ভারতের পররাষ্ট্র ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে

মোদী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর গত ছয় মাসে রাষ্ট্রদূত পর্যায়েও কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে পরিবর্তনের প্রস্তাব করে ফাইল পাঠানো হয়েছিল কিন্তু মোদী তাতে অনুমোদন দেননি। নরেন্দ্র মোদী চাইছিলেন সবার আগে একদম ঘরের ভেতর থেকে অর্থাৎ মন্ত্রণালয় থেকেই পরিবর্তনের সূচনা করতে। এরপর রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার পর্যায়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ খবর দিয়েছে ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া।

টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে জয়শঙ্করের নিয়োগের মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে দ্রুত নতুন পরিবর্তনের সূচনা ঘটিয়েছে। সুজাতাকে সরিয়ে দেয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এবং রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে পরিবর্তন শুরু হবে।

এদিকে টাইমস অব ইন্ডিয়া শুক্রবার  আর  একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সুজাতাকে সরিয়ে দেয়ার নেপথ্য কারণ উল্লেখ করে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিং এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ কারোার সাথেই প্রধানমন্ত্রী কার্যালেয়র অর্থপূর্ণ কোন যোগাযোগ ছিলনা। যদিও সুজাতা সিং এবং সুষমা স্বরাজের মধ্যে ভাল সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সাথে এভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে শীতল সম্পর্কসহ আরো বিভিন্ন কারনে সুজাতার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন মোদী।

অপরদিকে আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে সুজাতাকে সরিয়ে দেয়ায় বেশ চটেছেন সুষমা স্বরাজ। তিনি খুবই ক্ষুব্ধ। এমনকি বৃহষ্পতিবার দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনী জনসভাও তিনি বাতিল করেছেন। আনন্দবাজার পত্রিকা আরো উল্লেখ করেছেন অতীতে মোদী বিরোধী হিসেবে সুজাতার রেকর্ড রয়েছে। তবে স্বরাজ এখন চেষ্টা করে যাচ্ছেন মোদী বিরোধী আদভানীসহ অন্য কারোর সাথে যোগাযোগ না রাখতে।

সুতরাং মোদীর সাথে সুষমা স্বরাজেরও যে সম্পর্ক খুব একটা ভাল যাচ্ছেনা তা পরিষ্কার।

এদিকে ওবামার সফরের একদিনের মাথায় সুজাতাকে অসম্মানজনকভাবে বরখাস্ত করায় বাংলাদেশের বিভিন্ন মহল থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরনের দিনও ফুরিয়ে এসেছে। তাকেও যেকোন সময় সরিয়ে নেয়া হলে তাতে অবাক হবার কিছু থাকবেনা। কারন মোদী বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে যে পরিবর্তন আনবেন তা অনেকটা পরিষ্কার। এ ক্ষেত্রে পরিবর্তনের তালিকায় বাংলাদেশও উঠে আসবে অতীত বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারনে এমনটাই আশা অনেকের।

সুজাতাকে অপসারনের মধ্য দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দ্রুত পরিবর্তনের সূচনা হবে বলে আশা করা হয়েছে ভারতের গণমাধ্যমসহ কূটনৈতিক মহল থেকে। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের যেকোন ধরনের পরিবর্তন বৈদেশিক সম্পর্কের ওপরও যে প্রভাব ফেলবে এবং নতুন মাত্রা পাবে তা অনেকটা স্পষ্ট।

ভারতের ফরেন সার্ভিসের ক্ষেত্রে ভবিষ্যত আরো অলদ বদলের ফলে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কাজে যেমন গতি আসবে তেমনি পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও নতুন সরকারের আশা আকঙ্খা অনুযায়ী পরিবর্তন আসবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। টাইমস অব ইন্ডিয়ার শুক্রবারের খবর অনুযায়ী ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী আসতে চেয়েছিলেন ভারতে। মোদীও তার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু একটি রাষ্ট্রপ্রধানের কোন দেশের ভ্রমনের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যে প্রাথমিক যোগাযোগ, সাড়া দেয়া এবং গ্রাউন্ডওয়ার্ক করতে হয় তা করা হয়নি। ফলে বাতিল হয়ে যায় এ সফর। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে সুজাতার বিরুদ্ধে যে, তিনি এ বিষয়ে আন্তরিক ছিলেননা এবং তেমন কোন সাড়া দেননি।

ভারতের একটি পত্রিকার খবরে মন্তব্য করা হয়েছে যেখানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে পররাষ্ট্রসচিবের কথাবার্তা নেই সেখানে বৈদেশিক সম্পর্ক গতি লাভ করবে কিভাবে। এবার মোদী তার পছন্দের মানুষকে এ পদে নিয়োগ দেয়ায় বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গতিশীলতা আসবে বলে অনেকে মনে করেন।

