সরকারের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট বাস মালিকরা

রাতে দূরপাল্লার বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে বাস মালিক পক্ষ অসন্তুষ্ট। কারণ এ সিদ্ধান্তে দিনেও কমে গেছে বাসযাত্রী। আর সন্ধ্যার পরতো রাজধানীর আন্তঃবাস টার্মিনালগুলো অনেকটাই জনশূন্য হয়ে যায়। অপরদিকে রাত ৯টার পর দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে অনেক যাত্রী।

অবরোধ ও হরতালের নিরাপত্তার কারণে সরকারের এমন সিদ্ধান্তে বাস মালিকদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। আর সেই লোকসান প্রতিদিন গড়ে ২০ কোটি টাকা বলে বাস মালিক সমিতি নেতাদের দাবি। রাতের চেয়ে দিনের যাত্রী কম হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন বাস স্টেশন থেকে দূরপাল্লার বাস চলছে সীমিত পরিসরে। তবে পুলিশের নিষেধাজ্ঞার কারণে যাত্রী কম নিয়েই দিনের বেলায় ছেড়ে গেছে দূরপাল্লার বাস। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নয় বাস মালিকরা।

গত সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সেখানে মহাসড়কে যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাস ও যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সাময়িকের জন্য রাত ৯টায় পর থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে মহাসড়কের কিছু ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করার পর শিগগিরিই তা আবার ২৪ ঘণ্টা চলাচল করতে পারবে বলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তখন জানান।

এর আগে দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে রাত ৯টার পর থেকে দূরপাল্লার বাস না চালাতে মালিক সমিতির প্রতি অনুরোধ করেন পুলিশের আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক। একইসঙ্গে হরতাল-অবরোধে দিনে গাড়ি চালানোরও আহ্বান জানান আইজিপি।

এরপরই গত রোববার রাজধানীর বিভিন্ন কাউন্টারে গিয়ে রাতে বাস না ছাড়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ। নিদের্শনা না মেনে রাতে বাস চালালে নাশকতার কোনো দায়ভার নেয়া হবে না বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে দিনে যাত্রী না থাকায় রাতেই বাস চালানোয় আগ্রহী পরিবহন মালিকরা। তাই পুলিশের নির্দেশনা মানতে রাজি নয় মালিকরা। তবু বাধ্য হয়ে অনেক কম যাত্রী নিয়ে চলতে হচ্ছে দূরপাল্লার বাস।

মহাখালী বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বাংলামেইলকে বলেন, ‘সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে রাতের তুলনায় দিনে যাত্রী কিছুটা কম পাওয়া যাচ্ছে।’ আগের তুলানায় ৩০ শতাংশ গাড়ি চলাচল করছে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে শ্যামলী পরিবহনের মালিক রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘রাতে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকায় দিনের বেলাও যাত্রী অনেকটা কমে গেছে। সরকার নিরাপত্তার কথা বলে রাতে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু আমরা রাতেই বাস চালাতে চাই।’

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘একজন যাত্রী দিনের কাজ শেষ করে রাতেই তারা বাড়িতে ফিরতে চায়। অনেক যাত্রী যাতায়াত করতে আগ্রহীও। যদি সরকার তাদের নিরাপত্তা জোরদার করে তাহলে অনেকেই রাতে যাতায়াত করবে। যদি নাশকাতার ভয় থাকে তাহলে তো পণ্যবাহী ট্রাকেও নাশকতা হতে পারে। এছাড়া রাতের যাত্রীদের দিনে যাতায়াতের অভ্যস্ত করা কঠিন।’

তিনি আরো বলেন, ‘দিনেরবেলায় তেমন যাত্রী না থাকায় অনেক বাস বসিয়ে রাখতে হয়েছে। ৫৭ সিটের বাসে এখন ২২ থেকে ২৩ জন যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। আগে যেখানে অবরোধ-হরতালের মধ্যেও ৫০০ থেকে ৬০০ গাড়ি চলতো এখন সেখানে ১০০ থেকে ২০০টি গাড়ি চলছে। তাই কম যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করার কারণে ড্রাইভার ও হেলপারের বেতন দেয়াই মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।’

এ ব্যাপারে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘বাসে পেট্রোলবোমা, অগ্নিসংযোগে নিরাপত্তার জন্য সরকার সাময়িক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হরতাল-অবরোধে কেটে গেলে আবার আগের মতোই বাস চলাচল করবে।’

তবে রাজধানীর সায়দাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী বাস ঘুরে দেখা যায়, গত মঙ্গলবার বাস স্টেশনগুলোতে যাত্রী সংখ্যা অনেকটা কম। রাজধানীর মহাখালী বাস স্টেশন থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের উদ্দেশে এক থেকে দেড়শো গাড়ি ছেড়ে গেছে বলে মহাখালী বাস টার্মিনাল সূত্র জানায়।

You Might Also Like