খালেদা জিয়ার সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্যরা উদ্বিগ্ন

গত বুধবার বেলা ১২টায় গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সহায়তায় কয়েকশ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছিলেন। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিটিতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সহায়তা করছিলেন। কিন্তু তারপরও কার্যালয়ের ভিতরে থাকা খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় নিয়োজিত চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সের (সিএসএফ) সদস্যরা যারপর নাই উদ্বিগ্ন ছিলেন। বাইরে কী হচ্ছে, কারা কী করছে-তা বারবার মূল ফটকের ভিতর থেকে পর্যবেক্ষণ করেন তারা। এভাবে ভিতরে থাকা বিএনপির নেতা-নেত্রী ও স্টাফরা প্রতিনিয়ত উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সময় কাটান।

এভাবে প্রায় প্রতিদিনই কার্যালয়ের মূল ফটকের বাইরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ব্যানারে অবস্থান-মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। গুলশান-২ এ গোলচত্বরেও প্রায় প্রতিদিনই অবরোধবিরোধী সভাসমাবেশ করছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিভিন্ন সংগঠন। কয়েকদিন ধরে গুলশান কার্যালয়ের সামনে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাও ঘটেছে। কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। একজনকে অস্ত্রসহ অবস্থান নিতেও দেখা গেছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে কার্যালয়ের সামনে থেকে সরিয়ে দিয়েছেন।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, তারা গুলশান কার্যালয়ের সামনে নিয়মিত নিরাপত্তা দিচ্ছেন। সেখানে কাউকেই কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে দেওয়া হচ্ছে না। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কী করছেন, কেমন আছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী? গুলশান অফিসে থেকেই ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর লাশ গ্রহণ করতে হয়েছে তাকে। গত কয়েকদিন ধরে গুলশান অফিসসহ আশপাশের এলাকায় মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, ফ্যাক্সও বিচ্ছিন্ন। কেন্দ্রীয় কিংবা তৃণমূলের সঙ্গেও তার যোগাযোগ এখন অনেকটাই সীমিত। অবশ্য জ্যামারের আওতামুক্ত থাকায় টেলিটক সিম ব্যবহার করা যাচ্ছে।

বিএনপির সিনিয়র নেতারা বলছেন, গুলশান কার্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে তারা বেশ উদ্বিগ্ন। অরক্ষিত গুলশান কার্যালয়। দিনের পর দিন সেখানে মানববন্ধন ও সভাসমাবেশ করা হচ্ছে। কিন্তু পুলিশ তাদের কিছু করছে না। অন্যদিকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের দেখামাত্রই গ্রেফতার করা হচ্ছে।

জানা যায়, বেশ কয়েকদিন অবরুদ্ধ থাকলেও এখন পুলিশি নিষেধাজ্ঞা নেই বেগম জিয়ার। তারপরও বাসায় যাচ্ছেন না তিনি। সরকার সব দলের অংশগ্রহণে একটি নতুন নির্বাচনের জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করলেই গুলশান কার্যালয় ত্যাগ করবেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। অন্যথায় গুলশান অফিস ছাড়বেন না তিনি। গুলশানে বসেই হরতাল-অবরোধের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

ঘনিষ্ঠজনদের বেগম জিয়া জানিয়েছেন, গ্রেফতারেও আতঙ্কিত নন তিনি। গুলশান অফিসে অর্ধশত নেতা-নেত্রী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তায় নিয়োজিত সিএসএফ সদস্যদের নিয়েই অবস্থান করছেন খালেদা জিয়া। তাদের সবার খাওয়া-ধাওয়া, গোসল ও ঘুম সেখানেই। নিচতলায় সারিবদ্ধভাবে বিছানা করে রাত্রিযাপন করছেন অফিস স্টাফ ও সিএসএফ সদস্যরা। বিএনপি চেয়ারপারসনের খাবার আসে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার ও তার বড় ছেলে তারেক রহমানের শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানুর বাসা থেকে। মাঝে মধ্যে বেগম জিয়ার গুলশানের বাসা থেকেও খাবার আসে। আশপাশে থাকা দলীয় নেতাদের বাসা থেকেও খাবার পাঠানো হয়। বেগম জিয়ার জন্য কিছু খাবার রেখে অবশিষ্ট খাবার নেতা-নেত্রী ও স্টাফরা ভাগাভাগি করে খান।

জানা যায়, বেগম জিয়া ভোরে ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামাজ আদায় করেন। এরপর কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে সকালে পত্রিকা পড়েন। এরপর সামান্য নাস্তা খান তিনি। ডিস লাইন বিচ্ছিন্ন থাকায় পত্রিকা পড়ে ও রেডিওতে বিবিসির সংবাদ শুনেই দেশের খবর জানেন তিনি। তাছাড়া বাইরে থেকে নানাভাবে নেতা-নেত্রীদের কাছে আসা নানা তথ্যও তাকে জানানো হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। সেখানে প্রতিনিয়ত সভাসমাবেশ হচ্ছে। যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তখন এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। এদিকে, নির্বির্ঘ্নে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিতে গুলশান কার্যালয়ের সামনে গতকালও মানববন্ধন করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বাংলাদেশ প্রতিদিন

You Might Also Like