‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছাত্রদল নেতাসহ নিহত ৩

২০ দলীয় জোটের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ও ৭২ ঘণ্টার হরতাল চলাকালে সোমবার ভোরে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধ’সহ পৃথক ঘটনায় এক ছাত্রদল নেতাসহ ৩

জন নিহত হয়েছেন।

এদের মধ্যে একজন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত রাসেল আক্তার (২৫)।

ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ গুলিবিদ্ধ অপর এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে। আর কুমিল্লায় ছাত্রদল নেতা সোহেলকে তার বাড়ি থেকে সাদা পোশাকের লোকজন ধরে নিয়ে হত্যা করেছে বলে নিহতের পরিবার দাবি করেছে।

জানা গেছে, যাত্রাবাড়ী থানার মাতুয়াইল মাদ্রাসা বাজার এলাকায়  সোমবার ভোরে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রাসেল আক্তার নিহত হন। যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবনী শঙ্কর কর এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন বলেন, সকাল ছয়টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে এক যুবক নিহত হয়। পরে পুলিশ ওই যুবকের লাশ উদ্ধারের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে আকাশ নামের এক ব্যক্তি নিহতের লাশটি তার ছোট ভাই রাসেলের বলে শনাক্ত করেন। তার বাবার নাম আবদুর রব। বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া এলাকায় তাদের বাড়ি। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ভবেরবাজারে তারা থাকেন।

শীর্ষ নিউজকে তিনি জানান, ফতুল্লায় বৈশাখী মোবাইল সেন্টার নামে তাদের একটি মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান রয়েছে। রাসেল সেই দোকানে কাজ করতো। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তার কাছ থেকে ২০ টাকা নিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল।

এর আগে একই এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জামায়াত-শিবিরের ২ কর্মী নিহত হয়। যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গত ২৩ জানুয়ারি রাতে বাসে পেট্রলবোমা হামলার ঘটনা ঘটে।

গ্লোরি পরিবহনের ওই বাসে পেট্রলবোমা হামলায় ২৮ যাত্রী দগ্ধ হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান।

এছাড়া, রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার কালশী ইসিবি চত্বর থেকে সোমবার সকালে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মাথাসহ শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে বলে মর্গ সূত্র জানিয়েছে।

ক্যান্টনমেন্ট থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম শীর্ষ নিউজকে জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কালশী ইসিবি চত্বরে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশ সেখান থেকে সকাল পৌনে সাতটার দিকে লাশটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। দুপুর ১টা পর্যন্ত নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

অপরদিকে সোমবার সকালে কুমিল্লার দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশ অজ্ঞাতনামা এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

খবর পেয়ে নিহতের পরিবার মর্গে গিয়ে লাশটি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রদল নেতা সোহেলের বলে দাবি করেন।

নিহতের পরিবার আরো জানায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় সাদা পোশাকের ১০-১২জন লোক বাড়ি থেকে  সোহেলকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। আজ সোমবার সকালে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশ হাসানপুর কলেজের সামনে থেকে সোহেলের লাশ উদ্ধার করে।

নিহত সোহেলের বাবার নাম বাবুল মিয়া। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর গ্রামে তাদের বাড়ি বলে জানা গেছে। তার হাত-পা বেঁধে দাউদকান্দি এলাকায় রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। পরে ট্রাকচাপায় তিনি মারা যান বলে নিহতের পরিবার দাবি করছেন। নিহত সোহেলের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে বলে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ দাবি করছে।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল্লাহ শীর্ষ নিউজকে জানান, হাসানপুর রাস্তার পাশে এক যুবকের লাশ পড়ে ছিল। খবর পেয়ে সেখান থেকে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়।

পরে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় যুবকটি নিহত হয়েছে বলে শুনেছি।

You Might Also Like