সুজাতা বরখাস্তের খবর

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিংকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভারত সফরের একদিনের মাথায় আকস্মিকভাবে সরিয়ে দেয়া হল তাকে। সুজাতা সিংয়ের স্থলে নতুন পররাষ্ট্রসচিব নিয়োগ দেয়া হয়েছে সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্করকে। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বুধবার (২৮/০১/২০১৫) রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রীসভার নিয়োগ বিষয়ক কমিটিতে সুজাতা সিংকে অপসারনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকের পর এক বিবৃতির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেয়া হয় । তবে অপসারনের কোন কারণ ব্যখ্যা করা হয়নি সরকারের পক্ষ থেকে। টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমসহ ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে গতকাল এ বিষয়ক খবর প্রচারিত হয়েছে।

সদ্য বিদায়ী কংগ্রেস সরকার নিয়োগ দিয়েছিল সুজাতা সিংকে। মেয়াদ পূরনের আট মাস আগেই সরিয়ে দেয়া হল সুজাতাকে। অপরদিকে বারাক ওবামার সফরের মাত্র একদিনের মাথায় আকস্মিক এ বরখাস্ত নিয়ে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানাভাবে বিশ্লেষন করা হচ্ছে । কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে ।

সুজাতা সিং বাংলাদেশেও একজন বিতর্কিত এবং পরিচিত মুখ । গত ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশে বিতর্কিত নির্বাচনের আগে ঢাকা সফর করে একতরফ নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ এবং জাতীয় পার্টিকে এ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন তিনি। ভারতের খুবই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এবং সর্বোচ্চ এ কূটনীতিক পদের কর্মকর্তা সুজাতার আকস্মিক অপসারনের বিষয়টি শুধু ভারত নয় বাংলাদেশেও আলোচিত হচ্ছে।

ভারতের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী নরেন্দ্র মোদী বেশ আগে থেকেই সুজাতার অপসারন চাচ্ছিলেন। নানা কারনে তিনি তার ওপর নাখোঁস ছিলেন। শেষের কয়েক মাস প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার কোন যোগাযোগই ছিলনা। বারাক ওবামার ভারত সফরের ক্ষেত্রে সুজাতাকে কোন দায়িত্বই পালন করতে দেয়া হয়নি। ভারতের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী সুজাতা সিং কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। কংগ্রেস সরকার নিয়োগপ্রাপ্ত সুজাতার ওপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নানা কারনে অসন্তুষ্ট থাকলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ অনেকটা তার পক্ষে ছিলেন। সে কারনেই সরকার পরিবর্তন হলেও স্পর্শকাতর এ পদে এতদিন বহাল ছিলেন তিনি।

সুব্রামানিয়ামকে নতুন পররাষ্ট্রসচিব নিয়োগ দেয়া বিষয়ে ভারতের গণমাধ্যমে বলা হয়েছে গত সেপ্টেম্বরে নরেন্দ্র মোদীর ভারত সফর এবং সর্বশেষ বারাক ওবামার সফল ভারত সফরের ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেন তিনি। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে বারাক ওবামাকে প্রধান অতিথি করার একান্ত ইচ্ছা ছিল নরেন্দ্র মোদীর। মোদীর সে স্বপ্ন সফল করার ক্ষেত্রে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে তিনি মার্কিন কর্তৃপক্ষের সাথে সফল আলোচনার মাধ্যমে ওবামাকে রাজি করাতে ভূমিকা পালন করেন। তাছাড়া মোদীর মার্কিন সফরের ক্ষেত্রেও তার ভূমিকার কারনে তার ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন মোদী। ওবামার ভারত সফরে ভারত-মার্কিন ঐতিহাসিক পারমানবিক চুক্তির দরকষাকষি টিমের অন্যতম সদস্য ছিলেন জয়শঙ্কর। সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্করের আরেকটি পরিচয় হল তিনি ভারতের প্রখ্যাত নিরাপত্তা বিশ্লেষক কে সুবামানিয়ামের ছেলে।

সুজাতা সিং বাংলাদেশে বিতর্কিত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের অল্প আগে ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর দুই দিনের সফরে ঢাকা আসেন। এসময় তিনি অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাথে বৈঠক করেন এবং একতরফা নির্বাচনে অংশ গ্রহনের জন্য তার ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। এরশাদ সংবাদ সম্মেলন করে তার ওপর চাপ প্রয়োগের কথা সবাইকে জানিয়ে দেন। এরশাদ জানান, সুজাতা সিং তাকে অনুরোধ করেছেন জাতীয় পার্টি যেন নির্বাচনে অংশ নেয়। তা নাহলে জামায়াত-শিবিরসহ উগ্র মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর উত্থান ঘটবে বাংলাদেশে। তারা বাংলাদেশের ক্ষমতা গ্রহণ করবে। এরশাদ বলেন, আমার কাছে সুজাতা সিং জানতে চেয়েছেন আমি সেটা চাই কি-না। জবাবে আমি বলেছি ‘দেশের এখন যে অবস্থা তাতে নির্বাচন করা সম্ভব হবে না, নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। সারাদেশে, গ্রামে-গঞ্জে সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা সবাই নিরাপত্তাহীনতায়, আমার দলের নেতা ও প্রার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, কেউ নির্বাচনি এলাকায় যেতে পারছি না।’ তখন সুজাতা সিং আমাকে বলেছেন ‘কেন, এই সরকার তো ভালো কাজ করেছে, আপনি থাকুন’।

