মুসলিম ব্রাদারহুডের আবেদন : বিশ্বশক্তিগুলোর দায়িত্ব

মিসরের সবচেয়ে শক্তিশালী দল মুসলিম ব্রাদারহুড গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতির মাধ্যমে বিশ্বশক্তিগুলোকে মিসরের পতনশীল সামরিক শাসকদের সমর্থন না করার আবেদন জানিয়েছে।

বিবৃতিতে সব আরব দেশকে মিসরের সামরিক সরকার (coup regime) সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে অনুরোধ করা হয়েছে। বিভিন্ন অডিও রেকর্ড থেকে দেখা যায়, সামরিক শাসকেরা এতই জঘন্য যে, তারা প্রকাশ্যে শাসকদের তোষামোদ করে এবং গোপনে তাদের নিন্দাবাদ ও অপমান করে।

ব্রাদারহুড তাদের বিবৃতিতে যেসব দেশ ক্যু সরকারকে আর্থিক সাহায্য দিয়েছে, তাদের ওই অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছেÑ তা কি জনস্বার্থে ব্যয় হয়েছে, নাকি সামরিক শাসকদের গোপন হিসাবে পাচার হয়ে গেছে, তা দেখার জন্য অনুরোধ করেছে।

মিসরীয় পার্লামেন্ট, যা এখন ইস্তাম্বুল থেকে কাজ করছে, সব রাষ্ট্রকে ক্যু সরকারের সাথে সম্পর্ক না রাখার যে অনুরোধ করেছে, ব্রাদারহুড তা সমর্থন করেছে। পার্লামেন্ট বলেছে, ক্যু সরকারের সব কাজ মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে; ক্যু সরকারের সাথে করা কোনো চুক্তির কোনো বৈধতা থাকবে না।

মিসরীয় জনগণকে লক্ষ্য করে বিবৃতিতে বলা হয় যে, তাদের প্রতিবাদ, আন্দোলন ও শাহাদত ব্যর্থ হবে না। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, বিপ্লবের পথে আমরা চলতে থাকব। পশ্চাদপসরণ করব না। কোনো সমঝোতাও করব না, যতক্ষণ না সম্পূর্ণ সামরিক সরকার, তাদের দালালেরা উৎখাত হয় (সূত্র : ikhwanweb.com)।

এ বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের কী করা উচিত? অবশ্যই আরব দেশগুলোর উচিত মিসরের সামরিক সরকারকে সহযোগিতা না করা। তাদের কোনো ধরনের আর্থিক সাহায্য না দেয়া। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে উচিত হয়নি মিসরের ক্যু সরকারকে স্বীকৃতি দেয়া। যুক্তরাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে নীতিহীনতা দেখিয়েছে। তারা মিসরের ক্যুকে ক্যু বলতেও ব্যর্থ হয়েছে। তারা নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে সামরিক প্রধান কর্তৃক উৎখাতকে নিন্দা জানাতেও ব্যর্থ হয়েছে। একই কথা প্রযোজ্য যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের বেলায়ও। তারাও সামরিক কমান্ডার সিসির অবৈধ ক্ষমতা দখলকে নিন্দা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর কারণ প্রেসিডেন্ট মুরসি ছিলেন জাস্টিস ও ডেভেলপমেন্ট পার্টির পক্ষ থেকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এবং মুসলিম ব্রাদারহুড আন্দোলনের সিনিয়র কয়েকজন নেতার একজন। জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি একটি ইসলামভিত্তিক পার্টি। সুতরাং পাশ্চাত্য শক্তিগুলোর এ ক্ষেত্রে নীতিহীনতার কারণ তাদের ইসলাম বিদ্বেষ, যা অনেক সময় গোপন থাকে, তবে কোনো কোনো সময় প্রকাশ্য রূপ নেয়। এ ক্ষেত্রে তা-ই করেছে।

প্রেসিডেন্ট মুরসির অপসারণের পেছনে কিছু আরব ও কিছু পাশ্চাত্য শক্তি জড়িত। অথচ প্রেসিডেন্ট মুরসি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি তার সময়ে সংবিধান রচনা করেন এবং তা গণভোটে পাস হয়। তিনি নিজ দল ছাড়াও অন্যদের তার মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করেন। তার বিরুদ্ধে বলা হয় যে, তিনি আইন প্রণয়ন ক্ষমতা নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন। কিন্তু এ কথা সত্য নয়। প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে, মিসরের দলীয় আদালত পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছিল, তখন জরুরি আইন প্রণয়নের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। সে প্রেক্ষিতে মুরসি সাময়িকভাবে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা নিজের হাতে নেন। পরে আপত্তির মুখে তিনি তা ছেড়ে দেন।

মুসলিম বিশ্বে ইসলামি গণতান্ত্রিক শক্তি যাতে ক্ষমতায় না আসতে পারে, তার বিরুদ্ধে অনেকে রয়েছে। আলজেরিয়া ও মিসরে তা-ই হয়েছে।

সর্বশেষ আমি মুসলিম ব্রাদারহুডের বিবৃতির প্রতি সব নীতিবান শক্তির দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

লেখক : সাবেক সচিব, বাংলাদেশ সরকার

You Might Also Like