তিস্তায় একমত হলেও, সংলাপে ‘না’

তিস্তা সমস্যা সমাধানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আস্থাশীল হওয়ার পরামর্শ ও বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের জয়ের প্রশ্নে ঐকমত্য পোষণ করেছে দেশের চির প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রথমবারের মতো সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি। দুটি দলই মনে করে ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ যে অবস্থান করে নিয়েছে তাতে বিশ্বকাপে কাক্সিক্ষত বিজয় ছিনিয়ে আনা অসম্ভব কিছু নয়। আর মমতা ব্যানার্জির আশ্বাসে আস্থা রাখলে তিস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের চলমান বিরোধের নিষ্পত্তিও হতে পারে। তবে দেশের চলমান সহিংস অবস্থা থেকে উত্তরণে সংলাপ আয়োজনের প্রশ্নে দুই দলই বরাবরের মতোই বিপরীতমুখী অবস্থান ধরে রেখেছে।

শনিবার রাজধানীর বিয়াম অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ফারুক খান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান এসব কথা বলেন। ওয়ালিউর রহমান মিরাজের প্রযোজনায় এবং আকবর হোসেনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে অংশ নেন- সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন ও বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স ফর উইমেন লিডারশিপের নির্বাহী পরিচালক নাসিম ফিরদৌস। বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের বাইরে বিকল্প কোনো পথ আছে কিনা এবং সরকারের পক্ষে আগামী চার বছর সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ফারুক খান বলেন, বাংলাদেশে যা হচ্ছে তা কোনো রাজনীতি নয়। যারা আগুনে মানুষ পোড়ায় তারা কোনো রাজনীতি করে না। তাদের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে না। বিদেশিরা পরামর্শ দিতেই পারে। রাজনীতিতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়, তবে মানুষকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দাবি আদায় হয় না। তিনি বলেন, গত দেড় মাস আগের চেয়ে পরিস্থিতির অনেক উন্নয়ন ঘটছে। বিএনপি-জামায়াত তাদের অবরোধ-হরতাল তুলে নিলেই দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসবে।

মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ কঠিন সংকটে। গত বছর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়া হয়েছিল। সহিংসতা হচ্ছে, তবে বিএনপির আন্দোলন অহিংস। গণতন্ত্রের ভাষা সংলাপ। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলো অবশ্যই কাজে লাগবে। তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থায় খুব দ্রুত গতিতে ধস নামছে। তাই চার বছর কেন, এক সপ্তাহ, এক মাস টিকে থাকাও সরকারের জন্য কঠিন হবে।

এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিদেশি সহায়তায় কখনোই সংকট সমাধান হয়নি। রাজনৈতিকভাবেই হতে হবে। তিনি বলেন, একটি পারফেক্ট নির্বাচন হলেও আমাদের দেশে তিন বছর সরকারের জনপ্রিয়তা থাকে না। আর এখন যে সরকার এসেছে তা আইনগত বৈধ নয়।

নাসিম ফিরদৌস বলেন, বিকল্প একটাই, রাজনৈতিক দল দুটোর মধ্যে একটি সমঝোতা। এছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। এদিকে তিস্তা ইস্যু ও বিশ্বকাপ ক্রিকেট নিয়ে দারুণ আশাবাদী সবাই। ফারুক খান বলেন, আমি আস্থা রাখতে চাই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে নিশ্চয়ই আলোচনা করে এসেছেন। তাই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে বলে মনে করি। একই আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাহবুবুর রহমানও। তার মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশে এসে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাতে মনে হয় তার ওপর আস্থা রাখা যায়।

বিশ্বকাপ ক্রিকেট নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এ দুই নেতা। তারা মনে করেন, ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ যে অবস্থান ইতিমধ্যে করে নিয়েছে তাতে কাক্সিক্ষত বিজয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব হবে।

 

You Might Also Like