মুক্তধারা নিউইয়র্ক আয়োজিত একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন

বই মানুষকে আমৃত্যু প্রেরণা যোগায়। বই মানুষকে আলোকিত করে। অমর একুশ উপলক্ষে যে বইমেলা হয়ে আসছে, দেশে এবং প্রবাসে তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায়  নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে মুক্তধারা নিউইয়র্ক আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কবি সাজেদ কামাল উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।  আগামি ১ মার্চ পর্যন্ত নিউইয়র্কে এমেলা চলবে। জাতিসংঘ ও ইউনেস্কোর স্বীকৃতি লাভের পর বাঙালির অমর একুশে এবার আমেরিকার নিউইয়র্ক স্টেটে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার স্বীকৃতি অর্জন করেছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে  নিউইয়র্কের স্টেট গভর্নর এন্ড্রু এম কুমো আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্বীকৃতি প্রদান করেছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বস্টন থেকে আগত কবি সাজেদ কামাল বলেন, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে মুক্তধারা বহির্বিশ্বে একনাগাড়ে ২৫ বছর কাজ করছে। ১৯৯২ জাতিসংঘের সামনে শহীদ দিবস পালনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বলয়ে একুশকে তুলে ধরে। আর এবছর মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রস্তাবনায় নিউইয়র্কের গভর্ণর কুমো নিউইয়র্ক স্টেটে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করেছে। এটা খুব বড় একটা বিষয়। আমি ১৯৯১ সালে উডসাইডের একটি বাসা থেকে বই নিতে এসে মুক্তধারার সাথে পরিচিত হই। আজ মুক্তধারা যে কাজ করছে আমরা সকলে তা থেকে উপকৃত হচ্ছি, এজন্য মুক্তধারাকে ধন্যবাদ।

সন্ধ্যা  সাড়ে ৭টায় মুক্তধারায় লেখক-সাহিত্যিক-সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত অমুর একুশে গ্রন্থমেলা  ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন সাজেদ কামাল। এসময় মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিত সাহা অমর একুশে গ্রন্থমেলার পূর্বাপর উল্লেখ করে এবছর প্রকাশিত ৪০টি গ্রন্থ মেলায় স্থান পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন।  উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ‘একুশ ও নতুন বই’ শীর্ষক এক Muktadhara_2আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সম্পাদক-লেখক ফাহিম রেজা নূর এর সঞ্চালনে লেখক-কলামিস্ট হাসান ফেরদৌস, সাংবাদিক-লেখক দর্পন কবীর এবং সাজেদ কামাল বক্তব্য রাখেন। দর্পণ কবরি বলেন, নানান প্রতিকূলতার মাঝে মুক্তধারার এ প্রচেষ্টা  উল্লেখ করার মত, তাই আমি সবসময় এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। হাসান ফেরদৌস বলেন, বই বের হওযা এখন খুব সহজ। লেখার এত জায়গা এখন হয়েছে, কোন কিছু প্রকাশ করা এখন কোন বিষয়ই নয়। কিন্তু একটি বিষয়, লেখকদের সচেতন থাকা দরকার, তাহলো তিনি যা লিখছেন সেটি কি গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশের যোগ্য কি না, সেটা নিয়ে ভাবা। তিনি বলেন, অনেক লেখার পর নিজেকে তৈরী করেই গ্রন্থ প্রকাশের বিষয়ে ভাবা উচিত। হাসান ফেরদৌস বলেন, উত্তর আমেরিকায় বিশ্বজিত সাহা ও মুক্তধারা যে কাজ করছে আসুন আমরা সকলে মিলে তাকে সাধুবাদ জানাই।

উল্লেখ্য, ১৯৯২ সাল থেকে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে মুক্তধারা নিউইয়র্ক এবং বাঙালির চেতনা মঞ্চ যৌথ উদ্যোগে প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারির সূচনালগ্নে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করে চলেছে। ১৯৯২ সালে অমর একুশের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে জাতিসংঘ ও ইউনেস্কোর স্বীকৃতি অর্জনেও এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ২০১৪ সালে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিশ^জিত সাহা আমেরিকার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভের জন্য নিউইয়র্ক স্টেট সেনেটর হোজে পেরাল্টার কাছে প্রস্তাবনাটি পেশ করেন। নিউইয়র্ক স্টেট সেনেট আলবেনিতে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ প্রস্তাবটি পাশ করা হয় (রেজ্যুলেশন নং ৪৬৯)। এরপর গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ পাশকৃত প্রস্তাবনাটি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অনুষ্ঠানে স্বীকৃতি সনদটি হস্তান্তর করা হবে। মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হিসাবে উপস্থিত থাকার জন্য প্রবাসে অবস্থানরত সকল বাঙালিকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই উপলক্ষে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে দুই সপ্তাহব্যাপী একুশের গ্রন্থমেলা শুরু হয়েছে। কবি সাজেদ কামাল ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে অমর একুশে গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করেছেন। এসময় যুক্তরার্ষ্ট্রে বসবাসরত কবি সাজেদ কামাল, লেখক কলামিস্ট হাসান ফেরদৌস, নাসিমুন নাহার নিনি, ফাহিম রেজা নূর, সংস্কৃতি মুরাদ আকাশ, গোপাল সান্যালসহ সংস্কৃতি কর্মী কবি, লেখক, সাংবাদিক, সাহিত্যিকরা উপস্থিত ছিলেন। অমর একুশের গ্রন্থমেলায় বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত প্রায় ৪০টি নতুন বই প্রথমদিন প্রদর্শিত হয়।

You Might Also Like