বাংলাদেশের চলমান সংকট নিরসন, বিচার বহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন বন্ধের দাবী প্রবাসী আলেমদের

মমিনুল ইসলাম মজুমদার : বাংলাদেশের চলমান সংকট নিরসন, বিচার বহির্ভূত হত্যা, গুম, খুন, জুলুম নির্যাতন ও সর্হিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করে জনজীবনে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি দাবী জানিয়েছে নিউইয়র্কের আলেম ও ইমাম সমাজ।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারী শনিবার জামাইকায় হাজী ক্যাম্ম মসজিদে নিউ ইর্য়কের সর্বস্তরের আলেম-ইমাম ও তৌহিদী জনতার প্রতিবাদ সভায় বক্তারা এ দাবী জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মাওলানা মুহিব্বুর রহমান।

বক্তারা বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড এবং পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ হত্যার নিন্দা জানিয়ে বলেন,এগুলো কোনো সভ্য দেশের কালচার হতে পারে না। ক্ষমতার দ্বন্দ্বে এভাবে সাধারণ জনগণকে আর কত জীবন দিতে হবে।

প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের অশালীন ও আক্রমন মূলক বক্তব্যের তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে ওলামায়ে কেরাম বলেন, দেশের গণতন্ত্রের মুখ থুবড়ে পড়েছে নির্দ্বিধায় বলা চলে। গণতন্ত্র সংহত করতে যে যে উপকরণ রয়েছে তা বর্তমান alem_1বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত। দেশ ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে রাজনৈতিক দলগুলোকে অবিলম্বে সংলাপে বসে সমস্যার সমাধান করা বর্তমান সময়ের দাবী। বক্তারা আরো বলেন, বিচার বহির্ভূত কোন হত্যাকে সভ্য সমাজ সমর্থন করতে পারে না। তা পেট্রোল বোমা, ত্রুসফায়ার আর বন্দুকযুদ্ধ যা হোক না কেন। দেশের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, বিরোধীদলকে ঢাকা, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মিছিল মিটিং ও  সমাবেশ করতে দিলে হয়ত: দেশে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরকারই দায়ী। সরকার নিজের দুর্বলতাকে ঢাকতে আলেম ওলামাসহ বিরোধী মতের লোকদের উপর নির্যাতনের পথকে বেছে নিয়েছে।

ওলামায়ে কেরাম বলেন, সম্প্রতি বর্তমান সরকারের পরিকল্পিত বেপরোয়া ত্রাসের নীতি পূর্বের সকল স্বৈরশাসনকে হার মানিয়েছে।এই ফ্যাসিবাদী অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনকে সর্বস্তরের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন মনে করে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে। এটা একজন সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। এখন আমাদের বসে থাকার সময় নেই। জন্মভূমির টানে সবাইকে ইসলাম ও মুসলমানদের স্বার্থে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আওয়াজ তুলতে হবে।

ওলামায়ে কেরাম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে এবাদতরত ও ঘুমান্ত আলেমদের ওপর শেষরাতে পৈশাচিক অভিযান ছিল পরিকল্পিত। সরকারের মনে দুর্বিসন্ধি ছিল। হেফাজতের কর্মীরা যদি সমাবেশ করে সরকারের পতন ঘটাতো তাহলে কেন মতিঝিল শাপলা চত্বরে সমাবেশের অনুমতি দিল। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল সারা দেশের আলেমদেরকে ঢাকায় এনে হত্যা করার।

তারা সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, অবৈধ এ সরকার দেশ চালাতে সম্পন্নভাবে ব্যক্ত। সম্প্রতি সিলেট ওসমানী মেডিকেলে ১০ জন শিশুসহ ৩২ জন লোক মারা যাওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। এমন একটা ঘটনায় সরকারের কোন মাথা ব্যথা নেই। যে সরকার একটা হাসপাতাল সামাল দিতে পারে না তাদেরকে ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার রাখে না। দেশের সিংহভাগ মানুষের দাবীর প্রতি সম্মান জানিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে অবিলম্বে পদত্যাগ করে জাতিসংঘ অথবা সেনাবাহিনীর অধিনে সাধারণ নির্বাচন দেওয়ার জোর দাবী জানান।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে আগামী দিনের কিছু কর্মসূচী ঘোষণা করে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন অধ্যাপক মাওলানা মুহিব্বুর রহমান। নিউ ইর্য়কে প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক মিডিয়ার কর্মীদের নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন, জাতিসংঘ ও ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের সামনে সমাবেশ ও স্বারকলিপি প্রদান ছাড়াও দেশের শান্তি কামনায় মসজিদে মসজিদে কুরআন শরীফ ও বোখারী শরীফ খতম করে দোয়া প্রদানের কর্মসুচী ঘোষণা করেন।

You Might Also Like