দুই নেত্রীকে সংলাপে বসানোর উদ্যোগ ষড়যন্ত্র: দাবি হানিফের

প্রধান দুই দলের শীর্ষ দুই নেত্রীকে সংলাপে বসাতে বুদ্ধিজীবীদের উদ্যোগকে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।

তিনি সোমবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন।

হানিফ বলেন, ‘কতিপয় বুদ্ধিজীবী সংকট সমাধানে দুই নেত্রীকে সংলাপে বসার আহ্বান জানাচ্ছেন। কিন্তু তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের জন্য কোনো চাপ সৃষ্টি করছেন না।’

তিনি বলেন, ‘তাদের এই উদ্যোগ প্রকারান্তরে দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসীদের অপকর্মে উৎসাহিত করার শামিল। এর মাধ্যমে তারা গভীর ষড়যন্ত্র করছেন।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘সবকিছুর আগে আমাদের নির্ধারণ করতে হবে কী বিষয়ে আমরা সংলাপে বসব। বিএনপি প্রথমে ঢাকায় সমাবেশ করার দাবিতে অবরোধ ডাকল, পরে তারা সংলাপের কথা বলল।’

তিনি জানান, ‘এরপর তাদের দলের এক নেতা বললেন- সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। আসলে কী নিয়ে সংলাপ করব, তা নির্ধারণ করতে হবে।’

হানিফ বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা সারাদেশে সহিংসতার দায় স্বীকার করছে না। তারা যদি দায় স্বীকার করে, তবে এটার সমাধানে তাদের দাবি মানা যেতে পারে। কিন্তু যদি নাশকতা তারা না করে থাকে, তবে তাদের সঙ্গে কি নিয়ে আলোচনা করব?’

এ সময় তিনি বলেন, ‘এই নাশকতার দায় তারা যদি না স্বীকার করে তবে স্পষ্ট বলে দিক তারা করছে না। দেখেন আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব বন্ধ করতে পারি কি না?’

আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা মনে করি, সারাদেশে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছে, তা মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করা সম্ভব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেটা করার জন্য বদ্ধপরিকর।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যে দলের ৩০ শতাংশেরও বেশি সমর্থন আছে তারা যদি জঙ্গি কার্যক্রমে অংশ নেয়, তবে তাদের দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটু সময় লাগবে। এটা ২৪ ঘণ্টায় সম্ভব হবে না। কিন্তু দুর্বৃত্তদের দমনে ২৪ ঘণ্টায় যথেষ্ট।’

হানিফ দাবি করেন, ‘সহিংসতা এখন অনেক কমে গেছে। আশা করি আগামীতে এটা শেষ হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ পুড়িয়ে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে দাবি আদায় করা যায় না। বিএনপি নেত্রী যদি এটা করতেই থাকেন এবং দাবি আদায়ে সফল হন। তবে এটা একটা বাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত যদি নাশকতা বন্ধ করে তাহলে কথা দিচ্ছি আমরা পরবর্তীতে সমাধানের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’

তবে কি ধরনের পদক্ষেপ এমন পশ্নে তিনি বলেন, ‘পরবর্তী কি পদক্ষেপ নেওয়া হবে সেটা সময়ই বলে দেবে। সব কিছু আগে বললে ক্যামনে হয়?’

জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ড. আব্দুর রাজ্জাক, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ।

You Might Also Like