৪৮ দিনে কথিত বন্দুকযুদ্ধ ও সহিংসতায় নিহত শতাধিক

চলমান রাজনৈতিক সঙ্কটে কথিত বন্দুকযুদ্ধ ও সহিংসতায় শতাধিক লোক নিহত হয়েছে। ৬ জানুয়ারি থেকে টানা অবরোধ চলাকালে সহিংসতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে গত ৪৮ দিনে অন্তত ১০১ জন প্রাণ হারিয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারী শনিবার ভোররাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুজন নিহত হওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়াল। এই সময়ে এ নিয়ে বন্দুকযুদ্ধের নামে ৩০ জনকে হত্যা করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। তবে এ সময় বেশ কয়েকজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যা নিরাপত্তা বাহিনীর কাজ বলে অনেকে সন্দেহ করছেন। কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা আরো বেশি হবে বলে সাধারণ মানুষের ধারণা।

এ রকম ভয়ঙ্কর এক পরিবেশের মধ্যে আজ ৪৯তম দিনে গড়াল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বিরতিহীন অবরোধ। পাশাপাশি আজ থেকে আবার অষ্টম দফার হরতাল শুরু হয়েছে।

রাজনীতির দুর্বৃত্তপরায়ণতা আর নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচার হত্যাযজ্ঞের কাছে এখানে দুই বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৬০ বছরের বৃদ্ধা, ১৪ বছরের কিশোর থেকে শুরু করে ৩২ বছরের যুবক কেউ-ই যেন নিরাপদ নন।

৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে গত ৬ জানুয়ারি থেকে চলছে বিএনপি-জামায়াত জোটের অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি। সহিংসতার শুরু এর দুই দিন আগে থেকেই।bangladesh

আরোধ চলাকালে ভয়ংকর পেট্রোল বোমা হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন ৫৬ জন। এ সময় আহত হয়েছেন সহস্রাধিক। আগুন দেওয়া হয়েছে ৫৯৪টি যানবাহনে এবং ভাঙচুর করা হয়েছে ৫৭৯টি গাড়ি। এজন্য সরকার ও বিরোধী দল একে অপরকে দোষারোপ করছে।

অবরোধ চলাকালে প্রথম নির্মম ঘটনার সূত্রপাত হয় রংপুরের মিঠাপুকুরে। গত ১৩ জানুয়ারি ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মিঠাপুকুরে একটি বাসে আগুন দিলে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন পুড়ে মারা যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যান আরও দুজন।

একইভাবে ৩ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা ছুড়লে আটজন মারা যান। এরপর ৬ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একটি বাসে পেট্রোল বোমা হামলায় দগ্ধ হয়ে মারা যান আটজন।

অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা গেছেন ১১ জন। আর এ সময় সারা দেশে পেট্রোল বোমা হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন ৫৬ জন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন অন্তত ৫০ জন।

চলমান অবরোধ-হরতালে আগুনে পুড়ে যে ৫৬ জন মারা গেছেন, তারা সবাই সাধারণ মানুষ। এদের মধ্যে নয়টি শিশু ও সাতজন নারী। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই গাড়িচালক ও শ্রমজীবী মানুষ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চলন্ত অবস্থায় বাসে বা ট্রাকে পেট্রোল বোমা বা ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে ২০১৩ সালের রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণ হারান ৫০৭ জন। এর মধ্যে ১৯৬ জন সাধারণ মানুষ। ওই বছর ২২ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে মারা যান। সেটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের সবচেয়ে রাজনৈতিক সহিংসতার বছর।

অবরোধের মধ্যে কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে জনগণকে হত্যার ঘটনাও বেড়েছে। গত ৪৮ দিনে অন্তত ৩০টি ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন মাদ্রাসাছাত্র, বিএনপি-ছাত্রদল-যুবদল ও জামায়াত-শিবিরের নেতা। ক্রসফায়ারের প্রতিটি গল্প একই ধরনের। বাড়ি থেকে তুলে নিয়েও অনেককে হত্যা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারগুলো। বেশিরভাগ নিরাপত্তা হেফাজতে থাকাকালে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছেন।

You Might Also Like