‘নৌকা দিলাম, চলার মতো পানি দেন’

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে অচিরেই ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর চলতি মাসেই ভারতের লোকসভায় স্থল সীমান্ত চুক্তির (এলবিএ) অনুমোদন দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

উপহার হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নৌকা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মমতার হাতে এ নৌকা তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাকে বিচক্ষণ একটি কথা বলেছেন। নৌকা দিলাম, চলার মতো পানি এবার দিন।

শনিবার দুপুরে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। পরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী সাংবাদিকদের বৈঠকের বিষয় নিয়ে ব্রিফ করেন।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘বৈঠকে মমতা বলেছেন, আমি তিস্তার ব্যাপারটি জানি। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। বাংলাদেশ আমারও দেশ। আমরা পরস্পরের স্বার্থ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে থাকি এবং স্বার্থ সংরক্ষণের চেষ্টা করি।’

মমতা বলেন, ‘তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে অচিরেই ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়া হবে। চলতি মাসের ২৩ তারিখে ভারতের লোকসভার বাজেট অধিবেশনে তিস্তাসহ অন্যান্য বিষয় উপস্থাপন করা হবে।’

ইকবাল সোবহান চৌধুরী আরও বলেন, স্থল সীমান্ত চুক্তি (এলবিএ) প্রসঙ্গে ভারতের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, চলতি মাসের ২৩ তারিখে লোকসভার বাজেট সেশনে এটি পেশ করে পাশ করা হবে। তিনি (মমতা) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চুক্তিটি পাশের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। প্রধানমন্তী তাকে (মমতা) উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

মমতা বলেন, স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয়। এরপরও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এ বিষয়ে ভূমিকা নিয়েছেন। পার্লামেন্টে চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য বলেছেন। চলতি সেশনে চুক্তিটি বাস্তবায়ন হবে।

ছিটমহল প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘ছিটমহলের জনগণের দুর্ভোগের কথা আমি জানি। আমি সেখানে গিয়েছি। এ বিষয়ের প্রস্তাবনাগুলোও আগামী সেশনে উপস্থাপন করা হবে এবং পাশ করা হবে।

এর আগে, গণভবনে মধ্যাহ্ন ভোজেও অংশ নেন মমতা। বেলা সোয়া ২টার দিকে তিনি গণভবন থেকে বের হয়ে যান।

শনিবার একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার পর সেখানে প্রধানমন্ত্রী মমতার সঙ্গে কুশল বিনিময় হয়। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে মমতাও তার প্রতি আস্থা রাখতে বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, আমার দিক থেকে এলবিএর (স্থল সীমান্ত চুক্তি) প্রবলেম সলভ করে দিয়েছি। তিস্তায়ও আস্থা রাখুন।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে তিস্তা চুক্তি সইয়ের কথা থাকলেও মমতার আপত্তিতে তা আটকে যায়। স্থল সীমান্ত চুক্তি কার্যকরেও বিরোধিতা ছিল তার।

You Might Also Like