সাংবাদিকদের এরশাদ বলেন, আমি তাকে বলেছি-আপনি রাস্তায় গিয়ে একশজন মানুষকে জিজ্ঞাসা করুন, কেউ এ সরকারের পক্ষে বলবে না, তারা সবাইকে শত্রু বানিয়ে ফেলেছে। তাদের বাক্সে কোনো ভোট পড়বে না।

এরশাদের এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পরিস্কার হয়ে যায় সুজাতা সিংয়ের তখনকার ঢাকা সফরের উদ্দেশ্য এবং একতরফা নির্বাচনে কংগ্রেস সরকারের প্রকাশ্য অবস্থানের কথা। একজন কূটনীতিক হিসেবে তার এ জাতীয় দূতিয়ালি এবং বিতর্কিত ভূমিকা দারুনভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয় কূটনৈতিকসহ বিভিন্ন মহলে। বাংলাদেশে তখনকার সংঘাতপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার এ সফর দেশের রাজনৈতিক গতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে মনে করা হয়।

অবশ্য সুজাতা সিং পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভারত চায় নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক দল অংশগ্রহণ করুক।

ভারতের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী ২০১৩ সালেই জয়শঙ্করের পররাষ্ট্রসচিব হওয়ার কথা ছিল। তখনকার প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের পছন্দের তালিকায় ছিলেন জয়শঙ্কর। কিন্তু কংগ্রেস প্রধান সোনিয়া গান্ধীর পছন্দে সুজাতা সিং তখন এ পদে দায়িত্ব পান। আগামী আগস্ট মাসে সুজাতার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু আট মাস আগে এবং বারাক ওবামার সফরের একদিনের মাথায় আকস্মিকভাবে তাকে বরখাস্ত করায় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে। সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী কংগ্রেস নেতা মনিশ তেওয়ারী প্রশ্ন তুলেছেন ওবামার সফরের একদিন পরেই কেন তাকে বরখাস্ত করা হল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন দেবযানী ইস্যুতে ভারতের পক্ষে শক্ত অবস্থানের প্রতিশোধ হিসেবেই কি তাকে সরিয়ে দেয়া হল?

তবে বিজেপি মুখপাত্র নলিন সুজাতাকে অপসারন নিয়ে বিতর্ক নাকচ করে দিয়েছেন।

সুজাতা সিংয়ের পিতা টিভি রাজেশ্বর ভারতের পুলিশ অফিসার হিসেবে গোয়েন্দা সংস্থা তথা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ এবং সিকিমের গর্ভনরও ছিলেন কংগ্রেস নেতা হিসেবে। তিনিও সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

সুজাতা হলেন ভারতের দ্বিতীয় পররাষ্ট্রসচিব যাকে মেয়াদ পূর্ণ হবার আগেই আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করা হল। ১৯৮৭ সালে রাজিব গান্ধী এপ ভেঙ্কটেশ্বরনকে একই কায়দায় অপসারন করেছিলেন।

পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত জয়শঙ্কর ইতোমধ্যে ঝানু কূটনীতিক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। পররাষ্ট্র ক্ষেত্রে তার রয়েছে ৩৬ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ১৯৭৭ সালে ভারতের ফরেন সার্ভিসের মাধ্যমে চাকরি জীবন শুরু করেন তিনি। ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চীনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভারতীয় কোন কূটনীতিক হিসেবে তিনিই সবচেয়ে বেশি সময় চীনে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পান এবং অত্যন্ত সফলতার সাথে এ দায়িত্ব পালনের পুরস্কার হিসেবেই তাকে সচিবের দায়িত্ব দেয়া হল। ৬০ বছর বয়সী জয়শঙ্কর অবসরের মাত্র দুই দিন আগে পররাষ্ট্রসচিবের দায়িত্ব পেলেন। চীন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও তিনি সিঙ্গাপুর, জাপান এবং চেক প্রজাতন্ত্রে কূটনীতিকের দায়িত্ব পালন করেন। আগামী দুই বছর তার এ দায়িত্ব পালনের কথা রয়েছে।

জয়শঙ্করের জন্ম নয়াদিল্লী। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে তিনি জওয়াহারলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেন। দায়িত্ব গ্রহনের পর তিনি বলেন, সরকারের কাছে যা গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছেও তা গুরুত্বপূর্ণ ।

 

 

You Might Also Like