের উপর চাপিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। দেশের মানুষ আর কোন পোড়া দগ্ধ লাশ বহন করতে প্রস্তুত নয়।

অবিলম্বে এ বর্বরতা ও ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। গ্রেফতার আওয়ামী বোমাবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় জনতার হাত দুর্বল নয়। সরকারকে এভাবে পুড়িয়ে মারার কোন অধিকার জনগণ সরকারকে দেয়নি। যদি আওয়ামী বোমাবাজদের উপযুক্ত বিচার না করা হয়, তাহলে জনগণ জান-মাল রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে। যা অবৈধ সরকারের জন্য শুভ হবে না।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সরকারি পৃষ্টপোষকতায় পেট্রল বোমা হামলা ও নাশকতা বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

You Might Also Like